সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে পৃথক ৫টি সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, এক ব্যক্তির রহস্যাবৃত মৃত্যু

2.-daily-sylhet-sanggarsho-news1জাহঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাতক::
ছাতকে পৃথক ৫টি সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। সংঘর্ষের পর এক ব্যক্তির মৃত্যু কে কেন্দ্রকরে রহস্যোর সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে জল্পনা-কল্পনা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে ৩ জন আহত। সংঘর্ষে আহত বাবরু মিয়ার পুত্র নুর উদ্দিন (৩৫), মৃত রহিদ আলীর পুত্র জালাল উদ্দিন (৫৫), আজমান আলীর পুত্র আতিক হাসান(২২)কে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালে।

স্থানীয়রা জানান, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জালাল উদ্দিন ও ইউপি চেয়ারম্যান বিল¬াল আহমদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমেরতল গ্রামের আজমান আলীর বাড়িতে একটি বৈঠক শেষে বাড়ি ফিরছিলেন জালাল ও নুর উদ্দিন। ছাতক-জাউয়া সড়কে আমেরতল মসজিদের কাছে পৌছা মাত্র একটি সিএনজি যোগে অস্ত্র নিয়ে এসে একই গ্রামের লিটন, শুকুর আলীর নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা চালানো হয় বলে জানান জালাল উদ্দিন। ইউপি চেয়ারম্যান বিল¬াল আহমদ জানান বিকেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে বুধবার ছাতক শহরের বাশখলা, চরেরবন্দ, কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা বাজার ও করছখালী গ্রামে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অন্তত ১০জনকে ভর্ত্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চুরি করা বৈদ্যুতিক তার নিয়ে বাশখালা এলাকার মৃত চমক আলীর পুত্র মনির মিয়া ও কামাল উদ্দিনের পুত্র ইসহাক মিয়া পক্ষ দ্বয়ের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে মহিলাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ ব্যাক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ইসহাক মিয়া(২৭) ও মাসুম রানা(১২) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পেপার মিলের পরিত্যক্ত শ্যামলী কলোনীর একটি বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় বাশখালা এলাকার পারভেজ, সুজন ও জুয়েলসহ সহযোগিরা চুরি করা বৈদ্যুতিক তার থেকে তামার অংশ বের করতে বৈদ্যুতিক তারে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা নিয়ে ইসহাক আলীর সাথে পারভেজ ও তার সহযোগিদের কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রামের গন্যমান্যদের মধ্যস্থতায় তাৎক্ষনিক সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রন করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে বিকেলে উভয় পক্ষ রন সাজে সজ্জিত হয়ে পেপারমিল মাদ্রাসা মাঠে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে মহিলাসহ উভয় পক্ষের ২০ব্যক্তি আহত হয়।

ইফতারের পূর্ব মুহুতে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রিত হলে গ্রাম সংলগ্ন একটি মোকামের কাছে সংঘর্ষে জড়িত থাকা সুমন মিয়ার মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় গ্রামের লোকজন। সুমনের পরিবারের লোকজন তাকে ছাতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এসময় সুমনের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে ঘারের পিছনে কালচে দাগ দেখতে পাওয়া যায়। সুমন শাসরুদ্ধ অবস্থায় মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে পুলিশ। ইসহাক মিয়া পক্ষের দাবী সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষরা সুমনকে ধরে নিয়ে গলায় গামছা পেছিয়ে শাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। অপর পক্ষের লোকজন বলছেন, নিজ গৃহে ফাঁস লাগিয়ে সুমন মিয়া আত্মহত্যা করেছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আত্মহত্যার ঘটনাকে হত্যা বলে প্রচার করছে তারা। সংঘর্ষে আহত মোহনমালা(৩৫), কামাল মিয়া(৬০), মনির মিয়া(৫২), শাহানারা বেগম(২৮), আনফর আলী(৫০), সুজন মিয়া(২০), জাকারিয়া(১৪)সহ অন্যান্য আহতদের ছাতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার এসআই চম্পক দাম জানান, শরীরে বড় রকমের কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়া কোন কিছু বলা যাবে না। এদিকে ষ্ট্যান্ড নিয়ে বুধবার সকালে কালারুকা বাজারে অটোটেম্পু শ্রমিকদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০শ্রমিক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত জহির আলী(২০) ও বিল্লাল মিয়া(২০)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যান্যদের ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পৌর শহরের চরেরবন্দ এলাকায় ভুমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’ পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ ব্যক্তি আহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় চরেরবন্দ এলাকায় এ সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গাছের ডাব পারাকে কেন্দ্র করে কালারুকা ইউনিয়নের করছখালী ও আকুপুর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় গ্রামের ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

স্থানীয়রা জানান, গাছের ডাব পারা নিয়ে আকুপুর গ্রামের আলতাব আলী পক্ষ ও করছখালী গ্রামের আরকান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে উভয় গ্রামের লোকজন তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ফয়জুর রহমান(৩২) ও সোহরাব আলী(২৩)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে মুহিবুর(২৮), আলতাব আলী(৬০), কাউসার(২০)মানিক আলী(৩৫) আরকান আলী(৭০), জুনেদ(২৫), আবু আহমদ(২০), আলী হোসেন(৭০) ছাতক ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: