সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফাঁসির দড়ি থেকে একধাপ দূরে মীর কাসেম

mirkasem-নিউজ ডেস্ক::
একাত্তরে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষনেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে । ২৪৪ পৃষ্টার এ পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েব সাইটে দেয়া হয়েছে।

সোমবার প্রকাশ হওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, মীর কাসেম আলী বিচারবন্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন কি করেননি সেটা প্রমাণ সাপেক্ষ। তবে তিনি খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিচারকে নষ্ট করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ পাবেন মীর কাসেম।।পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এখন মীর কাসেমের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে দণ্ড কার্যকর করতে একটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে তাদের।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী মীর কাসেম আলী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। তিনি রিভিউ না করলে এখন দণ্ড কারর্যকরের পরবর্তী কাযক্রম শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর আপিলে আসা এটি সপ্তম মামলা, যার ওপর চূড়ান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো।

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর মীর কাসেম ছিলেন আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান নেতা। তার যোগানো অর্থেই জামায়াতে ইসলামী শক্ত ভিত্তি পায়।

আপিল বিভাগের এই রায়ের কপি পেয়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডের বিষয়ে বিচারিক আদালত অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করলেও রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়া আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রিভিউ আবেদনে রায় বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে পারবে মীর কাসেম আলী।

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করা না করার উপর সিদ্ধান্ত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা নাকচ করলে আসামির দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। অর্থাৎ মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরে এখনো এই একটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর আপিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই অভিযোগে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড এবং আট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

আপিলের রায়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মূল হোতার বিরুদ্ধে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদকে খুনের দায়ে এক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয় অভিযোগে ৫৮ বছর কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।
মৃত্যু পরোয়ানা জারি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক এবং বিচারিক প্যানেলের দুই সদস্য বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।
মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে:
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। সোমবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপিসহ এই পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছায়।

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মীর কাসেম আলী বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আছেন। এই পরোয়ানা ঢাকা স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও যাবে।
মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় পৌঁছানোর পর সোমবার সন্ধ্যায় মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এদিকেঅ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রায় ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পর মৃত্যু পরোয়ানা জারি হবে। পরে মীর কাসেমকে রায় পড়ে শোনানো হবে। রায় শুনে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে ১৫ দিনের সময় পাবেন তিনি। পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রিভিউ প্রসঙ্গে আইনজ্ঞদের অভিমত:
রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আগেই বলেছেন, কাদের মোল্লার রিভিউ পিটিশনের রায়ে বলা হয়, পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আসামি রিভিউ চাইতে পারবেন। তিনি বলেন, অপেক্ষা করব এই ১৫ দিনের জন্য। তারা যদি রিভিউ পিটিশন দাখিল না করে, তাহলে আমরা এই রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা নেব।

মীর কাসেমের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনও বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করছি। পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর রিভিউয়ের উপাদান পাওয়া গেলে রিভিউ আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মীর কাসেম আলী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। তবে রিভিউ শুনানির পর কারো ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড কমেছে, আমার জানা নেই। সে ক্ষেত্রে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেমকে ফাঁসির দড়িতেই ঝুলতে হবে।

সুযোগ থাকছে রিভিউয়ের:
বিধি অনুযায়ী এখন ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদনের সুযোগ পাবেন মীর কাসেম আলী। রিভিউ খারিজ হলে আইনী আর কোনো প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তার হাতে থাকবে না। সেক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী দোষ স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন তিনি। প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে নির্বাহী আদেশে তার ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ। আর প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মামলার আলোচনা নিয়ে বিতর্ক:
মীর কাসেমের আপিলের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির এক বক্তব্যের সূত্র ধরে রায় ঘোষণার তিন দিন আগে ৫ মার্চ এক আলোচনায় রায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সরকারের দুই মন্ত্রী, যা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বক্তব্যকে বিচার প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টের সম্মান ও মর্যাদাকে হেয় করার শামিল বিবেচনা করে ১৫ মার্চ হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।এর তিন দিনের মাথায় আপিল বিভাগ জামায়াত নেতা মীর কাসেমের আপিলের যে রায় দেয়, তাতেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।ওই রায় ঘোষণার আগে পুরো আপিল বিভাগকে নিয়ে বসে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দুই মন্ত্রীকে তলবের আদেশ দেন।দুই মন্ত্রীর দেওয়া যে বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে এসেছে তা বিচার প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টের সম্মান ও মর্যাদাকে হেয় করার শামিল বিবেচনা করে আদালত অবমাননার রুল জারি হয় তাদের বিরুদ্ধে।

দুই মন্ত্রীর ওই বক্তব্য সে সময় তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। মীর কাসেমের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং বিএনপি নেতারা মন্ত্রীদের বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে বলেন, এটা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ।

এ ধরনের মন্তব্য এড়ানোর পাশাপাশি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিতর্কিত বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধের বিচারই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কারও মন্তব্য করা উচিৎ নয়।রায়ের আগের দিন সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে কথা বলেন। দুই মন্ত্রীর ওই বক্তব্য যে সরকারের ভাষ্য নয়, তা তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন বলে গণমাধ্যমের খবর।

২৭ মার্চ আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে সাত দিনের মধ্যে এই অর্থ ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে দিতে হবে। তা না হলে খাটতে হবে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায়ের আগে সর্বোচ্চ আদালতকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুই মন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেয়। এ রায়ের ফলে দুই মন্ত্রীর পদে থাকা না থাকা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান দুই মন্ত্রী।

সমালোচনায় সরে দাঁড়ান বিচারপতি নজরুল:
অবসরত্তোর সুবিধায় থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পক্ষে মামলা লড়তে এসে সমালোচনার মুখে ওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন হাই কোর্টের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই আপিল মামলায় দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে উপস্থিত হয়ে পেপারবুক থেকে অভিযোগ পড়ে শোনান ওই বিচারপতি। ওইদিনই তার অবসরোত্তর সুবিধায় থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী হাই কোর্টের বিচারক হিসেবে অবসরকালীন সুবিধায় সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও গানম্যান পাচ্ছেন। এ অবস্থায় আইনজীবী হিসেবে মামলা লড়া নৈতিকতার চরম বিরোধী।প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সেদিন বলেছিলেন, সাবেক ও বর্তমান বিচারপতিরা রীতি ও আইন মেনে চলবেন বলেই তিনি আশা করেন। পরে বিচরপতি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আইনজীবী হিসেবে মামলায় অংশ নেওয়ার অধিকার আমার রয়েছে। এটি অসাংবিধানিক বা অনৈতিক নয়।

যে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড:
চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মূল হোতার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে হত্যা-গণহত্যার দায় (১১ নম্বর অভিযোগ) প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয় আপিল মামলার রায়ে। ১১ নম্বর ছাড়াও ১২ নম্বর অভিযোগে রঞ্জিত দাস লাতু ও টুন্টু সেন রাজুকে হত্যার দায়েও কাসেমের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন আপিল বিভাগ।

রায়ে বলা হয়, মীর কাসেমের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আপিল নাকচ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ই বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে হত্যার দায় থেকে এই জামায়াত নেতা অব্যাহতি পেলেও ১১ নম্বর অভিযোগ সর্বোচ্চ সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।

এ মামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেমকে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের খান সেনাদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়া ‘বাঙালি খান’ হিসাবে, যিনি সে সময় জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা উঠে এসেছে এই রায়ে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একাত্তরে তার নির্দেশেই চট্টগ্রাম টেলিগ্রাফ অফিস সংলগ্ন এলাকায় হিন্দু মালিকানাধীন মহামায়া ভবন দখল করে নাম দেওয়া হয় ডালিম হোটেল। সেখানে গড়ে তোলা হয় বদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঘাঁটি এবং বন্দিশিবির। সেখানে অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়, যাদের লাশ পরে ফেলে দেওয়া হতো চাক্তাই চামড়ার গুদাম সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে।২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণে সেই ডালিম হোটেলকে বলা হয় ‘ডেথ ফ্যাক্টরি’।

ডালিম হোটেল ছাড়াও নগরীর চাক্তাই চামড়ার গুদামের দোস্ত মোহাম্মদ বিল্ডিং, দেওয়ানহাটের দেওয়ান হোটেল ও পাঁচলাইশ এলাকার সালমা মঞ্জিলে বদর বাহিনীর আলাদা ক্যাম্প ও নির্যাতন কেন্দ্র ছিল সে সময়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “ডালিম হোটেলে ঘটে যাওয়া সবধরনের অপরাধের ব্যাপারে সবকিছুই জানতেন মীর কাসেম। এসব অপরাধে তার ‘কর্তৃত্বপূর্ণ’ অংশগ্রহণও প্রমাণিত। ফলে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৪ (২) ধারা অনুযায়ী তিনি ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃত্বের’ দোষে দোষী।”

ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম ১৯৮৫ সাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অর্থাৎ মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তিনি হলেন জামায়াতের পঞ্চম শীর্ষ নেতা, চূড়ান্ত রায়েও যার সর্বোচ্চ সাজার সিদ্ধান্ত হলো।মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেমকে ফাঁসির দড়িতেই ঝুলতে হবে।

ফাঁসি কার্যকর হয়েছে যাদের:
এর আগে আপিল বিভাগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয়টি রায়ের মধ্যে পাচঁটিতে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি হয়েছে।

আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সেই রায়ের রিভিউ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এ ছাড়া শুনানি চলাকালে জামায়াতের আমির গোলাম আযম ও বিএনপির প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: