সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাসদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কার, আশরাফ না আ’লীগের?

13412892_1580448708914120_8076404860804777085_nডেইলি সিলেট ডেস্ক:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকে সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দেয়া বক্তব্যে গরম হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ। এরপর থেকেই জাসদ বিরোধীরা যেমন খুশি হয়েছে। তেমনি মাথা ব্যাথ উঠেছে ১৪ দলের।

সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী মাঝে মধ্যেই সত্য কথা বলে ফেলেন, যার কারণে বেকায়দায় পড়তে হয় আ’লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলকে।
সৈয়দ আশরাফের এই বক্তব্যে শুধু রাজনীতিবীদরা নন যারা রাজনীতি নিয়ে লিখেন, সমালোচনা করেন এক কথায় সবাই এ বক্তব্য নিয়ে ঝড় তুলেছেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক অঞ্জন রায় তো লিখেই ফেলেছেন, ‘স্বল্পভাষী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাসদ প্রসঙ্গে যা বলেছেন, সেই বক্তব্য অনেকেরই। তিনি সেই অর্থে বহুজনের মনের কথা বলেছেন।’

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দু’দিনব্যাপী বর্ধিত সভা ও কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরিবেশ তৈরি না করলে দেশ অনেক আগেই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হত। আর সেই দল থেকে একজনকে মন্ত্রী করার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের সাথে বাস্তবতা একটু মিলিয়ে নেওয়া যাক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘কন্টকমধুর’ বন্ধুপ্রিতিম সংগঠন হলো জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল আর্থাৎ জাসদ। এখানে ‘কন্টকমধুর’ শব্দটি ব্যবহার করলাম। যার হয়ত একত্রে কোন অর্থ হয় না। আমি এখনে বুঝাতে চেয়েছি ‘কাঁটার মত মধুর’ সম্পর্ক তাদের।

কারণ, আমরা যদি জাসদ গঠনের ইতিহাসের দিকে চোঁখ বুলাই দেখবো মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিকালীন সময়ে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কিছু বিপথগামী নেতারা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ৩১শে অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ গঠন করে।
এখানেই শেষ নয় জাসদ গঠনের পর ৭ মার্চ ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ২৩৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, শতকরা ৭ ভাগ (১,২২৯,১১০) ভোট পেয়ে ৫টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৭৪ সালের শুরু থেকে শেখ মুজিব সরকারকে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, নির্যাতনের বিরুদ্ধে নতুন মাত্রায় আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন করে। এবং তাদের এই আন্দোলনের ফলেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিবেশ সৃষ্টি হয় (একই কথা বলেছেন সৈয়দ আশরাফ)। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে আহ্বান করে হরতাল।

১৭ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভা শেষে উত্তেজিত জনতার এক বিক্ষোভ মিছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। মিছিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে জনতার খণ্ডযুদ্ধ হয়। জাসদের কিছু কর্মী নিহত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী খুনী ফারুক-রশিদের তল্পীবাহক খন্দকার মোস্তাকের বিরুদ্ধে জাসদ অবস্থান নিয়েছিলো। যার ফলশ্রুতিতে খন্দকার মোস্তাকের স্বল্পকালীন শাসন আমলে কয়েকশ নেতা-কর্মী নিহত হন। সেনাবহিনী শৃঙ্খলা (চেইন অব কমান্ড) ফিরিয়ে আনার নামে ৩ নভেম্বর খালেদ মোশারফ পাল্টা ক্যু করলেও ৩ নভেম্বর জেল হত্যার ঘটনা ঘটে-বঙ্গবন্ধুর খুনীরা নির্বিঘ্নে বিদেশে চলে যায়।

সেই আলোচিত সমালোচিত সংগঠন বর্তমান হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ। এর পরেও ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে শরিক দল হিসেবে যোগ দেয়। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০১২ সাল ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর কাঁধে তথ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দেন তুলে দেয় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইনুকে তথ্যমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়।
হাসানুল হক ইনু তথ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মিডিয়ার সামনে বেশ বিএনপি-জামায়াত বিরোধী কথা বলা শুরু করেন যা কিনা অতি আওয়ামী লীগারের পরিচয় বহন করে। যার ফলে আ’লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রকম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ তো মনেই করে নিয়েছেন যে ইনু এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আস্তাভাজন হতে চান। তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান।

সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে হয় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন, দেশের বেশকিছু অনলাইন গণমাধ্যম আওয়ামী লীগের সূত্র দিয়ে লিখেছেন, “এখন তো এসব কাদা ছোড়াছুড়ির সময় নয়। আশরাফের এমন বক্তব্যে আমার সমর্থন নেই। এটা তার ব্যাক্তিগত মন্তব্য।”
তাহলে কি অতিত ইতিহাস ভুলে গেছেন শেখ হাসিনা? তার পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ইতিহাস ভুলে গেছেন! তিনি যদি জাতির কথা ভেবে মানবতাবিরোধীদের বিচার করতে পারেন, তাহেল তার পরিবার হত্যাকারীদের কেন ভুলে যাবেন।

ওই প্রতিবেদনে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “অনেক ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে সরকার পরিচালনা করছি। অনেক কষ্টে সবাইকে এক রাখার চেষ্টা করছি।” তাহলে কি তিনি তার ক্ষমতা টিকে রাখতেই পিতার হত্যাকারীদের ছেড়ে দিচ্ছেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত মন্তব্য। সৈয়দ আশরাফের সাথে ইনুর কি ব্যক্তিগত কোন বিরোধ রয়েছে? সৈয়দ আশরাফের বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ‘গুড ইমেজ’ রয়েছে তা কারোরই অজানা নয়। তাহলে তিনি একথা কেন বললেন?

আমি অন্তত বলতে চাই তিনি দেশের জন্য রাজনীতি করেন। যেহেতু তিনি সৎ লোক তাই তিনি সত্য কথা বলেছেন। এখানে তিনি কোন রাজনৈতিক ফায়দা লুটাতে চাননি। আর যেহেতু তিনি আওয়ামী লীগের মত বড় দলের সাধারণ সম্পাদক জাসদের মত একটি ছোট দলের বিরুদ্ধে বলে কোন ফায়দা লুটানোর তো প্রশ্নই উঠে না। তাহলে জাসদের সঙ্গে দ্বন্দ্বটা কার?

লেখক:হৃদয় আজিজ, সাংবাদিক। সূত্র: বিডিলাইভ২৪

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: