সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পূর্বাঞ্চলে এখন জৈষ্ঠ্যহাঁড়ি’র ধুম

1002জালাল আহমদ::
মধু মাসের রসালো ফল আম-কাঁঠাল-আনারস সঙ্গে খৈ আর মিষ্টান্ন, অবস্থা ভালো হলে বাজারে পাওয়া যায় এমন আরও কিছু ফলমূল একসঙ্গে করে পাঠানো হয় মেয়ের বাড়িতে। এটা মৌলভীবাজার তথা সিলেট অঞ্চলের রীতি। স্থানীয়ভাবে এটাকে এলাকা ভেদে আম-কাঁঠালী বা জৈষ্ঠ্যহাড়ি (প্রকৃতপক্ষে জৈষ্ঠ্য-আষাঢ়ি), এমনকি ইস্তারিও বলা হয়ে থাকে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মা এ রীতি কেবল মৌলভীবাজার নয়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, সিলেটের বালাগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ বেশ কিছু অঞ্চলে চালু আছে। এ জৈষ্ঠ্যহাঁড়িকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উৎসব চলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে। মধুমাসের এই উৎসবে মধুর হয় আত্মীয়তার সম্পর্কও। পূর্বাঞ্চলে এখন জৈষ্ঠ্যহাড়ির ধুম পড়েছে যেনো।

বিভিন্ন এলাকার প্রবীণ লোকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বছরের এ সময়টা মৌলভীবাজারসহ আশপাশের এলাকায় প্রচুর আম, কাঁঠাল ও আনারস পাওয়া যায়। অনেক পরিবারেরই নিজস্ব আম, কাঁঠাল, জাম গাছ, আনারসের বাগান রয়েছে। মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর সাধারণত বাবা-মা, ভাইয়েরা নিজেদের বাড়ির গাছের ফল কন্যা বা বোনকে খাওয়ানোর জন্য পিত্রালয়ে এ সমটায় নাইওর (বেড়াতে) নিয়ে যান। মেয়ে পিত্রালয়ে ফল খেয়ে স্বামী গৃহে যাওয়ার সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জন্য কিছু ফল দিয়ে দেওয়া হয়। আগে এর সাথে মেয়ে, জামাতা ও মেয়ের শ্বশুর-শ্বাশুড়ির জন্য জামাকাপড় দিয়ে দেওয়া হতো। এখনও ধনাঢ্য পরিবারে সে রেওয়াজ চালু আছে। তবে গরিব হলেও মেয়েকে বেড়াতে আনতে পারেন আর নাই পারেন, বছরের এ সময়টাতে মেয়ের বাড়িতে সাধ্যমতো জৈষ্ঠ্যহাঁড়ি পাঠিয়ে থাকেন। এভাবেই মৌসুমী ফলকে কেন্দ্র করে বাবার বাড়ি থেকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ফল পাঠানোর এ রেওয়াজ চলে আসছে বংশপরম্পরায়।

মৌলভীবাজার সদর এলাকায় একে বলা হয় ইস্তারি; বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় বলা হয় জৈষ্ঠ্যহাড়ি; হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বাহুবল এলাকায় বলা হয় আম-কাঁঠালী ও খৈ-কাঁঠালী। এলাকা ভেদে নামের ভিন্নতা থাকলেও বিষয় ও রসদ একই। অনেক সময় অবস্থাসম্পন্ন পরিবারে একাধিক পুত্রবধূ থাকলে কার পিত্রালয় থেকে কি পরিমাণ ও কতো জাতের ফল-ফলাদি জৈষ্ঠ্যহাড়িতে এসেছে তা নিয়ে অনেকটা নীরব প্রতিযোগিতা হয়। যাদের সামর্থ নেই তারা দু’চারটা কাঁঠাল আর কিছু আম-খৈ দিয়ে মেয়ের বাড়ির লোকজনদের সন্তুষ্ট রাখতে চান। এমনও ঘটনা ঘটে, যাদের সামর্থ নেই তারা প্রতিবেশিদের গাছের কাঁঠাল, বাগানের আনারস চেয়ে-চিন্তে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে থাকেন। আনারস-কাঁঠাল বাগান মালিকরা অনেকই পারতপক্ষে তাদের ফিরিয়ে দেন না। দু’য়েকটা হলেও দেন।

এদিকে এ জৈষ্ঠ্যহাড়িকে কেন্দ্র করে মেয়ের শ^শুরবাড়িতেও উৎসব চলে। বেয়াই’র বাড়ির ফল-ফলাদি আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে খেতে হয়। ফল-ফলাদি নিয়ে যান মেয়ের পিত্রালয়ের লোকজন। প্রতিবেশিদেরও দাওয়াত করা হয়। এসব মেহমানদের কেবল ফল খাইয়ে বিদায় দেয়া অনেকের আত্মসম্মানে ধরে। তাই ফল খাওয়ার পর আয়োজন করা হয় ভুরিভুজের। মধুমাসের এ উৎসবকে ঘিরে এ অঞ্চলের লোকজনের আত্মীয়তার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। সুদৃঢ় হয় আত্মীয়তার ও পরিবারের বন্ধন-এমন ধারণা প্রবীণদের। তবে এসবকে কেন্দ্র করে আবার কোনো কোনো পরিবারে কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় মুত্যুও বরণ করতে হয় গৃহবধূকে। চলে নির্যাতন। তাই এ ব্যাপারে সংশি¬ষ্টদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনমহল।
বড়লেখা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক নিয়াজ উদ্দীন বলেন, প্রথাটি পূর্বাঞ্চলে অনেক দিন ধরে চলে আসছে। জৈষ্ঠ্যহাড়িকে কেন্দ্র করে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটছে সমাজে। তাই প্রথাটি বন্ধ করা জরুরী।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: