সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘হাসপাতালে’ মায়ের জন্য ইফতারি পাঠাতে চায় মাহির

full_94305034_1466236501নিউজ ডেস্ক:: চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আক্তার মাহমুদ মাহির। বাবা বাবুল আক্তার প্রাণপণে আগলে রাখছেন মাহির আর তাবাচ্ছুমকে। ওরা যেন কিছুতেই বুঝতে না পারে, মা নেই। কিন্তু বাবুল আক্তার নিজে তো জানেন, মিতু নেই।

মায়ের জন্য ইফতারি-
রমজান মাসে ইফতারির জন্য যখন বাসার সবাই বসে, তখন মাহির আর তাবাচ্ছুম ‘হাসপাতালে’ মায়ের জন্য ইফতারি পাঠাতে চায়। কারণ, মা যে হাসপাতালে না খেয়ে আছে। ইফতার খাবে মা। তখন বাসার কারো কিছু বলার থাকে না। বাবুল আক্তার মাথা নিচু করে বলেন, ‘তোমরা খাও বাবা, মাকে ইফতারি পাঠানো হয়েছে।’

শিশু মাহির জানে, তার মাকে ওরা গুলি করেছে। ছুরি মেরেছে। এরপর মাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মা এখনো হাসপাতালেই আছে। কিন্তু মাহির অস্থির হয়ে উঠেছে—মা কেন ফিরছে না! তাকে কেন মায়ের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কথায় কথায় রেগে উঠছে মাহির। বাবুল আক্তার বিস্মিত হচ্ছেন, এই মাহিরকে তিনি আগে কখনো দেখেননি। মাহির খুব শান্ত ছেলে। রেগেমেগে অস্থির হয়ে মাহির কেঁদে ফেলে। আড়ালে গিয়ে লুকায়। অন্যরাও তখন কান্না সামলাতে পারে না।

মাহিরকে স্কুলে দিতে যাওয়ার পথেই নিহত হন মা মাহমুদা খানম মিতু। মাহিরকে বলা হয়েছে, মা আছে হাসপাতালে। সে বারবার ছুটে ছুটে যেতে চায়।

হাতের লেখা খুব ভালো মাহিরের। হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। ওই দিন তার পুরস্কার নিতে যাওয়ার কথা ছিল। সেই ৫ জুন সকালেই মা মিতু দুর্বৃত্তের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। মায়ের লাশের সঙ্গে মাহিরকেও রওনা হতে হয় ঢাকায়। গাড়িতে মাহির তার আন্টিকে বলে, ‘আন্টি, আজ না আমাকে পুরস্কার দেবে?’ আন্টি মুনমুন আলমও (পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসিনের স্ত্রী) সন্তানের মা। তিনি উত্তর দিতে গিয়ে কান্না লুকান। তার মুখ বুজে আসে। একসঙ্গে কত গল্প করেছেন তারা। তখন মাহির আর সায়েম হয় ভিডিও গেমস খেলত, নয়তো ক্রিকেট।

মুনমুন আলমের ছেলে শাহরিয়ার মাহমুদ সায়েম তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। আর মাহির পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। দুজনের খুব ভাব। মাহির চকোলেট পছন্দ করে বলে সায়েম প্রায়ই চকোলেট নিয়ে যেত বন্ধুর জন্য। মুনমুন বলেন, ‘মা ছাড়া মাহিরের কিছুই চলে না। মাহির মা ছাড়া কিছুই বোঝে না। মাহিরের বোনটি তো আরো ছোট। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না কী হবে।’

মাহিরই প্রথম দৌড়ে বাসায় গিয়ে দারোয়ানকে বলেছিল, মা, গুলি। অন্যরা দৌড়ে যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, ততক্ষণে মিতু নিষ্প্রাণ। সেদিন ছিল রোববার। বাবা ফিরেছিলেন ঢাকা থেকে। বাবার সঙ্গে মাহিরের দেখা হলো। তখন মাহির মা হারা। ছোট বোন তাবাচ্ছুম আর মাহির ছাড়তে চাইছে না বাবাকে।

মাকে বলেছিল মাহির, ‘বড় হয়ে বিজ্ঞানী হব। এ জন্য তার কিছু বই আর যন্ত্রপাতি দরকার।’ তাই বাবুল আক্তার ছেলেকে নিয়ে গত শনিবার বের হন নিউ মার্কেটে যাবেন বলে। প্রথমে নিয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বোনের বাসায়। একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছেও নিয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু মাহির কোনোভাবেই ডাক্তারের কাছে যাবে না। শেষে নিউ মার্কেটও যাওয়া হয়নি।

মায়ের অনুপস্থিতিতে মাহির ঘুমাতে যায় এখন বাবার সঙ্গে। বাবুল আক্তার ছেলেকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করেন। মাহির বাবার সঙ্গে মাঝরাতে উঠে নামাজও পড়ে। দুহাত তুলে মোনাজাত করে। বিড় বিড় করে কিছু একটা বলে কিন্তু ভালো করে বোঝা যায় না।

মা নেই বাসায়। মন ভালো নেই মাহিরের। ভিডিও গেম দিয়ে বা কার্টুন দেখিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছে স্বজনরা। তার জন্য তিনটি খরগোশও কেনা হয়েছে। সে খরগোশ পছন্দ করে। নানা বাড়িতে খরগোশ তিনটিই এখন তার খেলার সঙ্গী।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: