সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জেরে হাটবাজারে জাল টাকার ছড়াছড়ি

jal-takaডেইলি সিলেট ডেস্ক:
দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা বাড়লেই জাল টাকার ছড়াছড়ি বাড়ে। এমন অবস্থা সুনামগঞ্জের হাট-বাজারে হয়ে আসছে বহু বছর থেকেই। গত বছরেও রমজান শুরুর কয়েকদিন আগে জামালগঞ্জ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার জালনোটসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানী ও ব্যাংকের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের কেনাকাটা বাড়তেই জাল টাকার ব্যবসায়ীরাও সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। গতকাল বৃহ¯পতিবার প্রাইম ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখায় দুটি জাল নোট ধরা পড়েছে।

ব্যাংকের ক্যাশিয়ার জানিয়েছেন, একটি ১০০০ টাকার, অন্যটি ৫০০ টাকার জাল নোট নষ্ট করেছেন তারা। জাল টাকার ব্যবসায়ীরা সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারে সক্রিয় হয় দুই ঈদ, দুর্গাপূজা, তাহিরপুরের সীমাস্ত নদী যাদুকাটার পাড়ে পনাতীর্থের বারুণি স্নান ও শাহ আরেফিন (র.) ওরসকে ঘিরে মেলার সময়। এছাড়া যখনই যে পণ্য বা বাজারে বিক্রি বাড়ে, ওই বাজার বা পণ্য টার্গেট করে জাল টাকা ছড়ানোর ধান্ধায় থাকে জাল নোট সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সীমান্ত এলাকায় এই তৎপরতা আরো বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানে নিত্য পণ্যসহ পোশাকের দোকানগুলোয় বিক্রি বাড়তেই জাল টাকার ছড়াছড়ি বেড়েছে।

শহরের মধ্য বাজারের রায় ট্রেডার্সের মালিক চন্দন রায় বলেন, আমরা জাল টাকার বিষয়ে সব সময়ই সচেতন থাকার চেষ্টা করি, এই সময়ে আরো বেশি সচেতন থাকতে হয় ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে ১০ রমজানের পর জাল টাকার ছড়াছড়ি প্রতিবছরই বাড়ে’। জামালগঞ্জের মেঘনা ট্রেডার্সের (প্রেস’র এজেন্ট) পরিবেশক গণমাধ্যমকর্মী আকবর হোসেন বলেন, এই সপ্তাহেই নোয়াগাঁও বাজার থেকে মালামালের টাকা আনতে গিয়ে ১০০০ টাকার দুটি জাল নোট পাওয়া যায়, পরে ওই টাকা ফেরৎ দেই আমরা, ১০ রমজানের পর আরো বাড়বে জাল নোটের ছড়াছড়ি’।

প্রাইম ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ক্যাশিয়ার মো. তাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহ¯পতিবার সকালেই দু’জন গ্রাহকের কাছ থেকে দুটি জাল নোট পাওয়া গেছে, একটি ১০০০ টাকার, অন্যটি ৫০০ টাকার টাকার জাল নোট, আমরা পরে টাকা দুটি নষ্ট করে ওই গ্রাহকদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছি’।
প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার চিরঞ্জিব চন্দ বলেন, জালনোট স্বাভাবিকভাবে ধরার কৌশল হচ্ছে আসল টাকা বেশি উজ্জল থাকে, নকলটা হয় অনুজ্জল, টাকার উপরে বঙ্গবন্ধুর ছবির বাম পাশে সোনালী রংয়ের সুতো থাকে, নকল টাকা হলে ঘষা-মাজা করলে এটি ওঠে যাবে, আসল হলে ওঠবে না। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বোঝার জন্য আসল টাকায় কাটা কাটা থাকে, নিচে গোল গোল থাকে ঘষলে হাতে লাগে, কিন্তু নকল টাকায় তা থাকবে না।

দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগে জাল টাকার ছড়াছড়ি বাড়ে, তারা শুনেছেন জাল টাকার ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, এরা টাকা তৈরির মেশিন এমনভাবে বা এমন এলাকায় রাখে যাতে কোন ভাবেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা না পড়ে, সুনামগঞ্জে এসব মেশিন সীমান্ত এলাকায়ই থাকে বলে শুনেছেন তারা, যারা টাকা তৈরি করে (অর্থাৎ মেশিন যাদের কাছে থাকে) তারা সব সময় অন্তরালে অর্থাৎ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তাদের কাছ থেকে টাকা অন্যরা বাজারে ছাড়ার জন্য নিয়ে আসে, পরে এই চক্রের কাছ থেকে এক লাখ টাকার নোট ২৫ হাজার টাকায় কিনে আনে আরেক চক্র, শেষে নানা কৌশলে আরেকটি গ্রুপ এগুলো বাজারে ছাড়ে’।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আমি শুনেছি এক লাখ টাকার জাল নোট ৩০ হাজার টাকায় কিনে আনে এবং যখনই কেনাকাটা বাড়ে, তখনই জাল নোট বাজারে ছাড়া হয়, বিশেষ করে কুরবানীর ঈদের আগে জাল টাকা ছাড়া হয়। এবার আমরা জাল নোট সনাক্তকরণের মেশিন বড় বড় বিপণির পাশে রাখবো, সন্দেহ হলেই ব্যবসায়ীরা যাতে সনাক্ত করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখবো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: