সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সেলিম ওসমানের ভাগ্য নির্ধারণ বৃহস্পতিবার

adf20160608155853নিউজ ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনার সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ভাগ্য নির্ধারণ হবে বৃহস্পতিবার।

শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় হাইকোর্টের দেয়া রুলের বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ। আর শুনানির আগেই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির দেয়া প্রতিবেদন দাখিলের হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়া হয়। তাই নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন কি ধরনের প্রতিবেদন দাখিল করেন তা এখন দেখার বিষয়। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও ৯ জুন হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে, গত ২৯ মে রাষ্ট্রপক্ষ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির দেয়া প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করার পর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দায়সারা নয়’, আগামী ৮ জুনের মধ্যে তাদের আবারো ‘সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত’ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেছে, ডিসিসহ অন্যদের বলবেন, যেন দায়সারা গোছের প্রতিবেদন না দেয়। দায়সারা হলে আগামীতে এ রকম প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কুণ্ঠিত হবে না। বিষয়টি ৯ জুন আবারো আদালতে উঠবে জানিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে নিয়ে সারা দেশে যখন আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। তখন সেলিম ওসমানের অনুগামীরা ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য শ্যামল কান্তি ভক্তের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এমনকি কৌশলে আলেম ওলামাদের রাস্তায় নামিয়ে দেয়।

আলেম ওলামারা বলছে, শ্যামল কান্তি ভক্ত ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। দুই ধরনের তথ্য কোনোটা সঠিক হিসেবে নিবে আদালত তা দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ মে শ্রেণিকক্ষে রিফাত হাসান নামে এক ছাত্রকে মারধর করে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি। ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে স্থানীয় তিনটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে কয়েক হাজার লোককে ডাকা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠবস করান স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

দেশজুড়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল পর্যদের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তার পদে বহাল আছেন। নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেয়ায় ওই স্কুল কমিটিকেও মন্ত্রণালয় বাতিল করে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসীন রশিদ ১৮ মে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে ওই দিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না-তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাও আদালত জানতে চায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: