সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মায়ের জন্য মাহীর আর্তনাদ, থামছে না তাবাসসুমের কান্না

Untitled-1 copyনিউজ ডেস্ক::
পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড নাড়া দিয়েছে বিবেকবান সব মানুষকে। বর্বরতার ভয়ংকর থাবায় কর্মঠ পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তার হারিয়েছেন প্রিয়তমা স্ত্রীকে। মাতৃস্নেহ থেকে আজীবনের জন্য বঞ্চিত করেছে দুই অবুঝ শিশু ছয় বছর বয়সের ছেলে মাহী আর আড়াই বছরের মেয়ে তাবাসুসমকে। মাহীর আর্তনাদ আর তাবাসসুমের কান্না কিভাবে কেবা থামাবে?

বাবুল আর মিতুর সংসারের উপচে পড়া সুখ দুই সন্তান। মাহীর আক্তার মাহী ২য় শ্রেণিতে পড়ে, আর মেয়ে তাবাসসুম আক্তার এখনো স্কুলে গন্ডিতে পা রাখেনি। বাবা-মায়ের স্নেহঘেরা বসতিতে বেড়ে ওঠছিল দুই শিশু। এক ভয়াল দুর্বিপাকে আজ তছনছ সেই সাজানো বাগান।

ছয় বছর একটা শিশুর সামনে যখন তার মাকে হত্যা করা হয়, কী করে সে স্বাভাবিক বড় হয়ে ওঠতে পারে। দুঃস্বপ্নের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারছে মাহী। মায়ের জন্য এই শিশুর করুণ আর্তনাদে পাষাণের চোখও ভিজে ওঠছে জলে।

মা মাহমুদা আক্তার মিতুর হত্যাকাণ্ডের নিজের চোখে দেখার পর দীর্ঘসময় মাহী ছিল পাথরের মত নিস্তব্ধ। মিতুর জানাযার আগে আত্মীয় স্বজনদের সংস্পর্শের সে ছিল নিরব। রোববার রাতে ঘুমানোর আগে জমাট বাঁধা কান্না গুমড়ে ওঠে মাহীর। কাঁদতে কাঁদতেই একসময় ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে কান্নার সাথে যোগ হয় আর্তনাদ। সোমবার দিনভর মাহীর আর্তনাদ কোন রকমেই থামানো যাচ্ছে না বলে ভেজা চোখে জানালেন পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তার। আড়াই বছরের ছোট্ট মেয়েটি অবস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, এতটুকু মেয়ে এতো কাঁদতে পারে! কোনোভাবেই মেয়েটার কান্না থামাতে পারছি না। । কিছুক্ষণ পর পর আম্মু কই আম্মু কই বলে তার মাকে খোঁজে আর কাঁদে। কী করে আমি অবুঝ বাচ্চাদের বুঝ দেব, তাদের মা আর ফিরবে না। আমি নিজেই তো দিশেহীন অবস্থার মধ্যে আছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার মাহমুদা আক্তার মিতুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা আগের দিন রাতে মাহীর আক্তার মাহীর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল নামে নিহতের মোবাইলে একটি এসএমএস দেয়া হয়। মাহীর স্কুলের সময় সকাল ৮টা হলেও ওই এসএমএস জানানো হয়, রোববার স্পেশাল এসেম্বলি হবে। তাই শিক্ষার্থীদের ৭টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে হাজির হতে হবে। এ কারণে স্কুল বাস সকাল সাড়ে ৭টার পরিবর্তে পৌণে ৬ টার দিকে জিইসি’র মেরিডিয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে থাকবে। ওই এসএমএস পেয়ে অন্যদিনের অনেক আগে ৬ টা ৪০ মিনিটের দিকে মিতু ছেলেকে গাড়ি তুলে দিয়ে আসতে এর দিকে বাসা থেকে বের হন এবং হত্যাকাণ্ডে শিকার হন।

এ ব্যাপারে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে স্কুল শাখার উপাধ্যক্ষ সৌমিত কুমার দাশ জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টায় শিশু শাখার ক্লাস শুরু হয়। ওইদিন স্পেশাল এসেম্বলির কথা বলে আগেভাগে স্কুল শুরু হবে এমন নির্দেশনা দিয়ে স্কুল থেকে কোনো এসএমএস পাঠানো হয়নি। এছাড়াও কোন বিষয়ে স্কুল থেকে এসএমএস পাঠানো হয় না। সরাসরি অভিভাবকদের ফোন করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, খুনিরাই এই এসএমএসটি পাঠিয়েছিল। জনাসমাগম এড়াতে এসএমএস পাঠিয়ে মাহমুদা আক্তার মিতুকে বিভ্রান্ত করে আগেই ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয় এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। রহস্যজনক ওই এসএমএসটির উৎস সন্ধানে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দাদের একটি দল।

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সক্রিয় পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়েই উগ্রপন্থিরা তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে হত্যা করেছে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তাদের সন্দেহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পাশাপশি জামায়াত শিবিরকেও সন্দেহে রেখেছে পুলিশ। জঙ্গী ও শিবিরকে মূল টার্গেটে রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন বিরোধের কারণে পুলিশের মধ্যে কোন ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা তাও মাথায় রেছেছে গোয়েন্দারা।

এরই মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ক্রস চেকের মাধ্যমে মূল খুনিদের সনাক্তের চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষজ্ঞ টিম। এই হত্যা মামলাটি অফিসিয়ালি নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করলেও তাদের সহযোগিতায় মাঠে কাজ করছে পিবিআই, সিআইডি, র‌্যাব ও থানা পুলিশ। বিশেষ করে ডিবির দশটির অধিক টিম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে কাজ করছে। বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। খুনিদের ধরতে চট্টগ্রাম নগরীর বাইরের বিভিন্ন জেলায়ও অভিযান চলছে।

নাম প্রকাশে অনাগ্রহী নগর গোয়েন্দা বিভাগের বেশ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা যায়, মাহীর বর্ণনা ও রোববার রাতে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত নগরীর শুলকবহরের বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি থেকে অনেক ক্লু উদ্ধার করা যেতে পারে। তবে মোবাইল এসএমএসটিও অনেক কাজে আসতে পারে। সমস্যা হচ্ছে খুনীরা এত চালাক যে তারা মিতুর মোবাইলটিও গায়েব করেছে।

এদিকে মিতু হত্যা প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার জানান, এই হত্যাকাণ্ডকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। দেশবাসী ও আমাদের পুলিশ সদস্যদের জন্যও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন জরুরী হয়ে পড়েছে। এটি উদঘাটনে পুলিশ কোমড় বেঁধেই মাঠে নেমেছে। যে করেই হোক এটি উদঘাটন করতে হবে। এজন্য সোমবার বিকেলে পুলিশের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, আশা করছি মঙ্গলবারের মধ্যে মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। ইতিমধ্যে আমরা মোটর স্ইাকেলটি উদ্ধার করেছি। সেটির মালিকানা যাচাই চলছে। ফুটেজ সংগ্রহ করে সব মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা সারা চট্টগ্রাম শহরের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছি। মোটর সাইকেলটি কোথায় থেকে রওনা হয়েছে। আর কোন দিক দিয়ে শুলকবহর এসেছে সেটি আমরা জানার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।

পুলিশ কমিশনার জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যেতাদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক চারজনের পরিচয় বিষয়ে জানতে চাইলেলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না। পরে প্রয়োজন হলে আটক দেখিয়ে নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: