সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নায়কের ক্রাইসিসে ভুগেছি : পল্লবি চট্টোপাধ্যায়

lokjnনিউজ ডেস্ক : টলিউড অভিনেতা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের বোন তিনি, কিন্ত দাদার রিকমেনডেশনের সুযোগ কখনো নেননি। স্ট্রাগল করাই তাঁর জীবনের প্রিন্সিপাল। স্ট্রাগল করেই জীবনে সাফল্যকে ধরে রেখেছেন। তিনি টলিউড অভিনেত্রী পল্লবি চট্টোপাধ্যায়।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন, কেরিয়ার নিয়ে অনেক অজানা কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। পল্লবি বলেন, ‘লাইফ ইজ আ জার্নি। অভিনয় আমার প্যাশন। তবে অভিনয় জগতে এখনো অনেক ইচ্ছেপূরণ বাকি রয়ে গেছে।’ তাই এখনো জীবনে ঝক্কি ও ঝুঁকি নিতে তৈরি তিনি। বললেন, ‘জীবনে অনেক বাধা বিঘ্ন পেরিয়েছি। কখনো হাল ছাড়িনি।’

নিজের জীবনের অতীত দিনকে স্মরণ করতে গিয়ে পল্লবি বলেলেন, ‘একটা সময় দু-আড়াই বছর আমি প্রায় রাস্তায় ছিলাম বলতে পারেন। মেজেনাইন ফ্লোরের ঘরেও থেকেছি। বাড়ি বিক্রি করে দেনা মিটিয়েছি। সেই সময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে যাত্রা জগতেও যোগ দিয়েছি। রাত বিরেতে পাগলের মতো চলতে গিয়ে বহুবার গাড়ি দুর্ঘটনার পড়েছি। কিন্ত মনে মনে দৃঢ় সংকল্প ছিল, আমাকে সারভাইভ করতেই হবে। তাই সবরকমের কাজ করেছি। এমনকি কলকাতার রাস্তায় ট্যক্সিও চালিয়েছি। গান করেছি। শো করেছি। মাচা শো করেও দিন কাটিয়েছি। আজ সেই ফেলে আসা দিনের কথা ভাবলে শিউরে উঠি। এমনকি রিসর্ট ব্যাংকোয়েট ম্যানেজার হিসবেও কাজ করেছি। রান্নাও করেছি। কোনো কাজকেই ছোট বলে মনে করিনি। তবে এত স্ট্রাগল করেও সিনেমা থেকে বেরিয়ে যাব মনে হয়নি কখনো । মনে মনে জেদ ধরেছিলাম, মরে যাব তাও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমি টিকে থাকবই। কোনোদিন কলকাতা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবিনি। কারণ, এই কলকাতা আমাকে সব কিছুই দিয়েছে।’

জীবনে এত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়েও কোনোদিন দাদা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের সাহায্য চাননি তিনি। পল্লবি বললেন, ‘দাদার রিকমেনডেশনের সুযোগ নেইনি কোনোদিন। হয়তো সেটা নিলে নিজের কাছেই ছোট হয়ে যেতাম। আসলে আমার দাদা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ও নিজে জীবনে প্রচুর স্ট্রাগল করেছেন। ওর তো কারো রিকমেনডেশন নেওয়ার জায়গাই ছিল না। কোনোদিন নেনওনি। প্রচুর স্ট্রাগল করেছেন দাদা। আসলে এটাই আমাদের দুই ভাইবোনের প্রিন্সিপাল। যা কিছু করব নিজের চেষ্টায় করব।’

জীবনটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন বলেই পল্লবি আজ হাসিমুখেই বলতে পারেন, ‘জীবনটাই চ্যালেঞ্জ। কোনো কাজ হাত দিয়ে অসমাপ্ত রাখিনি। ওপরওয়ালা আমাকে কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ দিয়েছেন। তবে এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসে দেখেছি, অভিনেত্রীদের কেরিয়ারের স্প্যান খুব শর্ট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বহু অভিনেত্রীর বয়েস কালের শেষের দিকটা মর্মান্তিক হয়। একটু কাজ দেবে, একটু কাজ দেবে বলে পরিচালক-প্রযোজকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়। তাইতো প্রোডাকশনের কাজটাও শিখে নিয়েছি।’

অভিনয় ছাড়া নিজের ব্যক্তি জীবন, নিজের সংসার নিয়েও কোনো আক্ষেপ নেই পল্লবির। রাখঢাক না করেই বলে দিলেন, ‘আমি ভাগ্য বিশ্বাস করি। তাই হয়তো আমি সংসারী হয়েও সংসার করা হয়ে উঠল না আমার। এটাই আমার ভাগ্য। আমি সিম্পল লিভিংয়ে বিশ্বাস করি। যখন যা জোটে নুন-ভাত, ডাল-ভাত খেয়েও শান্তিতে থাকতে চাই। যতটা নিজের আছে তার মধ্যে দিয়েই চলার চেষ্টা করি। বাড়তি ভাব দেখানোর ব্যাপারটা আমার মধ্যে নেই। আজও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি না। আমি মনে করি, চা খেতে চাইলে কিনে খাওয়াই ভালো, চা বাগান কেনার দরকার নেই।’

প্রসেনজিতের বোন হওয়ায় কিছু অসুবিধাও তাঁর জীবনে রয়ে গেছে। হাসতে হাসতে বললেন, ‘কোনোদিন দাদা আমার নায়ক হবে না। এ ছাড়া আমি আমার কম বয়সে যখন অভিনয় করেছি, সেই সময় নায়কের ক্রাইসিসে ভুগেছি। দাদা আমার নানক হয়নি। চিরঞ্জিত দার (অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) কাছে আমি বরাবরই পুচকি। তাপসদা (অভিনেতা তাপস পাল) তখন ছিল গুডি গুডি টাইপের অভিনেতা। ফলে আমার ভাগ্যে ছিল একমাত্র অভিষেক।’ জীবন সংগ্রামের এতটা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এসে আজও থামতে চান না পল্লবি। বললেন, ‘এখনো ভালো চরিত্র পেলে নিশ্চয়ই অভিনয় করতে চাই।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: