সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশজুড়ে ‘ভুইফোঁড় লীগের’ দাপট!

20150524Nashirul-Islam-39-1024x336

নিউজ ডেস্ক:
দেশজুড়ে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ভুইফোঁড় রাজনৈতিক সংগঠন। নামের শেষে ‘লীগ’ বা নামের শুরুতে ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘বঙ্গমাতা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইত্যাদি শব্দ বসিয়ে হরেকরকম সংগঠন বানানো হচ্ছে। এসব দলের বড়বড় বিলবোর্ড ব্যানার রাজধানীর অলিগলিতে মূলত চাঁদাবাজি, তদ্বিরবাজি, ধান্ধাবাজি করতেই এসব সংগঠনের প্রতিষ্ঠা। এদের নেতারা সেইসব সংগঠনের পরিচয়ে সারাদেশ দাপটেও বেড়ান। তাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মূল দল আওয়ামী লীগ অনেকটাই নিস্প্রভ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত আট বছরে নাম সর্বস্ব প্রায় দেড় শতাধিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এদের কাজই হচ্ছে লীগ পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করা। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এরা চাঁদাবাজিও করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মূল দলে পদ না পাওয়ার ফলে দলের কতিপয় সিনিয়র নেতারাই নতুন সংগঠন খুলতে উৎসাহ দেন, কেউ কেউ দায়িত্ব নিয়ে এসব কমিটিও করে দেন। সিনিয়র নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব সংগঠন গড়ে ওঠায় তা বন্ধে উদ্যোগও নিতে পারছে না দলের হাইকমান্ড।

মঙ্গলবার রাজধানীর ডেমরায় ‘বাংলাদেশ শিশু-কিশোর লীগ’ নামে এরকমই একটি সংগঠনের ফেস্টুন দেখা যায়। তাতে সূর্যের ওপর ওপর একটি ফিডার এবং শিশুদের খেলনা দিয়ে একটি লগোও দেখা যায়। একপাশে বঙ্গবন্ধু, অন্যপাশে শেখ হাসিনার ছবি। ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মুন্সী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের সদস্যপদ পাবার যোগ্যতা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই শিশুলীগ করবে। আইনিভাবে শিশুদের নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা যায় কীনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এরকম কোন নিয়ম তিনি জানেন না। শিশুদের মাঝে আওয়ামী লীগের আদর্শ ছড়িয়ে দিতেই এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন বলে ফয়সাল জানান।

বাংলাদেশ আওয়ামী তৃণমুল লীগ নামে আরেকটি সংগঠন ব্যানার-পোস্টার করেছে। চার বছর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে দলের সভাপতি শাহেদুল আলম টিপু বলেন, আমাদের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। তিনি কখনও এ সংগঠনের পরিচয় দেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বলে কখনো আবার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বলে।

বাংলাদেশ আওয়ামী প্রচার লীগ নামের আরেকটি ভুইফোঁড় দলের বড় বড় বিলবোর্ড রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে দেখা যায়। এই দলটির সভাপতি শেখ ইকবাল। শেখ বংশের কেউ নন তবুও কৌশলী ইকবাল নামের আগে যোগ করেছেন ‘শেখ’ শব্দটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈধ আয় না থাকলেও ইকবালের বসবাস দামি ফ্ল্যাটে। ঘোরেন দামি গাড়িতে। চাকরি, বদলি, মামলা এমন কোনো কাজ নেই যা তার দ্বারা হয় না। গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ার সুবাদে প্রচার লীগের কথিত এই সভাপতি ইকবাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো রাজধানী। প্রভাব বিস্তারে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিতেও কার্পণ্য নেই তার।

প্রচার লীগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ব্যপক উন্নয়ন ঘটালেও সাধারণ মানুষের কাছে সেই তথ্য পৌছে না। আমরা আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কথা দেশের মানুষের কাছে পৌছে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে থাকি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের কর্মসূচী আসেন। ফলে আমাদের ভুইফোঁড় বলার সুযোগ নেই। আমরা আওয়ামী লীগেরই রাজনীতি করি।”

এরকম আরও কিছু সংগঠন: আমরা মুজিব সেনা, আমরা মুজিব হবো, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, আওয়ামী রিক্সা মালকি-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হর্কাস লীগ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ আওয়ামী যুব সাংস্কৃতকি জোট বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও চতেনা গবেষণা পরিষদ বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ বঙ্গবন্ধু একাডেমি বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরষিদ বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, চেতনায় মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ বঙ্গবন্ধু গবষেণা পরিষদ বঙ্গবন্ধু আর্দশ পরিষদ, বাংলাদশে আওয়ামী পর্যটন লীগ, ঠিকানা বাংলাদেশ, জনতার প্রত্যাশা, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, তৃণমূল লীগ, একুশে আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি, আওয়ামী প্রচার লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ আওয়ামী ছিন্নমূল হর্কাস লীগ আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, জননেত্রী পরষিদ, দেশরত্ন পরিষদ।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ। দলের গঠনতন্ত্রে এ ধরনের কোনও সংগঠনের ভিত্তি নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন বলেন, “আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত সংগঠন ছাড়া অন্যগুলো আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নেই। এসব সংগঠনের অধিকাংশই অসৎ উদ্দেশ্যে সুবিধা ভোগের জন্য গঠিত হয়েছে। অনেকেই সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। অধিকাংশই ক্ষমতায় আসার পর গজিয়ে উঠেছে। এদের কারণে আমাদের ভাবমূর্তী ক্ষুণ্ন হয়।এটা সত্যিই দুঃখজনক যে, আমাদের কোনও কোনও নেতা এসব সংগঠনের অনুষ্ঠানে যান। বক্তৃতা দিয়ে তাদের বাঁচিয়ে রাখেন।” সূত্র: পূর্বপশ্চিম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: