সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাহিরের কান্নায় কাঁদলো সবাই…

2_115340_1নিউজ ডেস্ক : ব্যাগভরে বই আর খাতা নিয়ে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছিলেন সাত বছরের মাহির। কথা ছিল প্রতিদিনের মতো স্কুল বাসে মাহিরকে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরবেন মা মাহমুদা খানম মিতু। ফিরেছেন ঠিকই-তবে লাশ হয়ে। আর ঘাতকের বুলেটে মায়ের প্রাণ যাওয়ার করুণ দৃশ্য দেখতে হয়েছে মাহিরকে।

বলছিলাম,জঙ্গি দমনে আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার ও তার স্ত্রী গৃহিণী মাহমুদা খানম মিতু দম্পতির বড় সন্তান আক্তার মাহমুদ মাহিরের কথা।

রবিবার সকালে মাহিরের সামনে তার মা মিতুকে প্রথমে কুপিয়ে পড়ে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আর ওই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল মাহি।

মাহিরের বাবার আগের কর্মস্থল চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে খবরটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় তোলপাড়।

দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে পারদর্শী বাবুল আক্তার সম্প্রতি এসপি পদে পদোন্নতি পেয়ে বুধবার যোগদান করতে ঢাকায় আসেন। এরই মধ্যে ঘটলো হৃদয়বিদারক এই ঘটনা।

বাবুল আক্তার এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাবুল-মিতু দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলে বড়, মেয়ে ছোট। ছেলে মাহির ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতো জিইসি মোড়ের ভাড়া বাসা থেকে মাহিরকে স্কুলে বাসে তুলে দিতে বের হন মিতু। কিন্তু বাসা থেকে সামান্য দূরে যাওয়ার পর  সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জিইসি মোড় এলাকায় আসলে মোটরসাইকেল থাকা তিন দুর্বৃত্ত প্রথমে তার (মিতু)সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করে পরে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মাহিরের মা।

মিতুকে হত্যার আগে সঙ্গে থাকা তার ছেলে মাহিরকে পাশে সরিয়ে রাখে ঘাতকরা। মায়ের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়া মাহিরকে সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে নেন তাদের বাসার দারোয়ান।

হত্যাকাণ্ডের পর মাহিরকে সান্ত্বনা দিতে অনেকেই ছুটে আসে তাদের ভাড়া বাসায়। কিন্তু কারও সান্ত্বনায় যেন কাজে আসছে না। মাহিরের কান্নায় সেখানে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহির বলে, ‘আম্মুকে যে গুণ্ডারা মারসে, ওরা হোন্ডায় ওখানে দাঁড়িয়েছিল। তারা ছিল তিনজন।’
সে বলে, ‘একজন দৌড়ায়ে আইসা আম্মুকে নিচে ফালাই দিয়ে চাকু ঢুকাই দিসিল। আরেকজন গুলি মেরে মেরে ফেলসে। তারপর আম্মুর মুখের থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।’
মিতুর বাসার দারোয়ান ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ দেখি মানুষে দৌড়াদৌড়ি করতেসে। আমি একজনরে দাঁড়া করায়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কী হইসে। কয় একটা মহিলারে মাইরা গেসেগা। আগায়ে যাইতে দেখি বাবুল সাহেবের ছেলেডা.. আহহা।

আমি কিছু ভাবি নাই। দৌঁড় দিয়া গিয়া কোল লইসি। কয় আমার আম্মুরে মাইরালাইসে।এরপরে ছেলেডারে লইয়া আইসি আমি।ওখানে আর কিসু দেহি না, বাচ্চাটা তাড়াতাড়ি আমি লইয়া আইসি। বলা যায় না, বাচ্চাডাও যদি মাইরালায়-যোগ করেন দারোয়ান।

বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে জেএমবির সামরিক প্রধান জাবেদসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। এজন্য তাকে হত্যার একাধিক হুমকিও দেয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, জিইসি মোড় এলাকায় ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু (৩৫) হত্যায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আর হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে উনি (মিতু) বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলের বাসে উঠিয়ে দেয়ার জন্য এখানে এসেছিলেন। একটা মোটরসাইকেলে তিনজন এসেছে। এদের একজন হেলমেট পরা।’
সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রথমে একটু তর্কাতর্কি করে একপর্যায়ে একজন ছুরি মেরেছে। পরে গুলি করে চলে গেছে। ঘটনাস্থলেই উনার মৃত্যু হয়েছে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: