সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাহে রমজানে নাযাতের আশায়

downloadআতিকুর রহমান নগরী::মাহে রমজানে ক্বোরআন নাযিলের মাস। এ মাস আত্মশুদ্ধির মাস। আত্মসংযমের মাস। কুরবত ইলাল্লাহ অর্জনের মাস। পাপ বর্জনের মাস। নেকীর পাল্লা ভারী করার মাস। সর্বোপরি সবধরনের পূণ্য করাই হচ্ছে এ মাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বারো মাসের মধ্যে আফযল মাহিনা হচ্ছে ‘রামাযানুল মুবারক’ খোদায়ি নেয়ামতে ভরপুর এ মাস। এগারো মাসের তুলনায় এ মাসের বরকত যে সবচেয়ে বেশী তা একমাত্র রোযাদাররাই বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন। সারাদিন পানাহার করবে বলে যে ব্যক্তি রোযা ছেড়ে দিল তার যে কত কষ্টে দিন অতিবাহিত হয় একমাত্র সেই ঠের পায়।

এ মাসে মহাগ্রন্থ আল্ কুরআন নাযিল করা হয়েছে হেদায়াত আর ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য নিরুপনের জন্য। ইরশাদ হচ্ছে “রামযান সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্য পথযাত্রিদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ। আর ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্যকারী। (সূরা বাকারা: ১৮৫)

মুসলিম উম্মাহর জীবন চলার পথে প্রয়োজন হয় খোদায়ি রহমত, মাগফিরাত, আর নাযাতের ফুয়ারার। তাই মহানবী (সা.) এর জবান মুবারকে এমাসকে তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ায় ঘোষনা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজান মাস যার প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের ,আর শেষ দশ দিন নাযাতের।

রহমতের দিনগুলো পেরিয়ে মাগফিরাতের শেষ প্রান্তে আমরা পৌঁছেছি। নাযাত পাওয়ার আশায় বাকি দিনগুলো গুনছি। প্রশ্ন করি আমরা অশান্ত দিলকে। রহমত আর মাগফিরাতের হিসেব কীভাবে যে মিলাই।

পেরেশান হৃদয় আমার। কী আ’মাল করেছি আমি। আ’মালে সালিহায় প্রতিযোগীতা মূলক পদচারনা হয়েছে কি এ মাসে।
আমি কি নাযাত প্রাপ্ত বান্দাদের তালিকায় স্থান পেয়েছি? ভয় হচ্ছে খোদায় মন আমার ভরপুর হয়ে আছে। হিসেব মিলাতে পারছি না। তবুও নযর রাখি সূরা যুমারের এই আয়াতাংশের দিকে যেখানে রাহমাতুললিল আলামিন ইরশাদ করেছেন। “লা তাক্বনাতু মির রাহমাতিল্লাহ” তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা, কিছুটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ হল।
এবার মনে পড়ে গেল আবু দাউদ শরীফের একটি হাদিসের কথা যেখানে বিশ্বনবী (সা.) ইরশাদ করেছেন “ইয়াসসিরু ওয়ালা তুআসসিরু, বাশশিরু ওয়ালা তুনাফফিরু”।

সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও ভাগাইওনা। এটার মর্মকথা যদি মুসলিম উম্মাহ উপলব্ধি করতে পারে তবে মহান প্রভুর গোলামী করা সহজ হবে। হেদায়তের দ্বার উন্মোচিত হবে। নাযাত প্রাপ্তি সহজ হবে।

তাক্বওয়া অর্জনই সিয়াম-সাধনার মূল উদ্দেশ্য।
তাকওয়ার গুরুত্বে পবিত্র কুরআন ভরপুর। সমাজে মুত্ত্বাকি মুসল্লিদের অভাব নেই। তাক্বওয়ার বয়ান ও হয় প্রতিটি মাহফিলে। অথচ তাক্বওয়া কি? তা কীভাবে হাসিল করা যায় এ ব্যাপারে খুব কম লোকই অবগত রয়েছেন।
সূরা বাকারায় প্রথমাংশে আল্লাহ তা’লা বলেন, “এটা সেই কিতাব যাতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। মুত্ত্বাকীনদের জন্য পথ প্রদর্শক। (সূরা বাকারা: ২-৩)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, “ হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের আগেকার লোকদের উপর, যাতে তোমরা তাক্বওয়া হাসিল করতে পার। (সূরা বাকারা: আয়াত ১৮৩)।
তাক্বওয়া বা খাওফে খোদা মুমিনের অন্তরের এমন এক অবস্থা যা তাকে আলো-অন্ধকারে, দিনে-রাতে, সর্বাবস্থায় আল্লাহর হুজুরিকে স্মরণ করিয়ে দিবে। এবং স্মরণের দ্বারা যে সবধরণের নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।
সারা বছর পাপাচারের সাগরে ডুবে থেকে গা ভিজিয়ে খাহিশাতে নাফসানি কে আনন্দ দিয়েছি। শয়তানকে খুশি রেখেছি। এই একটি মাস। যে মাসে আল্লাহ তা’লা নিজ কুদরতি হাতে শয়তানদের শিকলে আটকে রেখে আ’মালে সালিহার পাল্লাভারী করার সুবর্ণ সুযোগ দিয়েছেন। এ সুযোগ যদি হাতছাড়া করে বসি তাহলে তো আমার মত হতভাগা আর কেউ হবে না।

তাকওয়া আজ মুখে উচ্চারনের একটি শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হতে চলেছে। বাস্তবে তা খোঁজে পাওয়া দুষ্কর। মুত্ত্বাকি লোকের বড়ই অভাব। এই তাকওয়ার অভাবেই মাহে রামাযানেই দিন-দুপুরে চলছে হরেক রকম পাপাচারের মেলা। সন্ত্রাসী-রাহাজানি, ছিনতাই-হাইজ্যাক, চুরি-ডাকাতি, হতে দেখা যায়। দেখা যায় দিবালোকে হোটেল-রেস্তোরায় বসে পেঠ পুরে খাবার খেতে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা শ্রেষ্ঠজাতি খেতাব প্রাপ্ত হয়েছি আমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে। কিন্তু আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের কোন আলামত নেই। নেই বিশ্বনীব (সা.) এর আদর্শ। মাগফিরাতের শেষ প্রান্তে প্রভূর মাপ্রত্যাশা দিলে নিয়ে আমালকে আরো বাড়িয়ে নাযাতের দশকে নাযাত প্রাপ্তদের তালিকায় যাতে স্থান পাই সে পর্যন্ত পৌছার জন্য প্রভূর অসীম দয়ার আশা নিয়ে আ’মালের ময়দানে যাতে আরো অগ্রসর হতে পারি এই তৌফিকটুকু বিশ্বমালিকের কাছে চাই।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: