সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট থেকে আটক ‘জিনের বাদশা’ কারাগারে

21abe291-0ede-4d5c-aeba-de7d30761c25স্টাফ রিপোর্টার:
নগরীর বন্দরবাজার থেকে গ্রেফতার নূরে আলম জিনের বাদশাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগরে পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ। পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় নূরে আলমকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

‘জিনের বাদশা’ নূরে আলম নগরীর ভাতালিয়ার মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত রোববার কথিত নূরে আলম জিনের বাদশাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতকৃত ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার।

নূরে আলমকে গ্রেফতারের পর সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন জানান, নূরে আলম নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। কোনো নিঃসন্তান সহজ সরল গৃহবধূ মাজারে আসলে কৌশলে তার মোবাইলফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে প্রতারণামূলক নানা রকমের কথাবার্তা বলে সে নিঃসন্তান গৃহবধূদের টোপে ফেলে তাবিজ-কবজের মাধ্যমে সন্তান লাভের আশা দিয়ে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিতেন।

সম্প্রতি এমন প্রতারণার শিকার হন ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝিলটুলি মোল্লাবাড়ির গৃহবধূ সুলতানা লাইজু (৩৯)। নূরে আলম নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে লাইজুর সাথে গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। বিভিন্ন রকম আধ্যাত্মিক কথা, গজল, কুরআনের আয়াত, ইসলামিক কবিতা শুনিয়ে লাইজুর কাছে নিজেকে জিনের বাদশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একপর্যায়ে লাইজু ‘জিনের বাদশা’ নুরে আলমকে জানায়, সে নিঃসন্তান হওয়ায় তার সংসারে অশান্তি চলছে। তখন নূরে আলম তাবিজ-কবজের মাধ্যমে তাকে সন্তান পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সকল স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে আসতে বলেন। লাইজু তার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গাবতলীতে আসলে নূরে আলম কৌশলে তা হাতিয়ে নেন।

এর দুইদিন পর সন্তান লাভের তাবিজ-কবজের জন্য আরো ২০ লাখ টাকা দাবি করে নূরে আলম। টাকা না দিলে লাইজুর পুরো পরিবারের ক্ষতির হুমকি দেন। ভয় পেয়ে লাইজু বাড়ি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তা নূরে আলমের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেন। টাকা কোথায় নিয়ে আসতে হবে জানতে চাইলে নূরে আলম শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে আসতে বলেন। এরপর থেকে রহস্যজনক কারণে নূরে আলম যোগাযোগ কমিয়ে দিলে লাইজুর সন্দেহ হয়। প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে লাইজু বিষয়টি সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইনকে জানায়।

গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় নূরে আলমের কথামতো টাকা দিতে নগরীর তাজমহল হোটেলের কাছে আসেন লাইজু ও তার স্বামী। এসময় কথিত জিনের বাদশা নূরে আলম টাকা নিতে আসলে ওৎ পেতে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার কাছ থেকে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: