সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

থালা নয়, পদ্মপাতায় বরযাত্রীদের খাবার !

Featureডেইলি সিলেট ডেস্ক : গ্রামের কোনো দাওয়াতে অনুষ্ঠানে গেলে হর-হামেশাই দেখা মিলতো পদ্মপাতার (শরল পাতা)। বড় সব পদ্মপাতায় দেয়া হয় খাবার। তবে, এখনকার সময় এমন দৃশ্য দেখা মেলা ভার। সভ্যতার ছোঁয়া লাগায় এসব বিষয় হারিয়ে যেতে বসেছে।

মঙ্গলবার রাজশাহীর তানোর অঞ্চলে আদিবাসীদের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের পদ্মপাতায় খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেল। এক থেকে দেড় যুগ আগে প্রায় অনুষ্ঠানেই পদ্মপাতা দিয়েই খাবার পরিবেশন করা হতো। বিশেষ করে আদিবাসীদের কাছে তা ছিল বেশ জনপ্রিয়।

কয়েক যুগ আগেও বরেন্দ্র অঞ্চলের পুকুর খাল বিলে ফুটে থাকতো পদ্ম ফুল। সেই পদ্মপাতা বিয়ে এবং যেকোনো উৎসবে খাবারের থালা হিসাবে ব্যবহার হতো। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পূজা-পর্বণে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণে পদ্মপাতা ব্যবহার করতেন। শুধু আদিবাসীরাই নয়। সব ধর্মের মানুষই বড় অনুষ্ঠানে পদ্মপাতা ব্যবহার করা করতো।

মাটিতে খড় বা খেজুর পাতা বিছিয়ে অতিথিদের বসতে দেয়া হয়। তারপরে অতিথিদের সামনে দেয়া হয় পদ্মপাতা। সেখানেই দেয়া হয় ভাত, মাংস, মাছ, মুড়িঘণ্ট, ডাল। অনেক বড় পাতা বলে অতিথিরা বেশ আয়েশ করেই খাবার খেতে পারে।

তবে এখন আর পদ্ম পাতা তেমন পাওয়া যায় না। মানুষ জলাধারগুলোতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে মাছের চাষ করছে। ফলে সেখানে পদ্মপাতা জন্মাতে পারছে না। এছাড়াও বর্তমান সভ্যতার যুগে মানুষ আচার-অনুষ্ঠানের ধরণ পাল্টিয়েছে। বর্তমানে বিয়েসাদিসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে হবার কারণে ও ছোট-বড় বাজারগুলোতে হাতের নাগালে ডেকোরেটর ভাড়া পাওয়া যায়। সে কারণেই দিনে দিনে পদ্মপাতার চাহিদা হারিয়েছে।

আগেকার দিনে পদ্মপাতা তুলে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতো। বরেন্দ্র অঞ্চলের হাট-বাজারে পদ্মপাতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো অনেক ছোট ছোট পরিবার। তারাও এখন সে পেশা ছেড়ে অন্য পেশাই চলে গেছে।

এমনি পেশাই এখন আছেন তানোর উপজেলার চুনিয়া পাড়া গ্রামের অনিল মার্ডী ও সুনিলাল মার্ডী নামের দুই ভাই। মঙ্গলবার সকালে পাঁচন্দর কাউন্সিল মোড়ের পাশ-ঘিষে এক পুকুরে বিয়ে বাড়িতে দেয়ার জন্য পদ্মপাতা তুলছিলেন তারা।

পদ্মপাতা বিক্রেতা দুই ভাই বলেন, পৈতৃক পেশা ধরে রাখতে তিনি এখন ও পদ্মপাতা বিক্রি করেন। বিভিন্নপূজা পর্বণে, বিয়ে ও সাধু সমাবেশে তার কাছে পদ্মপাতার অর্ডার দেয় সবাই। বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন খাল-বিলে পদ্মপাতা পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে মানুষ খাল-বিলগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছের চাষ করায় পাতা পাওয়া কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনিল মার্ডী ও সুনিলাল মার্ডী মঙ্গলবার তিনশ পাতা দিয়েছেন উপজেলার টাটিহাটি গ্রামের স্টিফান টুডুর মেয়ের বিয়েতে। একশ পদ্মপাতা বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কনের বাবা স্টিফান টুডু জানান, পদ্মপাতা বা শরল পাতায় খাওয়াই কুটুম বিদায় দেয়া হয়েছে। আপ্যায়নে নতুন কুটুমরা খুশি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: