সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড়-টিলা কাটার মহোৎসব!

Barleka news daily sylhetজালাল আহমদ::
পরিবেশ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবাধে পাহাড়-টিলা কাটার আগ্রাসন চালাচ্ছে ‘পাহাড়-টিলাখেকোরা’। পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকায় এই অপকর্ম রীতিমতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের চোখের সামনেই ধ্বংস করা হচ্ছে পাহাড়-টিলা। রীতিমতো পাহাড়-টিলা কাটার উৎসব চলছে উপজেলার সর্বত্র। নির্বিচারে পাহাড়-টিলা কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়াও ত্বরাণি¦ত হচ্ছে।

এদিকে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পাহাড়-টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ বনাঞ্চল। বন্যপ্রাণিরা হারাচ্ছে আবাসস্থল। আবাসস্থল হারানোর ফলে প্রায়ই বাঘ, বানরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণি লোকালয়ে চলে আসছে এবং প্রাণ হারাচ্ছে এলাকাবাসীর হাতে। অবাধে পাহাড়-টিলা কেটে ফেলায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে এ উপজেলায়।

প্রতি বছর পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এক ঘণ্টার শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত আর কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি।

উপজেলার পাহাড়ি এলাকা সদর ইউনিয়নের ডিমাই, কেছরীগুল, গঙ্গারজল; দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের রাঙ্গাউটি; দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি’র বোবারথল, মোহাম্মদনগর, ছোটলেখা, ঘোলসা, চন্ডিনগর, মুড়াউল, অফিসবাজার; উত্তর শাহবাজপুর ইউপি’র বড়াইল, নান্দুয়া, পূর্ব বাণীকোণা, শ্রীধরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে পাহাড়-টিলা কাটা হলেও প্রশাসন যেনো যেসব দেখে না।

এসব পাহাড়-টিলার মাটি কাটতে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় শতাধিক ট্রাক্টর। এদের অধিকাংশই কাগজপত্রবিহীন। ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি বহন করায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও উপজেলা সদরের শহরের প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৌরসভার অভ্যন্তর দিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিনই ট্রাক্টর দিয়ে পাহাড়ি টিলার মাটি বহন করে নিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের নান্দুয়া এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে কেটে নেওয়া পাহাড়ের দৃশ্য। মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরের চাকার দাগ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেলো, এলাকার বাসিন্দা বশির আলীর ছেলে কমর উদ্দিন মাটি কাটাচ্ছেন।

একই ইউনিয়নের পূর্ব বাণীকোণা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুন নূরের বাড়ি থেকে পাহাড় কেটে মাটি নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি’র বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়কের পূর্ব পাশের চ-িনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে পাহাড়ি টিলার মাটি দিয়ে। মাটি ভরাট করাচ্ছেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রবাসী লাল মিয়া। মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত স্থানীয় ইউপি সদস্যার ছেলে ও ঠিকাদার আব্দুস শুক্কুর জানান, ‘আমরা তো মজুর মানুষ। ইলাতো অনেক জায়গায় মাটি কাটা চলের। পাহাড়ি-টিলার মাটি কেটে ফসলি জমি ভরাটের বিষয়ে পরিবেশ অদিদপ্তরের কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমার জানা নাই।’
উপজেলা সদরের পাথরিয়া পাহাড়ের ডিমাই এলাকার বিএসসি কেছরীগুল এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে টিলার মাটি কাটতে দেখা গেছে। মাটি কেটে ট্রাক্টরে তোলা হচ্ছে। এ সময় মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত এক মহিলা শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিন রাস্তা বড় করার জন্য টিলার মাটি কেটে সরাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ শ্রমিক বলেন, মাটিগুলো ইউপি সদস্য অন্যত্র বিক্রি করছেন।

সদর ইউপি’র গঙ্গারজল গ্রামের আমির মিয়া পাহাড়ি টিলার মাটি কেটে বিক্রি করছেন। স্থানীয় লোকজন তার মাটি বোঝাই একটি ট্রাক্টর আটক করে মাটি কাটতে বাঁধা দিলেও তাতে তিনি কর্ণপাত করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পাহাড়-টিলা কাটার বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরে ১০-১২টি মামলা প্রেরণ করা হয়েছে। প্রায়ই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই কিন্তু এর আগেই ওরা (মাটি কাটার সাথে নিয়োজিতরা) সটকে পড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: