সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

১ লাখ আলেমের ফতোয়া: জঙ্গিবাদীরা বেহেশতের গন্ধও পাবে না

full_332099056_1466239012নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের এক লাখ আলেম, মুফতি ও ইমামের সই করা ৩২ পৃষ্ঠার বিশেষ ফতোয়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা নামের একটি সংগঠন। শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ফতোয়া প্রকাশ করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা চেয়ারম্যান ও দেশের বৃহত্তর ঈদগাহ শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

সংগঠনটির দাবি, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রকাশ করা হয়েছে ওই ফতোয়া। ফতোয়ার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তারা বেহেশত তো দূরে থাক, বেহেশতের গন্ধও পাবে না। কারণ, ইসলামে কোনো বৃদ্ধ, নারী, শিশু, ধর্মীয় গুরু এবং অমুসলিম, অর্থাৎ, যারা যুদ্ধের আওতায় নয়, তাদের হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলামে আত্মঘাতী হামলা বৈধ নয়। আত্মঘাতীর জানাজা পড়াও ইসলামে বৈধ নয়।

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, গত ৩ জানুয়ারি থেকে আলেমদের স্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়। গত ৩১ মে শেষ হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে পুলিশ সদর দপ্তরে ধর্মীয় নেতাদের একটি সভা হয়। ওই সভায় এ স্বাক্ষর গ্রহণের প্রস্তাব তুলে ধরার পর তা সভায় সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। এরপর এ বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তারা সারা দেশের আলেমদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে।

সংবাদ সম্মেলনে খতিব বলেন, ‘ফতোয়ায় কি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ঠেকানো যাবে? এ প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, অস্ত্রের চেয়ে ফতোয়ার শক্তি অনেক ধারালো। মনঃ চেতনা মানবকর্মের মূল উৎস। সঠিক ফতোয়া সেই মনঃ চেতনাকে শুদ্ধ করে আলোড়িত করে।’

স্বাক্ষর অভিযান সংগ্রহে নামতে গিয়ে তিন শ্রেণি থেকে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। বাধাদানকারীরা হচ্ছে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী, জঙ্গি হামলার শিকার হওয়ার আতঙ্কে দস্তখত না করা এক শ্রেণি ও আরেকটি হচ্ছে হিংসুক শ্রেণি। এ ছাড়া অনেক স্থানে বিরূপ সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের।

কিন্তু মানবকল্যাণ ও শান্তির জন্য এ ফতোয়া প্রচারে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ফরীদ উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের দেশে কত আলেম আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই। তারপরও ধারণা করা হয়, ১৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা, পাঁচ হাজার আলিয়া মাদ্রাসা, এক লাখ মসজিদের ইমামসহ পাঁচ লাখের মতো আলেম থাকতে পারে। তাদের মধ্যে থেকে প্রসিদ্ধ আলেমদের কাছ থেকে এই স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।’

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দাবি করেন, জঙ্গিবাদী ছাড়া বাকি সব আলেমের প্রতিনিধিত্ব করছে জমিয়তুল উলামা। ফতোয়া কার্যকরের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফতোয়া হচ্ছে এ-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত। তারা এটা কার্যকর করার অধিকার রাখেন না। তারা কেবল বার্তাবাহক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: