সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনুর ঘাতকদের এখনই গ্রেফতার নয়

12920253_131372693925890_7131042202436983844_n-11নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চুড়ান্ত করেছে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগের ৩ সদস্যের ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড। রোববার সকালে তা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক ও মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কেপি সাহা।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার মেডিকেল বোর্ডের সভায় প্রতিবেদন চুড়ান্ত করার পর ওই দিনই তা একটি প্যাকেটে সিলগালা করা হয়। তবে প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, তনু ‘পরিকল্পিত ও নিশ্চিত হত্যাকাণ্ডের শিকার এবং ঘাতকরা তার পরিচিত’ এ বিষয়ে সিআইডি নিশ্চিত হলেও ঘাতকদের গ্রেফতারে সিআইডির কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।

কুমিল্লার সিআইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে সন্দেহভাজনদের মোবাইল কললিস্ট, তনুর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্দেহভাজনদের একটি হিট লিস্ট তৈরিতে সক্ষম হলেও এখনই তাদের আটকে কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। ঘাতকদের সনাক্তে সর্বাধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির সহায়তা নিতে যাচ্ছে সিআইডি।

এক্ষেত্রে সিআইডি যে কোনো সময়ই আদালতের অনুমতি নিয়ে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করতে চাচ্ছে বলেও সিআইডি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, তনুর ঘাতকদের সনাক্ত করতে সন্দেহভাজনদের হাতের ছাপ, দন্ত, রক্ত ও বীর্যসহ শরীরের আরও কিছু অংশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও তনুর শরীরে থাকা আঙ্গুলের ছাপ ঘাতকদের থেকে বিভক্ত করতে তার স্বজন, পুলিশ, ডাক্তার, ডোমের ( লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত, দাফন পর্যন্ত) আঙ্গুলের ছাপের ডিএনএ নেয়া হবে। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শুরু করা হতে পারে এসব বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিআইডি সূত্র জানায়, ‘তাদের পদক্ষেপ ধীর চলা নীতিতে হলেও চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সকল তথ্য-উপাত্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদনে ঘাতক নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে গ্রেফতারের ঝুঁকিতে পা দেবে না সিআইডি।’

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ৮৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সিআইডির তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। ২য় ময়নাতদন্তের অজুহাতে থমকে রয়েছে তদন্ত কার্যক্রম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কুমিল্লা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নোমান জানান, ‘ডিএনএ এবং প্রথম ময়নাতদন্তের ফলাফল জটিলতা নিয়ে সিআইডি ব্যস্ত থাকায় তনুর ঘাতকরা এখন স্বস্তিতে আছে।

তিনি বলেন ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার আগেই দেশে অনেক হত্যাকাণ্ডের রহস্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বের করার রেকর্ড থাকলেও তনুর মামলার ক্ষেত্রে সিআইডির ভূমিকা ক্রমেই সমালোচিত হচ্ছে।’ তাই মামলার রহস্য উদঘাটনে ও ঘাতকদের গ্রেফতারে সিআইডির এখনই অভিযান চালানো উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী ইব্রাহিমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে? এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কেপি সাহা জানান, ‘রিপোর্ট প্রস্তুত, রোববার সকাল পর্যন্ত অন্তত অপেক্ষায় থাকুন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: