সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে ধোপাজান নদীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজী

1436865091আল-হেলাল::সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীতে মামলা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না চাঁদাবাজী। ফলে প্রতিনিয়ত এ নদীর উপর দিয়ে বালি পাথর বহন ও সরবরাহকারী নৌকা কার্গো বলগেড আটক করে ব্যাবসায়ী মালিক শ্রমিকদেরকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজরা। কোন কোন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় প্রায় ১০টি মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করা থেকে রহস্যজনক কারনে নীরবতা পালন করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নামে বিএনপি নেতা ফারুক আহমদ লীলুর নেতৃত্বাধীন ৪০ জনের একটি সিন্ডিকেট,ভূমি মন্ত্রণালয়ের নামে বর্তমান ইজারাদার তোফাজ্জুল হোসেন ও তার বাহিনী কর্তৃক রয়েলিটি ও টুল আদায়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার তেঘরিয়া আরপিননগর আবাসিক এলাকার চাঁদাবাজরা নদীতে চাঁদা আদায় করছে।

পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে শহরের চাঁদাবাজরা আটক হলেও গ্রামের চাঁদাবাজদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে পুলিশ। বিশেষ করে ইব্রাহিমপুর গ্রামের চাঁদাবাজরা সব সময়ই ধরাছোয়ার বাইরে থাকে। ব্যাবসায়ীরা জানান,ইব্রাহিমপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মরম আলীর পুত্র মিশু,আব্দুল্লাহর পুত্র আব্দুর রহমান,মৃত আফতাব উদ্দিনের পুত্র মুরছালীন,মৃত নওশাদ মিয়ার পুত্র মনির,সামসু মিয়ার পুত্র জুয়েল, রিয়াজ আলীর পুত্র আশিক মিয়া,সমসুন নূরের পুত্র নেহার উদ্দিন,মৃত সমরাজ আলীর পুত্র রফিক উদ্দিন,শফিক উদ্দিন,মৃত বুদাই মিয়ার পুত্র ফকির,মৃত রহিম বাবুর্চির পুত্র মিজান,মৃত নূর উদ্দিনের পুত্র আলাউর রহমান,সেরুল মিয়ার পুত্র তানভীর,নুরুল আমিনের পুত্র সুজাউদ্দিন,রেজা উদ্দিন,ময়না মিয়ার পুত্র সোহাগ,ইব্রাহিমপুর পূর্ব পাড়ার মৃত মঙ্গল মিয়ার পুত্র চপল মিয়া প্রমুখ চাঁদাবাজরা নদীতে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদাবাজরা ব্যবহার করছে আজম খান চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেট,বিআইডব্লিউটি,চলতি নদী,উজানভাটি ও সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের নাম।

কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ধোপাজান নদী বালি পাথর মহাল কাউকে লীজ দেয়াতো দূরের কথা তাদের লীজদানের কোন এখতিয়ার নেই বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। ইব্রাহিমপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা সেরুল মিয়া জানান,চাঁদাবাজী ও মাদক বিক্রি এগুলো কারো জন্য মঙ্গলজনক হতে পারেনা। চাঁদাবাজদের গডফাদাররা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে। আমরা শুধু চাঁদাবাজ নয় বরং যারা চাঁদা আদায় করাচ্ছে সেসব গডফাদারদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

চাঁদা আদায়কারী আব্দুর রহমান জানান,আমরা মিশু মিজান ও নেহার উদ্দিনের নির্দেশে টাকা উঠাই। তারা এগুলো কিভাবে কাকে দেয় আর ভাগ ভাটোয়ারা করে তা আমরা জানিনা। জানা যায়, চাঁদাবাজদের ব্যবহৃত নৌকা গত কয়েকদিন আগে পুলিশ আটক করে। পরে তেঘরিয়া ফেরীঘাটের এল্পুর মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা নিয়ে আটককৃত নৌকা ছেড়ে দেয় পুলিশ। ধোপাজান নদীর ইজারাদারের ব্যাবসায়ী পার্টনার মিনার উদ্দিন বলেন, জিনারপুর,সদরগড়,অক্ষয়নগর ও ইব্রাহিমপুর এবং তেঘরিয়া আরপিননগর এলাকার প্রায় ১০০ যুবক প্রতিদিন নদীতে ব্যাবসায়ীদেরকে নানাভাবে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে। অথচ এসব চাঁদাবাজদের নদীতে টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে আইনগত কোন বৈধতা নাই। এছাড়াও চিহ্নিত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকার পরও রহস্যজনক কারনে পুলিশ তাদের আটক করছেনা। বালু পাথর ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকরা এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: