সর্বশেষ আপডেট : ৫১ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জুয়ার আসরে সব হারাচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসিরা

M_Shashআন্তর্জাতিক ডেস্ক ::  ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু…’। বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো সহায়-সম্পত্তি, বিটেবাড়ি বিক্রি করে মাতৃভূমি তথা মা-বাবা পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায় আর্থিক সচ্ছলতা ও একটু সুখের আশায়। আর বিদেশে এসেই খুব দ্রুত অর্থ উপর্জনের জন্য প্রবেশ করে অন্ধকার দুনিয়ায়। পরিবার পরিজনের কথা না ভেবে উপার্জিত কষ্টের অর্থ বিলিয়ে দেয় জুয়ার আসরে, ফিরে নিঃস্ব হয়ে। অন্যদিকে প্রিয় সন্তানকে নিয়ে দেশে থাকা মা-বাবার স্বপ্নগুলো শুধু স্বপ্নই থেকে যায়।

মরিশাসে কেসিনো বা জুয়া খেলার প্রতিষ্ঠানগুলো রমরমা ব্যবসা করে ওইসব যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। বাংলাদেশি যুবকরা সারা মাসের কষ্টের উপার্জিত অর্থ বিলিয়ে দেয় জুয়ার ঘরে। পুরো মাসের বেতন হারিয়েও তারা ক্ষ্যন্ত হয় না, নিজের এটিএম কার্ড এমনকি পাসপোর্ট অন্যের কাছে জমা দিয়ে অতিরিক্ত সুদে টাকা ধার নিয়েও জুয়া খেলতে দেখা যায় অনেক বাংলাদেশিকে।

অবশেষে সবকিছু হারিয়ে তাদের মাথায় লাখ লাখ টাকা ঋণের বোঝা। বছরের পর বছর কাজ করেও সেই ঋণ শোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে বাবা-মায়ের আয়ের উৎস একমাত্র সন্তান দেশেও টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তখন দুঃখ আর কষ্টকে সঙ্গী করে নীরবে চোখের জল ফেলানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না পরিবারের মানুষগুলোর। কেউ আবার বাবা-মায়ের কাছে মিথ্যা বলে বাড়ি থেকে জায়গা-জমি বিক্রি করে টাকা এনেও সেই সুদের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও উচ্চমূল্যের সেই সুদ পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

এদিকে কোম্পানির কাজে প্রতি অমনোযোগী হওয়া, ঠিকমত না ঘুমানো, চিন্তায় মনোবল দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং বারবার অসুস্থতার কারণে কাজের অনুপযোগী হয়ে পড়েন অনেকেই। কোম্পানিও কন্ট্রাক শেষে তাদের সঙ্গে রি-কন্ট্রাক করাতে আগ্রহী হয় না। তাই কন্ট্রাক শেষে বাধ্য হয়েই তাদের দেশে ফিরে যেতে হয়। ফলে তাদের জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ পরিনতি।

কেসিনোর নেশায় পড়ে আজ নিঃস্ব, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক বাংলাদেশি জানালেন তার দুঃখের কাহিনী। বাংলামেইলকে তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি মরিশাসে রয়েছেন। প্রথমে কেসিনো বা জুয়া কি তিনি জানতেন না। আগ্রহ থেকে তার এক বন্ধুর সাথে তিনি প্রথম কেসিনো খেলা দেখতে যান। তারপর থেকেই শুরু হয় তার অন্ধকার জগৎ।

প্রথমে নিজের টাকায় খেলা শুরু, তারপর ধার করে। কিন্তু পরবর্তীতে ধার না পেয়ে সুদে টাকা নেন জুয়া খেলার জন্য। তাতেও হয়নি, অবশেষে এটিএম কার্ড ও পাসপোর্ট জমা দিয়েও টাকা নেন তিনি। আজ তিনি কয়েক লাখ টাকা দেনা। মা-বাবাকে ম্যানেজ করে বাড়ির জায়গা বিক্রি করে কয়েক ধাপে টাকা এনেও সব ঋণ পরিশোধ হয়নি।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পর আমার কন্ট্রাকও শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশে যাওয়ার জন্য আমার কাছে কোনো টাকা নেই।’

কন্ট্রাক্ট শেষে কোম্পানি রি-কন্ট্রাক করাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না। তারা আমাকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করেছে। কিন্তু তাতে কান দেইনি। জুয়া খেলা চালিয়ে গেছি। কিন্তু আজ আমার আর কিছুই নেই। আমি নিঃস্ব।’

সবশেষে এ কথাই যেন সত্যি হয়ে ফিরে আসে- অর্থ অনঅর্থের মূল। সূত্র : বাংলামেইল

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: