সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা টার্গেটে

hindu-550x397নিউজ ডেস্ক :  একের পর এক ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের ওপর হামলা হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বিশেষ একটি মহল। যারা ধর্মান্ধ উগ্রপন্থী। আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী ও নেতারা বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। রোববার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া মিশন পল্লীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে খ্রিষ্টান এক মুদি দোকানিকে। এর আগে বগুড়ায় শিয়া মসজিদে ঢুকে গুলি করে মোয়াজ্জিনকে হত্যা করা হয়। হামলা করা হয় হোসনী দালানের শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর রংপুর ও দিনাজপুরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চের ফাদারসহ কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। রংপুরের চার্চদের ডাকযোগে ও দিনাজপুরের চার্চদের মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে এ হুমকি দেয়া হয়। হুমকি দেয়া হচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলকেও। গত বছর ১০ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের মসজিদ, মন্দির, চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় হামলার পর সংখ্যালঘুরা টার্গেটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বেছে নিয়েছে উগ্রপন্থীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ৩০ মে ডাকযোগে চিঠির মাধ্যমে এ হুমকি দেয়া হয়। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের মহিমাগঞ্জ বাজারে দেবেশ চন্দ্র প্রমাণিক (৬৬) নামে এক হিন্দু জুতা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নেপেন চন্দ্র (৩৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত

২৫ মে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হত্যাকা- হয়। নিহত দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিকের বাড়ি মহিমাগঞ্জ এলাকায়। মহিমাগঞ্জ বাজারে তার জুতার দোকান রয়েছে।

১৩ মে রাতে মন্দিরে ধ্যানরত অবস্থায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ মং শৈ উ (৭০) কে গলাকেটে হত্যা করা হয়। সকালে তার রক্তাক্ত লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে জানায়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

টাঙ্গাইলে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জেলার গোপালপুর পৌর এলাকার ডুবাইল বাজারে নিজের দোকানে কাজ করছিলেন দর্জি নিখিল চন্দ্র (৫০)। গত ১মে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে তিন যুবক নিখিলকে দোকান থেকে টেনে বের করে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

২৯ মে পাবনার চাটমোহরে রঞ্জিত রোজারী (৩৫) নামে এক খ্রিষ্টান ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। উপজেলার ফৈলজানা গ্রামে এ  ঘটনা ঘটে। চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত রঞ্জিত রোজারিও ফৈলজানা গ্রামের মৃত জজ রোজারিওর ছেলে। পেশায় তিনি সার ব্যবাসয়ী।

গত ২২ মার্চ কুড়িগ্রাম শহরের গাড়িয়ালপাড়া গ্রামের গড়েরপাড় এলাকায় ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী সরকারকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসী ঘাতকদের আটকানোর চেষ্টা করলে তারা কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত বছর ৫ অক্টোবর ঈশ্বরদীর ব্যাপটিস্ট মিশনের ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ অব গড’ এর পাদরি লুক সরকারকে শহরের নিজের ভাড়া বাসায় গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১৮ নভেম্বর দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বি আরটিসি বাস ডিপোর সামনে ফাদার পিয়েরো পারোলারি (৫০) নামে এক ইতালীয় নাগরিককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পিয়েরো পারোলারি পেশায় চিকিৎসক এবং শহরের সুইহারী কাথলিক মিশন চার্চে ৩০ বছর ধরে কর্মরত ফাদার। ২৬ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে শিয়া মুসলিমদের আল মোস্তফা মসজিদে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মসজিদের মুয়াজ্জিন নিহত এবং তিনজন আহত হন।

এশার নামাজ আদায়ের সময় সিজদারত অবস্থায় তাদের ওপর গুলি করা হয়। ২৩ অক্টোবর বোমা হামলায় রক্তাক্ত হয় রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। হামলায় মারা যান দুইজন। আহত হন শতাধিক মানুষ।

গত বছর ১০ নভেম্বর রংপুরে কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতারমোড়ে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। রাজধানীর তেজগাঁও থানার মহাখালীর আরজতপাড়ার ২৬ নম্বর বাড়িতে এক খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা।

নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেন সংখ্যালঘু ইস্যু দেশে সব সময় ছিল। কিন্তু ধর্মীয় উপাসনালয় ও ব্যক্তির ওপর হামলা দেশে সন্ত্রাসের নতুন রূপ। এর আগে বিচ্ছিন্ন কিছু অঘটন ঘটলেও বাংলাদেশে এ ধরনের ধারাবাহিক ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্টরাও এ ধরণের পরিস্থিতিতে পড়েননি। মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার পর আইএস দায় স্বীকার করলেও সরকারের তরফে বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: