সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিজের ভোটটিও তাকে দিতে দেয়নি আ’লীগ সমর্থকরা, তবুও তিনি চেয়ারম্যান হলেন…

17131_151নিউজ ডেস্ক::
নিজের ভোটটিও তাকে দিতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। পুলিশি হয়রানি এবং সন্ত্রাসীদের জীবননাশের হুমকিতে তিনি আত্মগোপনে আছেন। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় সাত মাস থেকে। ৯ কেন্দ্রের ২টিতে ছাড়া বাকি ৭টিতে ছিল না কোনো এজেন্ট। ভোটারদের স্বাগত জানানোর কোনো কর্মীও ছিল না কেন্দ্রের বাইরে। চোখে পড়েনি পোস্টার, বিতরণ হয়নি হ্যান্ডবিল, কোনো ভোটারের কাছে ভোটও চাইনি কেউ। এমনকি মাইকিংটাও করতে দেয়া হয়নি। তবুও সালাম হুজুর চেয়ারম্যান। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা ইউনিয়ন পরিষদের পরপর চারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস সালাম।

সাধারণ মানুষ তাকে সালাম হুজুর বলেই চেনেন। চেয়ারম্যানের দায়িত্বের পাশাপাশি একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন তিনি। স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সরকারি দলের পক্ষ থেকে হয়রানিমূলক দুটি মামলা এখনো ঝুলে আছে। গতবার পবিত্র হজ পালন করে এলাকায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী এবং পুলিশবাহিনী তাকে প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি।

জীবননাশের ভয়ে সেই থেকেই তিনি ফেরারি। গেল শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় জামায়াত তাকে আবারও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ বাহিনী। তার মনোনয়পত্র বাতিলের জন্য উঠে পড়ে লাগে তারা। পুলিশ দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মনোয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিন উপজেলা পরিষদের বাইরেই আটকে দেয় সালাম হুজুরের সমর্থনকারী আবদুর রহমানকে। সে যাত্রায় হুজুরের শত শত ভক্তের সহযোগিতায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের টেবিল পর্যন্ত গিয়ে সাক্ষী দিলে টিকে যায় সালাম হুজুরের মনোনয়পত্র। আবদুর রহমাননের স্বজনরা অভিযোগ করেন নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ওই সমর্থনকারীকে তুলে নিয়ে যায় থানায়। এসময় শাজাহানপুর থানার ওসি তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠান। তিনি এখন জেলেই আছেন। অপরাধ সালাম হুজুরের সমর্থকারী হওয়া।

এর পর মার্কা বরাদ্দ হলে হুজুর টেবিল ফ্যান মার্কা পান। যথারীতি তার ভক্তরা পোস্টার, হ্যান্ডবিলসহ প্রচারণার জন্য বের হলে হামলার শিকার হয়। প্রথম দিনের টাঙানো সব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে তারা। এরপর আর কোথাও পোস্টার টাঙ্গাতে দেয়নি প্রতিপক্ষ বাহিনী। নিকট আত্মীয় এবং ভক্তরা দুই একদিন ভোট চাওয়ার জন্য বের হলে তাদেরকে মামল এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থামিয়ে দিয়েছে। মাওলানা আব্দুস সালামের জামাই দেলোয়ার হোসেনকে প্রচারণার সময় পিটিয়ে আহত করে।

সন্ত্রাসীরা এরপর আর কোনো দিন প্রচারণায় বের না হতে হুমকি দিয়ে যায়। কয়েক দিন বিরতির পর স্থানীয় রিকশাচালক বাদশা মিয়ার মাধ্যমে প্রচারণার মাইক ছাড়া হলে সন্ত্রাসীরা বাদশা মিয়াকেও মারপিট করেছে এবং রেকর্ডিং করা মেরোরিকার্ড ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রাণনাশের ভয়ে এর পর আর কোনো ব্যক্তি তার জন্য প্রকাশে কোনো কাজ করেনি। রাতের আঁধারে হ্যান্ডবিল বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে রাখা ছাড়া কোনো প্রাচারণ ছিল না। ভোটারদের প্রকাশ্যে হুমকিধামকি এবং মামলার ভয় দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।

সরেজমিনে মাঝিরার ৯ কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে মাত্র দুটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোতে তার কোনো এজেন্ট ছিল না। ছিল না কেন্দ্রের বাইরে কোনো নির্বাচনী ক্যাম্প। ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য ছিল না কোনো কর্মীও। তার পরেও নীরবে ভোট প্রদান করে পুনরায় তাকে নির্বাচিত করেছে হাজারও ভক্তরা। মাওলানা আব্দুস সালামের কয়েকজন ভক্ত নাম প্রাকাশ না করার শর্তে বলেন, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, সততা এবং মানুষের বিপদে পাশে পাওয়ায় তাকে তারা নীরবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

ওই ইউনিয়নের সালাম হুজুরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আরও ৫জন। ইউনিয়নের ৯ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৭৮৬ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১১ হাজার ৫৯৬ জন। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বাতিল হয়েছে ৩৭২ ভোট। এর মধ্যে সালাম হুজুর টেবিল ফ্যান প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ১৩০, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নাছির উদ্দিন বাবলু নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৫ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪৩, স্বতন্ত্রপ্রার্থী লুৎফর রহমান মোল্লা চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৮১১, সাজেদুর রহমান মুন্না আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬৮ ভোট। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের জামাতা দেলোয়ার হোসের বলেন, সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে তাকে পাশে পেয়েছে। তিনি নিজের কিছু না করে যা কিছু করেছেন মানুষের জন্যই করেছেন। সেই সঙ্গে সততা, একনিষ্ঠতা তাকে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত করেছে। কর্মী শূন্য মাঠেও জয়ের কারণ এটিই বলে মানে করছেন তার হাজারও ভক্তরা।মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: