সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের ব্যারিস্টার রাজ্জাকের জামায়াত ছাড়ার গুঞ্জন, তবে…

ডেইলি সিলেট ডটকম :: জামায়াতের অন্যতম ভরসা, সিনিয়র আইনজীবী ‘ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দল ছাড়ছেন’- এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা। তিনি ঢাকা হাইকোর্টে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

Razzakজামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হলেও রাজনীতির মাঠে তেমন সক্রিয় ছিলেন না ব্যারিস্টার রাজ্জাক। মূলতঃ তিনি জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতা আসার পরপরই আইন অঙ্গনে আলোচনায় আসেন এই নেতা। তার পর থেকে থেমে থাকেননি তিনি। চারদলীয় জোটের অনেক শীর্ষ নেতার মামলা পরিচালনা ছিল তার হাতে। সেই সুবাদে দেশ কাঁপানো একজন বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী মামলার বিচারকাজ শুরু হলে ব্যারিস্টার রাজ্জাক তাদের প্রধান আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন।

এ ব্যাপারে দৈনিক মানবকণ্ঠের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- “ব্যারিস্টার রাজ্জাককে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেলেও ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেশ ত্যাগের পর হতাশা নেমে আসে তাদের মধ্যে। জামায়াত ছাড়ছেন রাজ্জাক এ নিয়ে দলটির একাধিক স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দল ছাড়তে পারে না, পরিস্থিতির কারণে নীরব থাকতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের প্রচার বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, হয়তবা জামায়াত ছাড়তেও পারেন, কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা তাকে মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে হয়রানি করবে এই ভয় থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে দল ছাড়তেও পারেন। তিনি আরো বলেন, একে একে জামায়াত নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করছে সরকার। একটি প্রকাশ্যে বিবৃতিও দেননি তিনি।

সংকটকালীন জামায়াতের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর পাঁচ দিনের মাথায় দেশ ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক। দেশের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রেখে কীভাবে জামায়াত নেতাদের রক্ষা করা যায়, সে জন্য তাকে দেশের বাইরে পাঠানো হয় দলের পক্ষে থেকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দলটির আরেকটি সূত্র বলছে, উল্টো একে একে দলের সব শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে হত্যা করা হচ্ছে। অন্যদিকে দলটিকেও নিষিদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।barrister abdur razzak

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের এক সহকর্মী বলেন, দেশের রাজনীতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল না হলে দেশে ফিরবেন না তিনি। নাম গোপন রাখার শর্তে এই সহকারী বলেন, নেতার ব্যাপারে নানা ধরনের কথা-বার্তা শোনা যাচ্ছে। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা তা বলা মুশকিল। এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর কলাবাগান থানায় ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় জামায়াতের ৩২ নেতাকর্মী সমর্থকের সঙ্গে ব্যারিস্টার রাজ্জাককেও আসামি করা হয়। সেই মামলার পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে চলে যান। এরপর এখন পর্যন্ত তিনি আর দেশে ফেরেননি।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হবার পর ২২ নভেম্বর ২০১৫ সালে লন্ডনে আলতাব আলী পার্কে গায়েবানা নামাজে উপস্থিত হয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। সেই সময়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমের এমন খবর ছবিসহ প্রকাশিত হয়। তার পর থেকে গত ৭ মাস তাকে লন্ডন বা আমেরিকা এবং কি বাংলাদেশেও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। রাজনীতি অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াত ছাড়ছেন, সে জন্য দলটির কর্মকাণ্ডে নেই তিনি।”Razzak_2

তবে, এ প্রতিবেদনের পর নিজেদের ওয়েভ পোর্টালে একটি প্রতিবাদ ছাপিয়েছে দলটি। বুধবার ‘দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার মিথ্যা রিপোর্টের প্রতিবাদ’ শিরোনামে এই প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার অন-লাইনে আজ ১৫ জুন “জামায়াত ছাড়ছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক!” শিরোনামে প্রকাশিত ভিত্তিহীন মিথ্যা রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারী অধ্যাপক মোঃ তাসনীম আলম আজ ১৫ জুন প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার অন-লাইনে প্রকাশিত রিপোর্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে যা লেখা হযেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা।

দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার অন-লাইনে প্রকাশিত রিপোর্টটি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীতে আছেন। তার জামায়াত ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। কাজেই তার বিদেশ অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই।

দৈনিক মানবকণ্ঠের রিপোর্টের এক স্থানে লেখা হয়েছে তিনি ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেশ ত্যাগ করেছেন। আবার এ তথ্যের পরেই লেখা হয়েছে যে, তিনি ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তার নামে কলাবাগান থানায় মামলা হওয়ার পরে দেশ ত্যাগ করেন। এ স্ববিরোধী তথ্যের দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, দৈনিক মানবকণ্ঠের এ রিপোর্টটি মিথ্যা।

আমি আশা করি দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং অত্র প্রতিবাদটি যথাযথভাবে প্রচার করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।”

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: