সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বালাগঞ্জে চাচাদের হাতে ভাতিজা নিহতের ঘটনায় মামলা নিতে বিলম্বের অভিযোগ (ফলোআপ)

d13d93d1-6f36-4fca-97d7-a68f3f82329cবালাগঞ্জ প্রতিনিধি:
বালাগঞ্জে চাচাদের নির্মম পিটুনীতে নিহত যুবকের দাফন বৃহস্পতিবার রাতে তার পারিবারিক করবস্থানে সম্পন্ন করা হয়েছে। চাচা নামক নরপিশাচদের নির্যাতনে নিহত যুবকের নাম শরিফুল মিয়া (১৮)। সে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের করছার গ্রামের নাজিম মিয়ার ছেলে। উল্লেখিত ঘটনায় বালাগঞ্জ থানার পুলিশ মামলা দিতে অনিহা ও কালক্ষেপন করছে বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

তবে, বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার শুক্রবার সন্ধায় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-নিহত যুবকের স্বজনরা আমার কাছে এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নী, লিখিত অভিযোগ পেলে হত্যা মামলা রুজু করা হবে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে-সোমবার সন্ধার পরে পারিবারিক কলহের জের ধরে নিহত শরিফুলের পিতার চাচাত ভাই পাশ্ববর্তী ঘরের বাসিন্ধা মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে ছুরাব, আবুল, বাবুল, বোদন, ফেছন মিলে শরিফুলকে মেরে রক্তাক্ত করে বাড়ীর পাশের একটি রাস্তার মধ্যে ফেলে আসে।

মারত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শরিফুলকে উদ্ধার করে রাতে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শরিফুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু শরিফুলের চাচারা তাদের লোকজন দিয়ে শরিফুলকে বাড়ীতে নিয়ে আসে বলে অভিযোগ উটেছে। শরিফুল সারা রাত অজ্ঞান অবস্থায় রক্ত ভমি করে। পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে নিকট আত্মীয়রা শরিফুলকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থীয় শরিফুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। লাশ পড়ে থাকে ওসমানী হাসপাতালের মরচুয়ারীতে।

মঙ্গলবার রাতে শরিফুল মারা গেলেও নিজেদের দায়িত্বশীল লোকজনের অভাবে দু’দিন পর সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতে লাশ গ্রামের বাড়ীতে আনা হলে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। নিহত শরিফুলের অপন চাচাত ভাই খোকন মিয়া জানান, সোমবার সন্ধা সাড়ে সাতটার দিকে নিহত শরিফুলের পিতা ও তার ভাইদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারামারীর সুত্রপাত ঘটে। শরিফুলের পিতা এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মাছ ধরার কুছা দিয়ে শরিফুলের বড় ভাই শহিদুলের উরুতে আঘাত করলে তা অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। এমতাবস্থায় শরিফুলের পিতার চাচাত ভাই মৃত কমর উদ্দিনের ছেলেরা শরিফুলের পিতার পক্ষাবলম্ভন করে তাকে উস্কানী দিয়ে আরও মারমুখী ও হিংস্্র করে তুলে। তখন শরিফুল তার পিতাকে নিভৃত করার জন্য এগিয়ে যায়।

এসময় শরিফুলের পিতার পক্ষ নেয়া পিতার চাচাত ভাইদের সাথে শরিফুলের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শরিফুলের পিতার পিটে ধারালো দা’র আঘাতে কিছুটা আঘাত প্রাপ্ত হয়। শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়ার শরীরে আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার সাথে-সাথেই পিতার চাচাত ভাইয়েরা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুলকে জোরপুর্বক টেনে হেছড়ে ঘরের ভিতর ধরে নিয়ে ৪-৫ জন মিলে ষ্টিালের ম্যাগলাইট (টর্চলাইট) দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ী আঘাত করলে মারাত্মক ভাবে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তারা শরিফুলকে বাড়ীর সামনের রাস্তায় নিয়ে আরেক দফা মেরে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পাশে অর্ধেক দেহ পানির মধ্যে রেখে ফেলে আসে। এদিকে নিহত শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া (৬০) ও আহত অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গ্রামবাসীরা জানান-নিহত শরিফুলরা ৫ ভাই। তাদের মা মারা গেছেন প্রায় বছর দেড়েক আগে। কিছু দিন পুর্বে শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া গ্রামের এক বাক প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে (৩ সন্তানের মা) কৌশলে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া কয়েক দিন পরেই ধান, চাল ও টাকা-পয়সা নেয়ার জন্য বাড়ীতে আসেন। এনিয়ে পিতার ২য় বিয়ের পর থেকেই শরিফুলদের সংসারে অশান্তি দেখা দেয় এবং মাঝে-মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: