সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লিবিয়ার কারাগারে বাংলাদেশি ডাক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু

18739_dctrপ্রবাস ডেস্ক:
ঢাকার বাসিন্দা ডাক্তার মো. আবদুল মজিদ। ১৯৭৬ সাল থেকে লিবিয়ায় বসবাস করে আসছিলেন। দেশটিতে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মুয়াম্মার গাদ্দাফির মারা যাওয়ার দিনে ২০১১ সালের ২০শে অক্টোবর ওই বাংলাদেশি চিকিৎসক আটক হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি গাদ্দাফি সরকারকে সহযোগিতা করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি কারাগারেই ছিলেন। কারাগারের ভেতরেই তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এমনকি ওই মৃত্যুর তথ্য দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ। দূতাবাসের অনুমতি ছাড়াই দাফন করা হয় তার মরদেহ। প্রায় দুই বছর গোপন রাখার পর নানা দেন-দরবার ও দূতাবাসের চাপাচাপিতে অবশেষে স্বীকার করে যে, কারান্তরীণ অবস্থায় ডাক্তার মজিদের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আটকের পর থেকে ডা. মজিদের সন্ধানে ত্রিপোলিস্থ বাংলাদেশি দূতাবাস নানা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে ধরনা এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনরকম সহযোগিতা পায়নি।

অবশেষে দূতাবাস টিমের অব্যাহত চাপের প্রেক্ষিতে গত ৩রা মে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এক পত্রের মাধ্যমে জানায়, ডাক্তার আবদুল মজিদ কারান্তরীণ অবস্থায় ২০১৪ সালের ১৮ই এপ্রিল মারা গেছেন। জেল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ তিনমাস মর্গে সংরক্ষণের পর ওই বছরের ১৫ই জুলাই ত্রিপোলির তাজুরার বির-উল-উস্তা নামক কবরস্থানে তাকে দাফন করে। দূতাবাসের অনুমতি ব্যতীত এভাবে একজন বিদেশিকে দাফন জেনেভা কনভেনশন আইনের পরিপন্থি বলে জানিয়েছে ত্রিপোলিস্থ বাংলাদেশি দূতাবাস।
সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিনের ছেলে ডা. আবদুল মজিদ দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে লিবিয়ায় বসবাস করে আসছিলেন। তিনি ১৯৭৬ সালে লিবিয়ায় যান এবং সেখানে সরকারি ডাক্তার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

২০১১ সালের ২০শে অক্টোবর আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের কুখ্যাত আবু সেলিম কারাগারের অভ্যন্তরে আটক প্রায় ১২৭০ জন লিবিয়ান নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গাদ্দাফি সরকারকে সহযোগিতার ঘটনায় তাকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি আবু সেলিম কারাগারে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অসমর্থিত সূত্র জানায়, ওই ঘটনায় তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধানকে বিচারকার্যে সহায়তার জন্য ডা. আবদুল মজিদকে অন্যতম সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে সরকারি সূত্র গোপনীয়তার অজুহাতে মামলা সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কিছুই খোলাসা করেনি। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।

এদিকে প্রবাস জীবনে ডা. মজিদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় দূতাবাস তার আটকের বিষয়টিকে সংবেদনশীলভাবে অতিগুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেয়। তাকে আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য লিবিয়ান সরকারের সঙ্গে দূতাবাস কয়েক দফা বৈঠক করে। কারান্তরীণ অবস্থায় তার সঙ্গে দূতাবাসের পক্ষ হতে তিনবার সাক্ষাৎ করা হয়। কিন্তু সরকারের অতি গোপনীয়তার কারণে ২০১৪ সালের শুরু থেকে তার সঙ্গে দূতাবাসকে সাক্ষাতের আর কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। এমনকি ঘন ঘন জেল পরিবর্তন করে তার অবস্থান সম্পর্কে দূতাবাসের আড়ালে রাখা হয়। তার অবস্থান সম্পর্কে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হওয়ায় দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিলেও ইতিবাচক সাড়া পায়নি।

এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে দূতাবাস গত একবছর ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ান প্রভাবশালী মহলের কাছে নানাভাবে ধরনা দেয়। কিন্তু কোনোভাবেই কোথাও থেকে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়ায় তার পরিবার বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। ফলে আন্তর্জাতিক সংগঠন রেডক্রস সোসাইটির কাছে সহযোগিতা চাইলে তারা তার পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে একটি আবেদন দাখিলের পরামর্শ দেয়। ওই আবেদনের পরও এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি। উপায় না পেয়ে এ বছরের ২রা এপ্রিল লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর একটি চিঠি দেয়া হয়। এতেও দ্রুত কোনো উত্তর না পেয়ে দূতাবাসের একটি টিম দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে তার কার্যালয়ে ৮-১০ বার সাক্ষাৎ করে ডা. মজিদের সন্ধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

এর প্রেক্ষিতে গত ৩রা মে এক চিঠিতে জানানো হয় ডা. আবদুল মজিদ কারান্তরীণ অবস্থায় গত ২০১৪ সালের ১৮ই এপ্রিল মারা গেছেন। জেল কর্তৃপক্ষ তার মৃতদেহ তিনমাস মর্গে সংরক্ষণের পর ওই বছরের ১৫ই জুলাই ত্রিপোলির তাজুরার বির-উল-উস্তা নামক কবরস্থানে দাফন করে। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত পোস্টমর্টেম রিপোর্টে হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিলো না। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার, একজন বিদেশির মৃত্যুর পর মৃতদেহ তিনমাস মর্গে সংরক্ষণ থাকলেও দূতাবাসকে জানানো হয়নি। এমনকি দূতাবাসের অনুমতি ব্যতীতই তাকে দাফন করা হয়েছে। তাই তার আটকের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। এছাড়া, দাফনের দুই বছর পর্যন্ত দূতাবাসকে কোনো সংবাদ না দেয়া আন্তর্জাতিক জেনেভা কনভেনশন আইনের পরিপন্থি।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ডা. মজিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মামলা নম্বর ১০০/২০১৪। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। ফলে কারো বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়নি। মামলার রায়ে ডা. মজিদ দোষী সাব্যস্ত না হলে দূতাবাস থেকে তার পেনশনসহ চাকরি শেষে প্রাপ্য সকল সুবিধাদির বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: