সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এবার ক্রসফায়ারে জঙ্গিরা

0_115822নিউজ ডেস্ক : পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছিঁচকে সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, ডাকাত, নাশকতার মামলার আসামি বা অন্য দুর্বৃত্তের মৃত্যুর খবর আসে প্রায়ই। কিন্তু জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে আটকদের এই প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর উদাহরণ এতদিন ছিল না বললেই চলে। তবে চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেএমবি বা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দেশে এখন জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং এ কারণেই সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গত তিন দিনে অন্তত পাঁচজন জেএমবি সদস্য নিহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে। এদের সবাই একাধিক হত্যা এবং জঙ্গি হামলায় সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী এবং একই দিনে ঝিনাইদহে এক হিন্দু পুরোহিতকে হত্যার পর বাংলাদেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটি৷

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গাইবান্ধায় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে এক জেএমবি সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার ভোররাতেই ঢাকায় পুলিশের ক্রসফয়ারে নিহত হন নিাষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জাময়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সদস্য তারেক হোসেন মিলু ওরফে ইসমাইল এবং সুলতান মাহমুদ ওরফে রানা ওরফে কামাল৷

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদা ঢাকাটাইমসকে বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে। এসব অভিযান পরিচালনায় পুলিশকে গুলি করছে জঙ্গিরা, পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি করছে। এতে অনেকেই নিহত হচ্ছে। পরে জানা যায়- কেউ জেএমবি কেউ ডাকাত বা কেউ ছিনতাইকারী।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ডিআইজ মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘নিহত তারেক হোসেন মিলু ওরফে ইসমাইল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে৷ ওই ঘটনায় পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিল সে৷ দিনাজপুরে ইসকন মন্দিরে হামলার সঙ্গেও সে জড়িত ছিল৷ বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরেকজন সুলতান মাহমুদ ওরফে রানা ওরফে কামাল বগুড়া শিয়া মসজিদে গুলি চালিয়ে ১ জনকে হত্যা করে৷ এরা দুজনই জেএমবির সদস্য৷”

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল অধ্যাপক রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়৷ আর বগুড়ার শিয়া মসজিদে হামলা হয় গত বছরের ২৬ নভেম্বর ৷ তারপর ১০ ডিসেম্বর হামলা চালানো হয় ইস্কন মন্দিরে৷

মঙ্গলবার ভোর রাতে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামালউদ্দিন নামে জেএমবি’র আরেকজন সদস্য পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়৷ পুলিশের দাবি, জামাল উদ্দিন গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারার একটি মসজিদে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত৷

বুধবার ভোরাতে বগুড়ায় ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে জেএমবি’র আরেক সদস্য মো. কায়সার৷ সে-ও বগুড়ার শিবগঞ্জে গত বছরের ২৬ নভেম্বর শিয়া মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানায়৷

জানতে চাইলে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. শহীদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, পুলিশের দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে কখনও কখনও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসময় কেউ মারা যাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পুলিশের  বিশেষ অভিযান চলছে’।

এদিকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বম্ব ডিস্পোজাল টিমের প্রধান ও অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. ছানোয়ার হোসেন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ‘নতুন যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন৷ ছানোয়ার বাংলাদেশে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে একজন নির্ভরযোগ্য পুলিশ কর্মকর্তা৷

মঙ্গলবার তিনি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি আর জঙ্গি-ফঙ্গিতে নাই৷ অনেকেই তো পুলিশের চাকরি করে, কিন্তু সবাই কি জঙ্গি নিয়ে কাজ করে? করে না৷ তাহলে এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আমি কেন করবো? …. ঠিক এরকম একটি সিদ্ধান্তই দেখতে চেয়েছিল জঙ্গিরা৷ তাই শুনিয়ে দিলাম৷ তবে শুধু শোনানোর জন্য নয়, আমি আসলেই জঙ্গি নিয়ে আর কাজ করবো না৷ যেটা করবো সেটা হচ্ছে যুদ্ধ, যুদ্ধ করবো৷ আগে করতাম কাজ, এখন করবো যুদ্ধ৷… কাজের পরিবেশ তো আর নেই, যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেছে৷ পরিবারের নিষ্পাপ সদস্যের ওপর আঘাত, যুদ্ধ না তো কি? তাই এখন জঙ্গি নিয়ে কাজ মানেই যুদ্ধ৷’

প্রসঙ্গত, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে একই কায়দায় ৪৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ এতে নিহত হয়েছেন ৪৮ জন৷ তাদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্য এবং পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীও আছেন৷ গত আড়াই মাসে হত্যা করা হলো ১১ জনকে৷ এসব হামলার অনেকগুলোরই দায় স্বীকার করেছে আইএস ও আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের কথিত বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম৷ তবে সরকার বলছে, বিদেশি জঙ্গিরা নয়, এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে দেশীয় উগ্রবাদীরা। সূত্র- ঢাকা টাইমস

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: