সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিক্ষক হত্যাচেষ্টা মামলা, ফাহিমকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

full_367076238_1466139639নিউজ ডেস্ক: মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার পর জনতার হাতে আটক গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে ওই মামলায় আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি জিয়াউল মোরশেদ জানান।

শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফাহিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও পাঁচজনের নাম বলেছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আজই আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানাব।

ওসি বলছেন, ফাহিম নিষিদ্ধ কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের ধারণা হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগের দিনই জানিয়েছিলেন, হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে ফাহিমের সংশ্লিষ্টতা তারা খতিয়ে দেখছেন।

গত বুধবার বিকালে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে জঙ্গি কায়দায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে তিন যুবক।

তারা শহরের কলেজ গেইট এলাকায় রিপনের বাসার কড়া নেড়ে ঘরে ঢোকে এবং এরপর চাপাতি দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে বলে পুলিশের তথ্য।

রিপনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে ফাহিমকে আটক করে। আহত শিক্ষককে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন এস আই আইয়ুব আলী। তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন একই থানার এসআই বারেক করিম হাওলাদার।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান বাদী।

এই ছয়জন হলেন- ঘটনাস্থল থেকে আটক গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম, সালমান তাসকিন, শাহরিয়ার হাসান, জাহিন, রায়হান ও মেজবাহ।

ফাহিমই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাকিদের নাম বলেছে জানিয়ে ওসি বলেন, “দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে মাদারীপুরে প্রথম হামলা চালায় তারা।”

১৮ বছরের ফাহিম উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে রসায়ন বিজ্ঞানের পরীক্ষা না দিয়েই সে ১১ জুন সকালে ঢাকার দক্ষিণ খানের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।

একদিন পর ফাহিম তার বাবার মোবাইল ফোনে এসএমএস করে বলে, “বিদেশ চলে গেলাম, এছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বেঁচে থাকলে আবারও দেখা হবে।”

বিষয়টি জানিয়ে ফাহিমের বাবা গোলাম ফারুক দক্ষিণ খান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বুধবার মাদারীপুরে ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পান তিনি।

মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার বরিশালের হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর জবানবন্দি শোনেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তারা কথা বলেন।

পরে পরিদর্শক কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, “গভীরভাবে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই ফলাফল পাওয়া যাবে।”

‘তদন্তের স্বার্থে’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি না হলেও গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে ফাহিমের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন তারা।

“কলেজের এক বড় ভাই তাকে ওই পথে এনেছে। ঢাকার ওই কলেজের সামনে এক লাইব্রেরিতে প্রায়ই তারা বৈঠক করত। ঘটনার দিনই ফাহিম মাদারীপুরে আসে এবং শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে অনুসরণ শুরু করে।”

মাদারীপুরের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর উপর যেভাবে হামলা হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় হামলায় গত এক বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, অধ্যাপক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু পুরোহিত-যাজক-ভিক্ষুরা খুন হয়েছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: