সর্বশেষ আপডেট : ৫০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ার ২০ হাজার গাছ কাটার সিদ্ধান্ত!

lowwachora daily sylhetমো. মোস্তাফিজুর রহমান::

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে নির্বিঘ্নে ট্রেন চলাচলের জন্য ও দুর্ঘটনা এড়াতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সংরতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেললাইনের দুই পাশের প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চিঠি দিয়ে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরণ বিভাগকে। এ নিয়ে দুই পরে মধ্যে চলছে ঠান্ডা লড়াই। বন বিভাগ বলছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সরকারঘোষিত সংরতি এলাকা এবং এই বনাঞ্চল থেকে সব ধরনের গাছ কাটা ও অপসারণ নিষিদ্ধ থাকায় রেলওয়ে কোন ভাবেই গাছ কাটতে পারবে না আর রেলওয়ে বিভাগ বলছে তারা গাছ কাটবেই। এদিকে সংরক্ষিত বনের প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটা পড়লে হুমকীর মুখে পড়বে বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানটি ১৬৭ প্রজাতির বৃ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ীসহ অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল। সরকার ১৯৯৬ সালে এই বনকে সংরক্ষিত বনাঞ্জল হিসাবে ঘোষনা করে তার রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সহব্যবস্থাপনা কমিটি করে বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করছে। হঠাৎ করে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ মো. আরমান হোসেন স্বারিত একটি পত্র পেয়েছে বনবিভাগ। পত্রে বলা হয়েছে , ঢাকা-সিলেট রেললাইনের শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনের ২৯৩/১ থেকে ২৯৮/১ কিলোমিটারের পাহাড়ি এলাকায় ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে ও ভেঙে রেললাইনের ওপর পড়ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ও যাত্রীসাধারণের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঝড়ে ৩০-৩৫টি গাছ রেললাইনের ওপর ভেঙে পড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এ ছাড়া চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রাতে ঝড়ে আরও ৩০টির মতো গাছ রেললাইনের ওপর পড়ে। এতে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের একটি হেডলাইট ভেঙে যায় ও ট্রেনটি আটকা পড়ে।

এ অবস্থায় উদ্যান এলাকার রেললাইনের উভয় পাশের ন্যুনতম ৫০ ফুট পর্যন্ত গাছ কাটতে হবে। নইলে পরবর্তী সময়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ‘দ্য রেলওয়েজ অ্যাক্ট, ১৮৯০’-এর ১২৮ ধারা মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রেলওয়ের চিঠির জবাব দিয়েছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দে। তিনি ১২ মে তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, লাউয়াছড়া বনের শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনের রেললাইনের ২৯৩/১ থেকে ২৯৮/১—এই পাঁচ কিলোমিটারের উভয় পাশে ৫০ ফুট এলাকার মধ্যে জরিপে দেখা গেছে, এখানে পাঁচ বছর থেকে শতবর্ষী ও তার অধিক বয়সী ২৫ হাজারের বেশি গাছ আছে। এ ছাড়া এই এলাকার প্রতি বর্গমিটারে আছে ২০টি করে চারাগাছ ও অন্যান্য লতাপাতা-ঝোপঝাড়। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য বন্য প্রাণী বাস করে। এসব গাছ কাটা হলে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এই চিঠির পর ১৮ মে রেলওয়ে থেকে বন কর্মকর্তাকে পুনরায় চিঠি দিয়ে বলা হয়, রেলপথের উভয় পাশের গাছপালা কাটার অনুরোধ জানানো হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে গাছগুলো না কাটলে রেলওয়ে আইন অনুযায়ী রেল কর্তৃপ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত রেলওয়ের প থেকে গাছ কাটার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে রেল বিভাগ গাছ কাটতে প্রত্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বনাঞ্জলের গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বলেন, বনের ভেতর দিয়ে রেললাইন থাকলে কিছু ঝুঁকি থাকবে। ঝুঁকি এড়ানোর জন্য রেললাইন শিফট করতে হবে। রেললাইনের পাশে বিপুলসংখ্যক ভালো গাছ আছে। এসব গাছ কাটা হলে পরিবেশ, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্রের তি হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় চিঠির জবাব এখনো দেওয়া হয়নি। সরকারি গাছ চাইলেই কাটা যাবে না।
অপর দিকে বনবিভাগ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগ সংরতি জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়ার গাছ কাটা নিয়ে চিঠি চলাচালি খবরে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা। তারা যে কোন উপায়ে লাউয়াছড়াকে রা করতে প্রস্তুৃত বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সম্পাদক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন। তিনি বলেন, এত বিশাল গাছ কাটা হবে বণ্যপ্রানী আবাস্থল নষ্ট হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: