সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত: গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ!

6063ff752276a9d2fb0796a614d5ab8f-copyস্টাফ রিপোর্টার::
নগরীর টিলাগড়ের মাদানীবাগ এলাকায় দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হওয়ার পর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠেছে। নিহত অরজিৎ রায়ের ভাই রনজিৎ রায় প্রাইভেট কারের মালিক মোহাম্মদ মিনুকে অভিযুক্ত করে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তাতে আপত্তি জানায় বলে অভিযোগ তাঁর।

এর আগে মোহাম্মদ মিনুকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে শাহপরান থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির মালিক গাড়িতে থাকলেও গাড়িটি চালক শহিদ আহমদ চালাচ্ছিলেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নিহতের পরিবারের দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় মোহাম্মদ মিনুই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন দুর্ঘটনার জন্য প্রাইভেটকারের চালকই দায়ী। বেপোরয়া গতিতে কারটি রাস্তার ডানপাশে সরে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে আঘাত করে। নিহত হন দুজন অটোরিকশার যাত্রী।

গত মঙ্গলবার মাদানীবাগে প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের প্রসাশনিক কর্মকর্তা অরিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রী শিক্ষিকা সুমিতা দাস। এই ঘটনায় আহত হয় তাদের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে অরুনিমা রায় স্নেহা।

অরজিৎ রায়ের ভাইর রনজিত রায় বলেন, আমি প্রাইভেটকারের মালিক মোহাম্মদ মিনুকে আসামী করে মামলা করতে বুধবার শাহপরান থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু থানার কর্মকর্তারা গাড়ির মালিককে আসামী না করতে বলেন। আমি রাজী না হওয়ায় বুধবার মামলা হয়নি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (গতকাল) পুলিশ আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে একটি এজাহারে স্বাক্ষর নেয়। যাতে আসামী হিসেবে গাড়ির মালিকের নাম ছিলো না।

এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সি বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এখন থানার বাইরে আছি। তাই কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তা বলতে পারবো না।

এরআগে গত বুধবার নিহত সুমিতা দাসের ভাই পার্থ প্রতিম দাস বলেছিলেন, ‘প্রতক্ষ্যদর্শীরা আমাদের জানিয়েছেন গাড়ির মালিক নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে আটক করেও ছেড়ে দেয়’।

তবে আটকের খবর অস্বীকার করে শাহপরান (রঃ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি বলেছিলেন, ‘আমরা কাউকে আটক করিনি, দুর্ঘটনার পর গাড়ির মালিক নিজেই আমাদের কাছে এসেছিলেন। গাড়িটি তাঁর চালক চালাচ্ছিলেন, সে পালিয়ে গেছে। তাই গাড়ির মালিককে আমরা আটক করিনি।’
যদিও গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে পুলিশের ভ্যানে বসা রয়েছেন গাড়ির মালিক মোহাম্মদ মিনু। একজন পুলিশ সদস্য তাকে পাহারা দিচ্ছেন। মিনুকে আটক করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন ওই পুলিশ সদস্য।
প্রাইভেটকারটির মালিক শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মিনু বলেন, ‘গাড়িটি আমার চালক শহীদ চালাচ্ছিল, আমি সামনের সিটে বসে ছিলাম।’ নিহত অরিজিৎ-সুনিতা দম্পতি তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্নেহা আমার মেয়ের ক্লাসমেট। এই ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত। তবে আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম বলে যেসব গুজব ছড়িয়েছে তা ভিত্তিহীন’। সেই চালক এখন কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলে, ‘সে তো সাথে সাথেই ভাগছে, ওর বাসা আমার বাসার সামনেই’।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৭ জুন) সকালে নগরীর মদনীবাগ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্নেহার বাবা স্কলার্স হোম (শাহী ঈদগাহ শাখা) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিৎ রায় (৫০) ও মা দক্ষিন সুরমার মহালক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস (৪৫)। এ দুর্ঘটনায় তাঁদের একমাত্র সন্তান অরুনিমা রায় স্নেহা (১২) গুরুতর আহত হয়। স্নেহা স্কলার্সহোমের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: