সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাজেট হুমকিতে চাকরিজীবীরা

4নিউজ ডেস্ক : প্রস্তাবিত বাজেটের করারোপ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে চাকরিজীবীদের। বেতন স্কেল ১৬ হাজার টাকা বা বেশি হলেই রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে। আর এটি নিয়েই এখন আতঙ্কে আছেন স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীরা। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপে রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এখন বাজেটে নতুন করের বোঝা তাদের জীবনধারণে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বাজেটে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে অযৌক্তিকভাবে স্বল্প আয়ের মানুষের ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা শুধু অযৌক্তিক নয়, অনৈতিকও। গতকাল সচিবালয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নতুন করারোপের বিষয়টি তাদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তারা বলেন, সন্তানের শিক্ষা ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা খরচ দেওয়ার পর যা থাকে তা দিয়ে এমনিতেই জীবন-যাপন করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাজেটে স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীদের হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি বেতন স্কেলভুক্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারীর জন্য কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাজেটের এই ঘোষণা নিয়েই স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে। বিদ্যমান করনীতি অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা হিসেবে ধার্য রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটেও এই করহার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ হাজার টাকা স্কেলে এক বছরের আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা, যা করমুক্ত আয়সীমার নিচে। অর্থাৎ এই আয়কর যোগ্য নয়। তাহলে কেন বাজেটে ১৬ হাজার টাকা সুনির্দিষ্ট করে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলো এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বিদ্যমান করনীতিতে কারা কারা করারোপের যোগ্য সেই বিষয়টি তো স্পষ্ট করা আছে। তাহলে নতুন করে বাজেট ঘোষণায় এ ধরনের কিছু উল্লেখ করার দরকার ছিল না। ১৬ হাজার টাকা বেতনের কর দেওয়ার বিষয়টি এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এমন মন্তব্য করে এই ব্যাংকার বলেন, এ ধরনের অযৌক্তিক কিছু চাপিয়ে দেওয়া হলে মানুষ কর প্রদানে নিরুৎসাহিত হবে। তারা রিটার্ন দাখিলও করবে না। বাজেটে করারোপের এই ঘোষণা নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আয় করযোগ্য তাদের জন্যই রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বাজেটে। এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে এনবিআর কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা হলেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ১২ মাসের মূল বেতন ও মাসিক মূল বেতনের সমান দুটি উৎসব ভাতা মিলে যাদের বছরে মূল আয় আড়াই লাখ টাকার কম হবে তাদের তখনই আয়কর দিতে হবে না। ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে মূল বেতন করযোগ্য মাসিক আয় ১৭ হাজার ৮৫৭ টাকা ২২ পয়সা বা এর বেশি হলেই ন্যূনতম আয়কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরতদের বছরে ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা, অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরতদের ন্যূনতম চার হাজার টাকা এবং অন্যান্য স্থানে কর্মরতদের ন্যূনতম তিন হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। নতুন বাজেটে শুধু যে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবীরা করের চাপে পড়বেন তাই নয়, এটি বেসরকারি খাতের স্বল্প বেতনে কর্মরতদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা করমুক্ত বলে তাদের শুধু মূল বেতনের ওপর কর দিতে হয়। অন্যদিকে বেসরকারি কর্মজীবীদের বেতন ও ভাতা দুটোর ওপরই কর দিতে হয়। ফলে বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদের বেতন ১৬ হাজার বা এর কম হলেও আয়কর এবং রিটার্ন জমা দিতে হবে। কারণ, তাদের বিভিন্ন ভাতার ওপর করারোপ করার বিধান রয়েছে। কোনো বেসরকারি চাকরিজীবীর বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা মাসে ২৫ হাজার টাকা হলে যেটি কম, সেটি বাদে অবশিষ্ট অংশের ওপর কর দিতে হবে। যাতায়াত ভাতা থেকে ৩০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকি অংশের ওপর কর দিতে হবে। বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি হলে চিকিৎসা ভাতার ওপরও কর দিতে হয়। এ ছাড়া ওভারটাইম ও সম্মানী বা বিশেষ ভাতার শতভাগের ওপর কর দিতে হয়। তবে বাড়িভাড়া ভাতার বদলে আবাসন সুবিধা পেলে, যাতায়াত ভাতার বদলে গাড়ি পেলে সেসব সুবিধার বিপরীতে কর দিতে হয় না। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি একটি এনজিওতে কর্মরত ফজলুল হক বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বেড়েছে। উপরন্তু তাদের প্রাপ্ত ভাতা করমুক্ত সুবিধা পায়। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা দুটোর ওপরই করারোপের বিধান থাকায় এটি আমাদের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করছে। একই বাজারে দুই নীতি থাকতে পারে না এমন মন্তব্য করে ওই বেসরকারি কর্মজীবী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মতো তাদেরও ভাতার ওপর করমুক্ত সুবিধা দেওয়া উচিত।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: