সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিশু জয়ী অপহরণের ৩ বছর: মূলহোতা শংকর ফের গ্রেপ্তার

111 copyস্টাফ রিপোর্টার::
চার বছরের শিশু কন্যা স্নিগ্ধা দেব জয়ী অপহরণের ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত শংকর দামকে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ শংকরকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করলে শংকরকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন বিচারক।

অপহরণ হওয়া জয়ীর বাবা জানান, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে শংকেরর জামিন বাতিলের আবেদন করেন। একই বছরের ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শংকরের জামিন বাতিল করার নির্দেশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ শংকরকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর ভাঙ্গাটিকর নবীন ২৬ নম্বর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, শংকরকে গ্রেপ্তারের আদেশের কপি গত বুধবার হাতে পেলে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জয়ীর পরিবার সূত্র জানায়, অপহরণ হয় প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ২১ জুলাই সিলেট নগরীর শেখঘাট ভাঙাটিকর এলাকার বিজন বিহারী দামের নবীন ৩৪/৩ বাসা থেকে বেলা ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যেই সে নিখোঁজ হয়। পুলিশ প্রশাসনের দীর্ঘ তদন্ত, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, আর জয়ীর মা-বাবার অভিযোগের তির ছিল একই দিকে। জয়ীর মা-বাবা বলছেন, জয়ীকে অপহরণ করে শংকর, অনিতা ও রবিউল নিঃসন্তান কোনো পরিবারের কাছে বিক্রি করেছেন। তাই তাদেরকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জয়ীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

স্কুল শিক্ষক সন্তোস কুমার দেব ও সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজস্ব শাখায় অফিস সহকারী শর্বানী দেব তুলির একমাত্র মেয়ে স্নিগ্ধা দেব জয়ী। জয়ীর বাবা সন্তোস কুমার দেবের বড় মামার ছেলে শংকর অপহরণের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত। প্রথমদিকে পুলিশের দাবি ছিল, শংকর আর অনিতাই জয়ী অপহরণের মূল অভিযুক্ত। তাদের আরেক সহযোগী হলেন, কাজিরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী রবিউল। এদের মধ্যে জয়ী অপহরণ মামলায় শংকর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান গত ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর তিনি গত ১১ নভেম্বর ফের একটি হত্যা মামলা কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। এছাড়া জয়ী অপহররেন দিন শংকর ও অনিতা একসাথে ছিলেন। তারা ভারতে একটি নাম্বারে ২ জনই কথা বলেছেন। জয়ী অপহরণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে শংকর ও অনিতা একে অপরের সাথে ৪২ বার মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এমন তথ্য পুলিশ প্রশাসন প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটন করে।

অপরদিকে, জয়ী অপরহরণ মামলায় আরেক অভিযুক্ত অনিতা নগরীর শেখঘাট ভাঙাটিকর এলাকার গোপীনাথ আখড়ার সেবায়েত রামেন্দ্র ভট্টাচার্যের মেয়ে অনিতা ভট্টাচার্য। প্রায় ১২ বছর আগে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও আলীশারকুল এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক কিশোর ভট্টাচার্যের সাথে বিয়ে হয়। অনিতা নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবিকার সহকারীর দায়িত্ব পালন করতেন। বিবাহিত অনিতা স্বামীর বাড়িতে না থেকে বেশিরভাগ সময়ই থাকতেন ভাঙাটিকর এলাকার ইত্যাদি পয়েন্টে বাসা ভাড়া করে। ওই বাসায় তার সাথে প্রায়ই থাকতেন শংকর। অনিতা ২/৩ বছর নিরাময় পলিক্লিনিকে সেবিকার দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক উজ্জ¦লের।

অবশ্য উজ্জ¦ল অনিতার বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। বিয়ের আগে ভাঙাটিকর এলাকায় এক যুবকের সাথেও প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। জয়ীর বাবা সন্তোস কুমার দেবের জিডিকে সামনে রেখে তদন্ত চলছিল। তবে তদন্তের অগ্রগতি ছিল না তেমন। জয়ী নিখোঁজের দীর্ঘদিন পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই সিরাজুল ইসলামকে। তখন এসআই সিরাজ মামলার তদন্ত শেষে গত ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সোলেমানপুর গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে কাজিরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রবিউলকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তারের পর রবিউল ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রবিউল জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন শংকরের কোলে ‘তুলির বাচ্চা’কে দেখে তাঁর সন্দেহ হলে তিনি শংকরের পিছু নেন। শংকর শিশু জয়ীকে নিয়ে নৌকায় ওঠেন। নৌকাযোগে সুরমা নদী পেরোনোর পর শংকর শিশুটিকে তুলে দেন নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের নার্স ভাঙাটিকরের অনিতা ভট্টাচার্যের হাতে। তখনই শংকরের চোখ পড়ে রবিউলের দিকে। ভয়ে চমকে ওঠেন শংকর। তখন শংকর কাউকে কিছু না বলার জন্য রবিউলকে ২ হাজার টাকা দেন। এরপর রবিউল ফিরে আসেন শেখঘাটের বাড়িতে। পরদিন আবার শংকরের সঙ্গে দেখা হয় রবিউলের। ওই দিন শংকর রবিউলকে আরো ৫ হাজার টাকা দেন। ওই দিনও তিনি রবিউলকে অনুরোধ করেন বিষয়টি যেন কাউকে না জানান। রবিউল ও শংকরের জবানবন্দি অনুযায়ী কললিস্টের সূত্রধরে পুলিশ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আলী শাহরকূল গ্রামে অভিযান চালিয়ে অনিতার স্বামী কিশোর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করে। স্বামী কিশোরের তথ্যমতে পুলিশ অনিতার স্বামীর বাড়ি থেকে প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল সীমান্তবর্তী রাবার বাগান এলাকার টিলার উপরে রতিশ বাবুর বাড়ি থেকে অনিতাকে গ্রেপ্তার করে।

শিশু জয়ীকে অপহরণের পর পুলিশের কললিস্টের সূত্র ধরে জানতে পারে, অপহরণের দিন অনিতা ও শংকর বেলা ৪টা ৩ মিনিটে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় এক সাথে ছিলেন। তারা ওই দিন ভারতের একটি নাম্বারে ২ জনই তাদের মোবাইল ফোন থেকে কথা বলেছেন। এছাড়া জয়ী অপহরণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে অনিতা ও শংকর একে অপরের সাথে ৪২ বার কথা বলেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত করছে সিআইডি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: