সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মিতুর কাছে এসএমএসটা কি জঙ্গিরাই পাঠিয়েছিল?

SP-Babul-1নিউজ ডেস্ক::
দুর্বৃত্তদের হাতে মর্মান্তিভাবে খুন হওয়ার আগের রাতে ছেলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ার একটা বার্তা (এসএমএস) পাওয়ার কথা পরিচিতজনদের বলেছিলেন পুলিশ কমিশনার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।খবর: বাংলানিউজ

ওই এসএমএসে স্কুলে অ্যাসেম্বলি থাকায় আগেভাগে ছেলে আকতার মাহমুদ মাহিরকে স্কুলে পৌঁছাতে বলা হয়। পাশাপাশি সময় পরিবর্তন হওয়ায় স্কুলবাসও একটু এগিয়ে জিইসি মোড়ের মেরিডিয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে অপেক্ষা করবে বলে জানানো হয় সেই এসএমএসে।

সেই এসএমএসের সূত্র ধরে নিয়মিত সময়ের কিছুটা আগেভাগেই জিইসি মোড়ের ইকুইটি সেন্ট্রিয়াম ভবনের ‘সেভেন ডি’ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে বের হন মাহমুদা খানম মিতু। আর বাসা থেকে বের হওয়ার একটু পরেই দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে তাকে হত্যা করে।

তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সময় পরিবর্তনের কোনো এসএমএস শনিবার রাতে তারা কোনো অভিভাবককে পাঠায়নি।

তাই প্রশ্ন উঠেছে মাহমুদা খানম মিতুর কাছে এই ‘উড়ো’ এসএমএসটা আসল কিভাবে ?

গণমাধ্যমে মিতুর কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সময় পরিবর্তনের এসএমএস যাওয়ার খবর বেরুনোর পর নড়েচড়ে বসে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (০৬ জুন) সকাল ১০টায় এ বিষয়ে স্কুলের অ্যাডমিন প্যানেল ও আইসিটি সেক্টরের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অধ্যক্ষ।

ক্যান্টেনম্যান্ট পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্ণেল আবু নাসের মোহাম্মদ তোহা বলেন, ‘আমার স্কুলের সময়সূচি অপরিবর্তিত আছে। তাই নতুন করে কোনো এসএমএস অভিভাবকদের পাঠানো হয়নি। নিশ্চিত করে বলতে চাই, কোনো অভিভাবককে আমাদের পক্ষে কোন এসএমএস পাঠানো হয়নি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের এসএমএস পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনটি ধাপ অনুসরণ করা হয়। প্রথমত অ্যাডমিন প্যানেল এসএমএসটা তৈরি করে। এরপর আমি এসএমএসটা দেখে আইটি সেক্টরে দিই। তাই অভিভাবকদের কাছে আমার অগোচরে এসএমএস যাওয়ার সুযোগ নেই।’

রোববার মাহমুদা খানম মিতু নিহত হওয়ার পর ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় তার বাসায় গেলে সেখানে আসা এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই স্কুলে আমার ছেলেও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। শনিবার রাতে ভাবি (মিতু) আমাকে ফোন করে জানান তাকে স্কুল থেকে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। রোববারে স্কুলে অ্যাসেম্বলি হবে। তাই শিশুকে আগেভাগে স্কুলে পাঠাতে হবে। স্কুল বাসও একটু আগেভাগে জিইসির মোড়ে মেরিডিয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে অপেক্ষা করবে। ’

তবে বায়েজিদ এলাকায় বাসা হওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছে এরকম সময় পরিবর্তনের কোনো এসএমএস আসেনি বলে তিনি জানান।

এদিকে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ইকুইটি সেন্ট্রিয়াম ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে।

মাহমুদা খানমের মৃত্যুর পর রোববার সকালে বাবুল আক্তারের বাসায় আসা এরকম এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকও তার কাছে স্কুলের সময় পরিবর্তনের এসএমএস আসার কথা এবং এ বিষয়ে মিতুর সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান।

ফলে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের সময় পরিবর্তনের ওই এসএমএসটি ‘ইকুইটি সেন্ট্রিয়াম ভবনে’ অবস্থান করা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ্ এসেছিল।

মাহমুদা খানমের কাছে শনিবার রাতে স্কুল কর্তৃপক্ষের বরাতে এসএমএস যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ পেয়েছেন নগর পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মাহমুদা খানমের কাছে এসএমএস যাওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এসএমএসটা কারা পাঠিয়েছিল সেটা তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইব আমরা। পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ’

‘যদি এসএমএস ফেইক হয় তাহলে ইক্যুইটি সেন্ট্রিয়াম ভবনের অন্যান্য অভিভাবকদের কাছেও কেন আসবে ? অথবা এরকমও হতে পারে বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টির জন্য এসএমএস ওই ভবনের বাসিন্দাদের কাছেই শুধু পাঠানো হয়েছিল। ’ বলেন পুলিশ পরিদর্শক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: