সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে কাজের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে একাধীকবার ধর্ষন : অতঃপর …

f005484e-a4ed-4ce5-86b8-5e7bcfb58bdaমতিউর রহমান মুন্না::নবীগঞ্জের পল্লীতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কাজের মেয়েকে একাধীকবার ধর্ষন অতঃপর যুবতীর সন্তান প্রসবের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। গৃহকর্তার খোরাক হতে চেয়েছিলেন হতদরিদ্রা মনিরা বেগম। অবশেষে লম্পট গৃহকর্তার কূ-নজরে পরে অসহায় মনিরা এখন সতীত্ব লড়াই করছেন। মনিরা সামাজিকভাবে বিচারপ্রার্থী হয়েছিলেন এ নিয়ে সময় কালক্ষেপন হয়েছে। কোনো সুরাহা হয়নি। অবশেষে আদালতের দারস্থ হয়েছেন মনিরা বেগম ও তার মা। তদন্তের জন্য বর্তমানে তার মামলার ফাইলটি পরে আছে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে।

ধর্ষক মিতাউরে কুঠির জোর কোথায় এমন প্রশ্ন এবার সচেতন মহলে..? তবে সঠিক বিচার পাবেন কি না এমন চিন্তায় আছেন হত দরিদ্রা পরিবার।
মনিরা বেগমের বয়স ১৭ পেরিয়েছে। পিতার নাম ছুরত আলী। বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের ভরপুর গ্রামে। ছুরত আলী পেশায় দিন মজুর। নুন আনতে পান্তা পুরায় তার। তার আয়ের টাকা দিয়ে সংসারের খরচ ও ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার খরছ চালাতে হিমসিম খেতে হয়। এমনতবস্থায় একই গ্রামের বাসিন্দা নিকটাত্মীয় মিতাউর রহমানের স্ত্রী নাজিমা বেগম তাদের পারিবারিক কাজে সাহায্য করার জন্য মনিরা বেগমকে নিতে চায়। মনিরা বেগমকে নাজিমার বাড়িতে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তালেব উদ্দিন ও দিলারা বেগম। নাজিমা বেগম গ্রাম সর্ম্পকে মনিরার খালা। মনিরার মা আফিয়া বেগম তার মেয়েকে তার খালা নাজিমা বেগমের বাড়িতে পাটিয়ে দেন। নাজিমা বেগমের বাড়িতে তার স্বামীসহ অনেক লোক বসবাস করেন। মনিরা বেগমও সুন্দরভাবেই কাজ করছিল তাদের গৃহে। এর কিছুদিন পর থেকেই মনিরার উপর কূ-নজর পরে গৃহকর্তা মিতাউর রহমানের। মিতাউর প্রায়ই মনিরার সঙ্গে কূ-ভঙ্গিমায় কথাবার্তা বলতো। এমনকি মুনিরার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে ঢংগের ছলে হাত দিতো। কিন্তু মনিরার বয়স কম সে মিতাউরকে খালু বলেই খুবই সম্মান দিতো। তার কূ-ভঙ্গিমাকে পাত্তা দিতো না। সে ভাবেনি তার সাথে এমন করবে তার খালু। মনিরাও কাউকে বলেনি এসব কথা। আর কে ই বা জানতো মিতাউর কাল হয়ে দারাবে মনিরার জীবনে।

১ম ঘটনাটি ঘটে ১২/০৮/২০১৫ইং তারিখে। মনিরা ও মিতাউররা পৃথক রুমে ঘুমায়। রাত প্রায় ২টার দিকে মনিরা ঘুমন্ত অবস্থায় কৌশলে তার রুমে ডুকে পরে মিতাউর মনিরাকে ধর্ষনের জন্য ঝাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এতে মনিরার পড়নের সেলুয়ার কামিজের অনেক অংশ ছিড়ে যায়। মনিরা বেগম জানায়, হাত দিয়ে গামছা ধারা মুখে চাপ দিয়ে ধরার কারণে সে চিৎকার করতে পারেনি। পরে মনিরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে মিতাউর। এতে অনেকটা আহত হয়ে পড়ে মনিরা। ধর্ষনের পরপরই মিতাউর রহমান মনিরাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মনিরাকে ধর্ষনের বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বলে। আর বললে মনিরার অপূরনীয় ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। এতে ভয় পেয়ে যায় গ্রামের হত-দরিদ্রা পরিবারের সহজ সরল মেয়ে মনিরা বেগম। তার সাহেবের হুমকির ভয়ে ঘটনাটি আর কাউকে খূলে বলেনি। কিন্তু এতে আরো সুযোগ পায় লম্পট মিতাউর। কোন রাতই সুযোগ হাত ছাড়া করেনি সে। প্রায় নিয়মিত বিয়ের প্রলোভনে ফুসলিয়ে মনিরাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। ০৫/০৯/১৫ ইং তারিখে মনিরা বেগম তার নিজ বাড়িতে গিয়ে তার মা আফিয়া খাতুনকে সমস্ত বিষয়টি খুলে বলে এসময় তিনি হতভম্ব হয়ে পরেন। ওই দিনই আফিয়া বেগম নাজিমার বাড়িতে যান এবং মিতাউর মা বাবাসহ পরিবারের সকলকে বিষয়টি খুলে বলেন। একপর্যায়ে মিতাউর মনিরাকে খুব শীঘ্রই বিয়ে করবে বলে আশ^স্থ করে এবং মনিরাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে তিনি মেয়ে মনিরাকে নিয়ে বাড়িতে আসেন আর বিয়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এর কয়েক পর থেকেই মিতাউর কে এলাকায় দেখা যায় না পরে তার পরিবারের লোকজন জানান সে বাহিরে চাকুরীতে আছে। এভাবেই বিয়ের সময় কালক্ষেপন করতে থাকেন মিতাউরের পরিবারের লোকজন।

এদিকে মনিরার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তার মা তাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নবীগঞ্জ শহরে হেল্থ কেয়ার ডায়গনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে ১০/০১/১৬ইং তারিখে আলট্রাসনোগ্রাম করান। আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী আফিয়া বেগম জানতে পারেন মেয়ে মনিরা ১৯ সাপ্তাহের অন্তঃস্বত্তা। ওই দিনই তিনি রিপোর্টটি নিয়ে মিতাউরদের বাড়িতে যান এবং তার মা বাবাকে দেখান। এসময় মিতাউরের বাবা তালেব আলী ও মা দিলারা বেগম তাকে গালিগালাজ করেন এবং কিছু টাকা পয়সা নিয়ে গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করার জন্য বলেন। তা না হলে তাদেরকে এই গ্রামে আর থাকতে দেওয়া হবেনা বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনতবস্থায় তারা জানতে পারেন মিতাউর দেশের বাহিরে চলে গেলে। এতে কোন উপায় অন্তর না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হত দরিদ্র দিন মজুর ছুরত আলী ও আফিয়া বেগম তাদের আত্মীয় স্বজনসহ গ্রামের মুরুব্বিয়ানদের ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনাটি জানান। বিচার প্রার্থী হন নিরহ পরিবার। এতেও কোন সুরাহা না পেয়ে তারা নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কতৃপক্ষ কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। অবশেষে আফিয়া বেগম বাদি হয়ে মেয়ের পক্ষে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭৬/১৬। মনিরার আবেদনটি আমলে নিয়ে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন আদালত। মনিরার মা মামলার বাদি আফিয়া বেগম জানান, ডিবি পুলিশকে ৭ কার্য্য দিবশের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করার আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত, কিন্তু ৫ মাসেও প্রতিবেদন দাখিল করেনি ডিবি পুলিশ। তিনি বলেন, আমরা একাধীক দিন ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছি, পুলিশ বলে ডিএনএ টেষ্ট করবে, এই সেই বলে সময় ক্ষেপন করে। অপর দিকে এক নির্ভরযোগ্য এক সূত্রে জানাগেছে, মামলা দায়েরর পর প্রধান আসামী ধর্ষক মিতাউর রহমান গোপনে দেশে ছেড়ে ওমান চলে গেছে।
এদিকে, গেল মাসের ২৪ তারিখ হঠাৎ করেই সন্তান প্রসব করে মনিরা। তারকোল জোরে চলে আসে মিতাউরের কূ-কর্মের ফসল। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু। এলাকাজুরে চলছে নানা রসালো আলোচনা সমালোচনা। মিতাউরের কূ-কর্মের ফসল মনিরার গর্ভে ভূমিষ্ট হওয়া সন্তান বড় হয়ে পিতার পরিচয় কি দিবে..? এমনটাই প্রশ্ন জেগেছে জনমনে। ধর্ষক ও লম্পট ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে সঠিক শাস্তিদানের জন্য জোর দাবী জানান সহজ সরল হত দরিদ্র আফিয়া বেগম। এর পরও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন গাম্য মাতব্বররা। কিন্তু ব্যার্থ হন তারা। গতকাল পর্যন্ত বিষটি বিচার পক্রিয়াধীন ছিল বিষয়টি। বিবাদী পক্ষ ঘটনাটি স্বীকার করলেও বিচারের রায় মানেননি বলে জানান গ্রামের মুরুব্বিয়ান বৃন্দ। গতকাল ওই এলাকায় সরজমিনে গেলে পাওয়া যায় এসব তথ্য। মেয়ের ধর্ষনের বর্ণনা দিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আফিয়া বেগম।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি মিতাউরের পিতা তালেব উদ্দিন। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কিছু জানিনা, আমার ছেলে আমার কাছে নেই।” একপর্যায়ে তিনি বলে উঠেন “আমাকে আসামি করে মামলা যখন করেছে, তাহলে মামলায়ই জবাব দেব। এখন আর সালিসের কি দরকার।”

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: