সর্বশেষ আপডেট : ৫১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের তথ্য রিপোর্টে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান পরিবারের

full_2050501599_1465744830নিউজ ডেস্ক:: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে পারেনি আদালতের নির্দেশে গঠিত ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।

এদিকে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদন চিকিৎসকরা দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তার বাবা ইয়ার হোসেন। রোববার তিনি বলেন, “যেইটা বলছে, সেইটা ভুয়া বলছে, বানায়ে বলছে।”

মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পুলিশকে আরো অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তনুকে ধর্ষণ প্রসঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে তার সঙ্গে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে বলে সাংবাদিকদের বলেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. ওমর ফারুক। এর মাধ্যমে তারা ‘ধর্ষণ’ বোঝাচ্ছেন কি না- সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন তারা এড়িয়ে গেছেন।

এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ হতে সিআইডি-কুমিল্লার কার্যালয়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মতো দ্বিতীয় প্রতিবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করেছে তনুর বাবা-মা ও স্বজনরা। আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিআইডির কার্যালয়ে গিয়ে ওই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। খামটি গ্রহণ করেন সিআইডি কুমিল্লার এএসআই মোশারফ হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক বিভাগ ও ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। এ বিষয়ে ডা. কামদা প্রসাদ সাহাও বলেন, মৃত্যুর আগে তার সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে। যেহেতু দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য ১০ দিন পর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল। আর এই ১০ দিনে তার মরদেহ পচে গিয়েছিল। পচা-গলা মরদেহ থেকে নতুন করে কোনো আঘাতের চিহ্ন বোঝা সম্ভব হয়নি। ফলে, অধিকতর তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে পরামর্শ দিয়েছি।

তনুর লাশ গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ওই কলেজের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা। তিনি গত ৪ এপ্রিল প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তার দপ্তরে বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহার নিকট হস্তান্তর করেন। পরে কামদা প্রসাদ সাহা গণমাধ্যমে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়নি। এদিকে আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

গত ১৪ মে কুমিল্লার আদালতে এসে পৌঁছায় নিহত তনুর ৭টি বিষয়ের ডিএনএ প্রতিবেদন। গত ১৬ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াবে ৩ পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যায়। তনুর ডিএনএ পরীক্ষায় আলামত পাওয়ায় প্রতিবেদনটি দেয়ার জন্য সিআইডিতে চিঠি প্রেরণ করেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। একাধিকবার চিঠি চালাচালির পর আদালতের নির্দেশে গত ৭ জুন ফরেনসিক বিভাগের চাহিদা মোতাবেক তনুর ভেজাইনাল সোয়াব, দাঁত, চুল, অন্তর্বাস, কাপড়সহ ৭টি বিষয়ের ডিএনএ ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। এরই প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৭৪ দিন পর রোববার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সিআইডির নিকট হস্তান্তর করে মেডিকেল বোর্ড।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয়বার লাশ উত্তোলন করে মেডিকেল বোর্ড গঠনের উদ্দেশ্য মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করা। এক্ষেত্রে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করার পরামর্শ শুধু আদালতই দিতে পারে। এ ছাড়া তনুকে মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ করার বিষয়টি সিআইডির ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষায় আগেই পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড তনুর মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণের বিষয়ে নতুন করে কোন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরতে পারেনি।

তবে এ বিষয়ে তদন্ত সহায়ক দলের এক সদস্য জানান, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হবে। আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক শনাক্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি-কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যেটাই আসুক ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হবে।

বিকালে তনুর মা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, তনুর যদি যৌনক্রিয়ার অভ্যাস থেকেই থাকে তাহলে তার চুল কেন কাটা হল, নাক দিয়ে রক্ত আসল কেন এবং তাকে কেন হত্যা করা হল। মেডিকেল বোর্ডের দেয়া দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করে তিনি আরও বলেন, ঘাতকদের বাঁচানোর জন্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এ ধরণের প্রতিবেদন দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।

এদিকে কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র খাইরুল আনাম রায়হান বলেন, “৭৪ দিন অপেক্ষার পর এ ধরনের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ। মৃত্যুর কারণ উদঘাটন- তাদের সেই প্রথম কাজই কিন্তু করেনি। রিপোর্টটি অত্যন্ত আপত্তিকর।”

যত দ্রুত সম্ভব এর সুরাহা করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে রায়হান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৯০দিন পূর্ণ হলে তারা আবারও আন্দোলনে যাবেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: