সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রিমান্ডে থাকা আসামির ‘ক্রসফায়ার’: দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

13487461_888432041286642_180084173_nনিউজ ডেস্ক:
মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর সারাদেশে বিতর্কের ঝড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, গণমাধ্যমকর্মী, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ নানান মন্তব্য করেছেন এ ঘটনা নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে তুমুল সমালোচনা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মাদ ফেসবুকে লিখেছেন, এই আশংকাটাই করছিলাম। শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলাকারী ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে খুন করা হলো। এখন আর কোনো প্রমাণ নেই সুতরাং নানা কাহিনী চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। কেউ ধরা না পড়লে যথারীতি অনেক গল্প শুনতাম, কিন্তু গোল বাঁধিয়েছে এলাকার মানুষ ফাহিমকে হাতে নাতে ধরে। পুরোটা না পারলেও ফাহিম কিছুটা সূত্র দিতে পারতো নিশ্চয়ই।

ফেসবুকে সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা লিখেছেন, রাজনৈতিক বক্তৃতায় যে কাউকে অভিযুক্ত করা যায়। নিজেরা ধরতে পারি না, জনগণ ধরে দেয়। তাদের ক্রসফায়ারে বা বন্দুক যুদ্ধে হত্যা করা হয়। এমন একটি হত্যাকাণ্ড যে ঘটতে যাচ্ছে, অভিযানের ধরণে তা প্রত্যাশিতই ছিল।

তিনি আরো লিখেছেন- কারা জঙ্গি, কারা তৈরি করে, কারা পৃষ্টপোষক, কারা জঙ্গি-গুপ্তহত্যা টিকিয়ে রেখে সুবিধা পেতে চায় -সব প্রশ্নের উত্তর আছে এই একটি হত্যাকাণ্ডে মধ্যে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সভাপতি সুলতানা কামাল বলেছেন, রাষ্ট্র কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। ‘সুশাসনের অভাব থাকলে পদে পদে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটতে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার বিকালে প্রকাশ করা এই পোস্টে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার লিখেছেন, একদিকে সরকার নিজ দলীয় সিরিয়াল খুনিদের ফাঁসিসহ সকল সাজা মওকূফ করে দিয়ে জেল থেকে মুক্ত করছে। অন্যদিকে জনতার হাতে ধরা পরা টার্গেট কিলারদের খুন করে সব প্রমাণ আড়াল করছে! তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এর নাম কি ন্যায়বিচার? এটাই কি ৩০ লাখ মানুষের রক্তে অর্জিত আমার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।

কোনো খুনি কিংবা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ আত্মত্যাগ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে খুনি কিংবা নিপীড়ক রাষ্ট্র নয়। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে পরিস্কারভাবেই ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন আসে ঠিক কি কারণে তাহলে এমন অপরাধীকে হত্যা করা হলো? কাকে আড়াল করতে এই হত্যাকাণ্ড?”

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের আসল ঘটনা আড়াল করতেই মাদারীপুরের কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে থাকা গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার তাকে (ফাহিম) ক্রসফায়ারে হত্যা করল, হত্যা করা মানে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা। আমরা আগেই বলেছি প্রতিটি সন্ত্রাসের সঙ্গে রাষ্ট্রের একটা সম্পর্ক আছে। আমাদের দলের চেয়ারপারসন বলেছেন উগ্রবাদী চক্রের সঙ্গে সরকার জড়িত।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাতে নাতে ধরা পড়া গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করার উদ্দেশ্য কী? তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার নিকট থেকে তথ্য উদ্ধার করে তার সাথে থাকা অন্যদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত ছিল।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সে বেঁচে থাকলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার আশংকায়ই কি তাকে গুলি করে হত্যা করা হলো? এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেশবাসী জানতে চায়।

ফাহিমের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। শনিবার সকালে নিজের ফেসবুকে ‘বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না?’ শিরোনামে লেখা ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, ”যেখানে এই আক্রমণের হাত থেকে আস্তিক নাস্তিক, সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু, নারী পুরুষ, সিভিলিয়ান পুলিশ কেউই ছাড় পাচ্ছিলো না, যেখানে এটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেছিলো এবং আমরা কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের আলামত দেখছিলাম না, সেখানে মাদারীপুরের মানুষ এক আসামী হাতে নাতে ধরে ফেলার পর আশা করছিলাম ভেতরের কলকাঠির সুলুক সন্ধান করা হবে। সেই স্থলে এই বন্দুকযুদ্ধের কি মানে?”
সাংবাদিক ফজলুল বারী ফেসবুকে লিখেছেন, “আমাদের ভালো ইচ্ছাগুলোকে করে দেওয়া হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ! মাদারীপুরে ধরা ফাহিম ছেলেটির রিপোর্টে পড়ছিলাম তাকে নিয়ে নানা জায়গায় অপারেশনে গিয়ে পুলিশ সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাচ্ছিল না! আদালতে বিচারককে সে চিৎকার করে বলে এই ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত না। স্থানীয় এক নেতা তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। সাধারণত কোনও জঙ্গে এভাবে কোর্টে বলে না। কিন্তু পুলিশ তাকে মেরে ফেললো ক্রসফায়ারে? স্থানীয় যে নেতার কথা ফাহিম বলেছিল, সে কি পুলিশের জন্য বিব্রতকর ছিল?”

প্রসঙ্গত, গুপ্তহত্যায় জড়িতরা যখন ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাদের আটক তো দূরের কথা শনাক্ত করতেই পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে, তখন মাদারীপুরে শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় হাতেনাতে আটক হন ফয়জুল্লাহ ফাহিম। আশা করা হচ্ছিল, এবার ‘টার্গেট কিলিং’য়ের হোতাদের একটা সূত্র পাওয়া যেতে পারে ফাহিমের মাধ্যমে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাহিমকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু পুলিশি হেফাজতের প্রথম দিনেই ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেলেন ফাহিম।

গত শুক্রবার পুলিশ ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাদারীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ড চায়। শুনানি শেষে বিচারক মো. সাইদুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: