সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের ২৫ ইউনিয়নে সুরঞ্জিত অনুসারী ১১ বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়লাভ

1. daily sylhet 0-49আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ::
সুনামগঞ্জের ৪ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের ৬ষ্ঠ ধাপের নির্বাচনে বিজয়ী অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই বিদ্রোহী প্রার্থী। এসব উপজেলার মোট ২৬ টির মধ্যে ফলাফল ঘোষিত হয় ২৫টি ইউনিয়নের। এর মধ্যে সর্বাধিক ১১টি চেয়ারম্যানের পদে নির্বাচিত বিদ্রোহী প্রার্থীরাই আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির অনুসারী। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ৯টিতে এবং বিএনপি ৫ টিতে বিজয়ী হয়েছে।

“বানিজ্যের নাও ঠেকাও ” নীতির ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ ১ নির্বাচনী এলাকা জামালগঞ্জ তাহিরপুর ধর্মপাশা এবং সুনামগঞ্জ ৪ নির্বাচনী এলাকার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুরঞ্জিত সমর্থিত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারন ভোটাররা ব্যালট ভোটের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা চিকিৎসাধীন সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে তাদের প্রিয় প্রার্থীকে বাছাই করে পরে সিদ্বান্ত নিয়ে ব্যাতিক্রমধর্মী ব্যালট বিপ্লবের বহি:প্রকাশ ঘটান। দলীয় প্রার্থীরা মোটা অঙ্কের টাকা ব্যায়ের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনক্রমে সকল প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েও বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে ঠেকাতে পারেননি।

ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী,এমপি,প্রশাসক ও কেন্দ্র জেলা উপজেলা পর্যায়ের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরও সুরঞ্জিত প্রিয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের জনপ্রিয়তায় আঘাত হানতে পারেননি। ধর্মপাশা উপজেলায় বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের মনোনিত ৩ জন দলীয় প্রার্থীর মধ্যে সেলবরষ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আলাউদ্দিন শাহ পরাজিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামীলীগ মনোনিত অন্যান্য নৌকার প্রার্থীরাও একইভাবে পরাজয় বরনে বাধ্য হন। জামালগঞ্জ উপজেলার ৪ ইউনিয়নের মধ্যে ভীমখালি ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল মিয়া (চশমা) ও বেহেলী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অসীম চন্দ্র তালুকদার (ঢোল) নির্বাচিত হয়েছেন। ভীমখালি ইউনিয়নে বরাবরই বিএনপি প্রার্থীরা পাশ করে থাকে।

এবার পরাজিত হলেও সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের প্রকৃত অনুসারী নৌকার সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য প্রার্থী শাহ আক্তারুজ্জামান আক্তার মূল প্রতিদ্বন্দিতায় এসেছেন। শেষ পর্যন্ত একজন প্রভাবশালী দলীয় সংসদ সদস্য আত্মঘাতি সিদ্বান্ত নিয়ে এই দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ে মীর জাফরের ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে কলকতখাসহ ইউনিয়নের পশ্চিমাঞ্চলের সুরঞ্জিত প্রিয় ভোটাররা আঞ্চলিকতার টানে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল মিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। ফলশ্রুতিতে সুরঞ্জিত অনুসারী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সুরঞ্জিত সমর্থক ভোটারদের।

যে কারনে অল্প ভোটের ব্যাবধানে জনপ্রিয় প্রার্থী আক্তারের পরাজয় হয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে বিরোধীয় ২ প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ার কারনে। সলুকাবাদ ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রওশন আলী (মোটর সাইকেল), পলাশ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাইয়্যুম মাস্টার (ঘোড়া),ফতেহপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রঞ্জিত চৌধুরী রাজন (ভ্যানগাড়ি) নির্বাচিত হয়েছেন। সলুকাবাদ ইউনিয়নে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের অনুসারীরা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রওশন আলীকে বিজয়ী করে একাধারে নৌকা ধানের শীষ ও লাঙ্গলের পরাজয়ে ভূমিকা পালন করেন। ধর্মপাশা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম আহমেদ (ঘোড়া), রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রেজা (চশমা), সেলবরষ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নূর হোসেন (ঘোড়া), চামারদানী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকিরুল আজাদ মান্না (আনারস), তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে বাদাঘাট ইউনিয়নে আ,লীগের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী আপ্তাব উদ্দিন (আনারস) ও বালিজুড়ি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী আব্দুর জহুর (আনারস) নির্বাচিত হয়েছেন। সরকার দলীয় প্রার্থীদের প্রবল দাপটের মধ্যে এসব প্রার্থীদের একমাত্র ভরসাস্থল ছিল তাদের নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের উৎসাহ ও আশীর্বাদ।
মোট ২৫ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনিত মাত্র ৯ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরা হচ্ছেন জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের রেজাউল করিম শামীম (নৌকা),ফেনারবাক ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের করুনাসিন্দু তালুকদার (নৌকা),তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নে-আ,লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী বিশ্বজিৎ সরকার (নৌকা),বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম তালুকদার (নৌকা),ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সঞ্জয় রায় (নৌকা),বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে আজিম মাহমুদ চৌধুরী (নৌকা),পাইকুরাটি ইউনিয়নে ফেরদৌসুর রহমান (নৌকা), মধ্যনগর সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রবীর বিজয় তালুকদার (নৌকা) প্রমুখ। নির্বাচিত ৯ জনের মধ্যে অল্প ভোটে ২ জনের বিজয় নিয়ে রয়েছে বিরুপ সমালোচনা। এলাকাবাসী বলছেন কন্ট্রোলরুমে কারিঘরি করে পরাজিত হওয়া স্বত্তেও নৌকার ২ প্রার্থীকে অবৈধভাবে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষনা করানোর জন্য নেতৃত্ব পর্যায়ে নির্বাচনের রাতেই ২৫ লক্ষ টাকা লেনদেন করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সততার কাছে এ চক্রান্ত পরাজিত হয়। তারপরও নৌকার নির্বাচিত ৯ জনের মধ্যে ৫ জনই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির ভক্ত ও প্রকৃত অনুসারী।

মোট ২৫ ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপি মনোনিত মাত্র ৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরা হচ্ছেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদল আহবায়ক বোরহান উদ্দিন (ধানের শীষ),উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম (ধানের শীষ), দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নে আজর আলী (ধানের শীষ),উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে খসরুল অলম (ধানের শীষ),ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে বিল্লাল হোসেন (ধানের শীষ)। ইউনিয়ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের দূর্নীতি সন্ত্রাস ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে এসব জনপ্রিয় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে জেষ্টতম নির্বাচিত পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাইয়্যুম মাস্টার বলেন,আমরা ভাটি বাংলার প্রাণপুরুষ রাজনীতির মহীরুহ জননেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের বিদ্রোহের রাজনীতিকে মডেল ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছি। নৌকা মার্কার প্রতি আমাদের কোন বিদ্ধেষ বা আক্রোশ ছিলনা। আমরা কেবল বাণিজ্যিক রাজনীতির বিরুদ্ধে একটা সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করেছি। আমরা কালো টাকা বা পেশী শক্তির মালিক না হওয়ায় নৌকার বা দলীয় মনোনয়ন পাইনি। তারপরও ভোটাররা বিপুল ভোটের ব্যাবধানে আমাদেরকে বিজয়ী করেছেন। শুধূ মুসলমান ভোটাররাই নয় সচেতন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও বানিজ্যের নৌকা ও ধানের শীষকে উপেক্ষা করে ঘোড়া আনারস,অটোরিক্সা ও চশমাসহ স্থানীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় নির্বাচন স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। যে কারনে নৌকাওয়ালা কোটিপতিদেরকে সহজেই পরাস্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে ভোটাররা আওয়াজ তুলে দেখিয়ে দিয়েছেন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাহসিকতা ও আন্তরিকতা এক ও অভিন্ন। মূলত এ চেতনায় আমরা ইউনিয়ন পরিষদকে সত্যিকার অর্থে একটি কল্যাণকর সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিনত করবো। তিনি সুনামগঞ্জ জেলায় ভোগবাদীদের বিরুদ্ধে ত্যাগ ও আদর্শের রাজনীতির ধারায় আওয়ামীলীগকে বিকশিত করতে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কোন বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ১৯৭০ সালে যখন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন তখন তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই শাল্লার সাথে জামালগঞ্জ উপজেলাও যুক্ত ছিলো। মূলত একারনে জামালগঞ্জ উপজেলায় সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ক্লীন ইমেজকে কাজে লাগিয়ে অনেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে এখাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনে বিশাল সুনামগঞ্জ ১ নির্বাচনী এলাকার ৪ থানায় মাত্র ৮ দিনের গণ সংযোগে ৯৫ হাজার ভোট পেয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সেসময় থেকে জামালগঞ্জ ধর্মপাশা তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিদ্রোহী রাজনীতিবিদ হিসেবে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়তে থাকে। মনোনয়ন বঞ্চিত যোগ্য ও প্রবীণ নবীন নেতাকর্মী এবং প্রার্থীরা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে মডেল ধরেই তাদের গণ সংযোগ চালান বীরদর্পে। নির্বাচনী এলাকার মাটি মানুষ ও আকাশ বাতাস কেবলই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে গড়ে তোলে অনুকূল পরিবেশ। বিদ্রোহের এই বিপ্লবের দ্বারা থেকে ভোগবাদী নেতা সভাপতি সম্পাদক প্রশাসকরা এখন কোন মেসেজ নেন সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: