সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘একটি মানব শিশু, একটি কবর আর ময়লার গল্প’

5নিউজ ডেস্ক: ইফতারি করবো বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, অজু করবো এমন সময় মা বললেন বাসার সামনে কেউ একটা বাচ্চা ফেলে দিয়ে গেছে। কোথায় ইফতারি আর কোথায় কি !!!

দৌড়ে নিচে নেমে গেলাম, আশে-পাসের উৎসুক জনতার ভিড়, তিন চারটা কুকুর আর উপরে তাকিয়ে দেখলাম কয়েকটা কাক তাকিয়ে আছে অনাকাঙ্ক্ষিত এই শিশুটির প্রাণহীন শরিরের দিকে। এতক্ষণে গাড়ির চাকায় পিষ্ট তার মাথা।

মানুষের বাচ্চা এটা !!! কাক আর কুকুরে ছিঁড়ে খাবে !!! মানতে পারলাম না !!!

প্রস্তুত নিয়েই নিলাম দাফনের কাজটা নিজের হাতেই করবো। সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, দায়িত্ব আর কেউ নিতে চায়না।

আমার মা কে আমি এই বলে ধন্যবাদ জানাই, উনি আমার এই পাগলামি গুলো খুবই সহজে মেনে নেন। কাফনের কাপড় টুকু ওনারই সংগ্রহ করে দেওয়া।
নিজ হাতে নিথুর দেহটাকে একটুকরো পরিষ্কার কাপড়ে জড়ায় নিচ্ছিলাম কাফনের জন্য, মনে হচ্ছিলো যেন একটা মোমের দলা হাতে নিয়ে নাড়ছি।

আশে-পাসের উৎসুক জনতার বিভিন্নও মন্তব্য, তবে একটি মন্তব্যে আমি দারুন কষ্ট পেয়েছি। মন্তব্যটি ছিল এমন, ‘আয় হায় কি ময়লা ধরতেছে’।

‘জি’ আমি ময়লা ধরেছি, আমি ময়লাটা ধরার কারনেই মানুষের বাচ্চাটাকে কাক আর কুকুরে খেতে পারলনা। এটাও বলছি, ময়লাটা আমি ডান হাত দিয়ে ধরেছি।

এরপর কেউ আমার সাথে হাত মেলানর আগে একটু চিন্তা করে দেখবেন, এটা কিন্তু ময়লা ফেলান হাত । কাফনটা করে ফেলেছি, এখন দাফনটা কই করবো ।
ইট-পাথরের এই শহরে প্রয়জনের সময় এক টুকরো মাটি খুঁজে পাওয়া বড় দায়। এমন সময় হাত বাড়ালো আমারই ছোট ভাই আর জনতার মধ্যে থেকে একজন।

বাসা থেকে একটু দূরে পরিত্যাক্ত একটি জায়গা, যেখানে ছোট্ট করে নিজের হাতে কবর খুরলাম। গত দুই বছর আগে বড় বোনকেও নিজের হাতেই দাফন করেছিলাম আমি।

তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মানব শিশুটির ক্ষেত্রেও ত্রুটি হয়নি। মাথাটা উত্তর দিকে মুখটা কেবলা মুখি আর পায়ের দিকটা দক্ষিনে দিকে দিয়ে দাফনটা সম্পন্ন করলাম।

ততোক্ষণে আজান দিয়ে পাঁচ মিনিট হয়ে গিয়েছে। তখনো আমার ইফতার করা হয়নি। বাসায় ফেরার পথে কাঁদা মাখা হাতের দিকে তাকিয়ে ভাবি একটা ময়লাকে মাটি চাপা দিয়ে সমাজকে কলঙ্ক মুক্তো করলাম।

দোহাই লাগে, সমাজের অলি-গলিতে এভাবে ময়লা ছেটানো বন্ধ করেন। এমন কিছু করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন যাতে ময়লা না হয়। যদি নিজেকে শারিরিক চাহিদা থেকে বিরত রাখতে নাই পারেন তাহলে প্রচলিত অনেকগুলো পদ্ধতি আছে, তার ভেতর থেকে একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেন যাতে ময়লা সৃষ্টি না হয়।

আপনার ভুলের কারনে যদি ময়লা সৃষ্টি হয়, তবে ওই ময়লা পরিষ্কারের দায়িত্বটাও আপনাকে নিতে হবে। আর পরিষ্কারের পদ্ধতিটা আপনার নিজের ধর্মীও রিতি-নিতি মেনে সম্পন্ন করবেন আশা করি।

এটা করতে অপারগ হলে, মানব সন্তানকে ময়লা হিসেবে কাক-কুকুরে মিলে খাবে আমাদেরই চোখের সামনে?

সূত্র:ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: