সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সৌদি আরবের জন্য বাংলাদেশের চাপ!

Untitled-30 copyনিউজ ডেস্ক : ইয়েমেনে শিশু হত্যায় দায়ী দেশের একটি কালো তালিকা করেছিল জাতিসংঘ। দেশটিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় হাজারো শিশু নিহত হয়েছে, তাই স্বভাবতই তালিকায় ছিল সৌদি আরব ও জোট দেশগুলোর নাম। তবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিম দেশের প্রতিবাদ এবং জাতিসংঘে সৌদি তহবিল নিয়ে হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত ওই কালো তালিকা থেকে সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট জোটের দেশগুলোর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনপিআর জানায়, গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এক ভাষণে মহাসচিব বান কি মুন দেশের কালো তালিকা থেকে সৌদি আরব ও জোটের অপর দেশ বাদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইয়েমেনে বোমা মেরে শিশু হত্যার জন্য দায়ী থাকা সত্ত্বেও চাপের মুখে তিনি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। বান কি মুন আরো বলেন, সৌদি আরব ও জোটের দেশগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এ পর্যন্ত নেওয়া তাঁর সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিল।  তিনি এও বলেন, কালো তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি সাময়িক।

জাতিসংঘে সৌদি জোট দেশগুলোর দেওয়া তহবিলের প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট করে নামোল্লেখ না করে বান কি মুন বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের তহবিল সংকটে আছে। তাই নির্দিষ্ট দেশগুলো তহবিল দেওয়া বন্ধ করলে জাতিসংঘের অনেক কর্মসূচি বন্ধ হবে, যার ফলে বিশ্বের লাখো লাখো শিশু দুর্দশার শিকার হবে। তহবিল নিয়ে চাপ দেওয়া হলে তাঁকে এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

এখানে উল্লেখ্য, বান কি মুন চাপ প্রধানকারী দেশগুলোর নাম উল্লেখ করেননি। তবে স্বভাবতই সেখানে সৌদি আরব এবং জোটের অন্য দেশগুলো ছিল বলে ধারণা করা হয়।

কালো তালিকা থেকে সৌদির নাম বাদ দেওয়ার তথ্যটি উঠে এসেছে জাতিসংঘের নিয়মিত বিফ্রিংয়েও। গত ১০ জুনের ব্রিফিংয়ে মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকের কাছে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন- জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এ বিষয়ে (সৌদিকে কালো তালিকা থেকে বাদ দিতে) পদক্ষেপ নিয়েছে। আপনি তারপর বলেছেন,অন্যরাও পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ে বাড়তি আরো কিছু জানতে চাই।

জবাবে ডুজাররিক বলেন, এই ব্যাপারে আমি আপনাকে মহাসচিবের বক্তব্যের অংশটুকুর কথা মনে করিয়ে দেব। আমি জানি একটি ফোন কল এসেছিল। মহাসচিবকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করে সৌদি আরবকে কালো তালিকাভুক্ত করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

জাতিসংঘের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএসএম জানায়, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্দানের পক্ষ থেকে বান কি মুনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বধীন জোটকে শিশু হত্যার কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদ জানানো হয়।

এদিকে কূটনীতিকরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মিসর, কুয়েত ও কাতার জাতিসংঘের কালো তালিকার নিন্দা জানিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করেন। ওই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

এনপিআর জানায়, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের স্কুল হাসপাতালে হামলার অর্ধেকের জন্য দায়ী। একই সঙ্গে ইয়েমেনের যুদ্ধে দুই হাজার শিশু নিহত এবং আহতদের দায় ৬০ শতাংশই বর্তাবে সৌদি জোটের ওপর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: