সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি এক কিশোরের দাসত্বের জীবন

Structure-of-Shadow-by-Bohyun-Yoon-2-696x435প্রবাস ডেস্ক:
বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ২০১৪ সালে নৌকায় করে আয়ের কথা বলে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয় এক কিশোরকে। ৩ জুন তাকে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন করে দেশে পাঠানো হয়।

২৮ মে এই প্রতিবেদক মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত এই কিশোরের সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পুত্রজায়ার আশ্রয় কেন্দ্রে দেখা করেন। ওই সময় কিশোরটি বলেন, আমি দেশে যেতে চাই, সেখানে আমার খালাত ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে চাই।

খালাত ভাই কে ও বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে কিশোরটি বলে, খালাত ভাইয়ের বাড়ী ‘ব্রাজিল’ ও তার নাম ‘পেলে’। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই কিশোরের বর্তমান বয়স ১৭। কিশোরটিকে একটি কুচক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ১৫ বছরের এই কিশোরটকে আধুনিক দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করার জন্যই তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও সে বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে তবে তার কিডনি বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিশোরটি তার স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। সে একা থাকতে চায় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চায় না।

বাংলাদেশি অভিবাসী সংস্থা মাইগ্রেন্ট ৮৮’র নির্বাহী সম্পাদক আশিক রহমান জানান, পাচারকারীরা বালকটিকে বঙ্গোপসাগরের আন্দামানের মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডের নিকটে ২০১৪ সালের নভেম্বরে এক মাস দীর্ঘ ভ্রমণে তাকে নির্যাতন করে। পরে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়।

অসুস্থ ও অনাহারের এই কিশোরকে আধুনিক দাস হিসেবে পণ্যের মতো কেনা বেচা করা হয়েছে। পাচারকারীরা তাকে এক মাস শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছে। তাকে মালয়েশিয়ার পিনাংয়ের একটি চক্র ক্রয় করেছিল। তাকে যৌন কারখানায় রাখা হয়। পাচারকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কালো বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন। ভাগ্যক্রমে কিশোরটি সেখান থেকে বেঁচে যায় বলে জানান আশিক। বেশ কয়েক মাস কিশোরটি কুয়ালালামপুরের রাস্তার ডাস্টবিনের আবর্জনা খেয়ে বেঁচেছিলেন।

বালকটিকে একজন দেখে কুয়ালালামপুর ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা তিনাগানিতা তাকে সহায়তা করার অনুরোধ করেন। পরে মাইগ্রেন্ট৮৮ তাকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় এবং ৪ জুন তাকে তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়।

কিশোরটির বর্তমান অবস্থা দেখে তার পরিবারের মানুষের জন্য অনেক কষ্টদায়ক বিষয়। তার মা ও বড় বোন জানান, সে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে না। তার বাবা ডেইলি স্টারকে টেলিফোনে জানান, আমি আমার ছেলেকে দুই বছর ধরে দেখিনি। এখন সে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারছে না।

কিশোরটির বোন জানান, দুই বছর আগে তার ভাই পরিবারের কাউকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যায়। এখন সে আমাদের চিনতে পারছে না। আমরা যদি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই তবে সে আমাদের প্রশ্ন করে আমরা কারা? সে নিজে নিজে কথা বলে। কি বলে তা স্পষ্ট বুঝা যায় না। সে মালয়েশিয়া থেকে একটি ব্যাগ ক্রয় করেছিল তবে ওই ব্যাগ কাউকে স্পর্শ করতে দিচ্ছে না। সে মাঝে মাঝে ব্যাগটি খুলে তাতে কিছু কাগজপত্র বের করে। কিছু ছবি দেখে। পরিবারের সদস্যরা ব্যাগটি দেখলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তখন মনে হয় না আমরা তার পরিবারেরে সদস্য।

অপহরণের ১৮ দিন পরে কিশোরটির পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে স্থানীয় পাচারকারীরা তাকে পাচার করেছে। বন্দিশালা থেকে উদ্ধার করতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমি বিক্রি করে দেওয়া হয় তাকে। এখন তার চিকিৎসার খরচ যোগাতে পরিবার খুবই উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে তার বোন। কিশোরটি চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: