সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মোটরসাইকেলে এসেছিল দুই খুনি, গেল তিনজন’

17নিউজ ডেস্ক : পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন ওরফে মিতু আক্তার (৩২) হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে মোটরসাইকেলে এসেছিল দুই খুনি। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার সময় গিয়েছিল তিনজন। আরেকজন আগে থেকেই স্থানীয় নিরিবিলি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন।

রোববার (০৫ জুন) মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিইসি মোড়ের নিরিবিলি হোটেলে কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম (৪২)  এসব তথ্য জানান। কুমিল্লার চান্দিনায় তার গ্রামের বাড়ি। ১০ বছর ধরে ওই হোটেলে কাজ করছেন তিনি।

সিরাজুল  বলেন, সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে রেস্টুরেন্টে আসছিলাম। হঠাৎ নজরে পড়ে আমাদের হোটেলের নিচে অচেনা এক যুবক মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। জিনসের প্যান্ট পরা ছিল। একটু পর সে রাস্তা পার হলো। তখনি দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল এলো। এ সময় ছেলের হাত ধরে হাঁটতে থাকা এক মাকে ধাক্কা দিল মোটরসাইকেলটি।

বলতে বলতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছিলেন সিরাজুল। আবার বলতে শুরু করলেন, ওই মোটরসাইকেলে ছিল দুই যুবক। তারা নেমে ওই মাকে মারতে শুরু করলেন। ততক্ষণে ছোট্ট ছেলেটি দৌড়ে চলে গেল। একপর্যায়ে ওই মা উঠে দাঁড়ালেন। তখনি গুলির শব্দ শুনলাম। তারপর তিনজন মোটরসাইকেলে উঠে পড়লো। কিন্তু ২-৩ মিনিট মোটরসাইকেলটি স্টার্ট হলো না। তারপর স্টার্ট নিলো। গোলপাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেলেন তিনজন। তারপর আমরা ছুটে গেলাম। ততক্ষণে সব শেষ।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘অতীতে বাবুল আক্তার জঙ্গি দমনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। এতে সংশ্লিষ্টরা সংক্ষুব্ধ হতে পারেন। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করছি আমরা। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনি, কারণ ইত্যাদি বেরিয়ে আসবে।’

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’র মতো খুব ছোট আকারের পিস্তল থেকে নিখুঁত নিশানায় গুলি করা হয়েছে। মুখের বাম পাশে কপালের নিচে এক গুলিতেই মৃত্যু নিশ্চিত করেই পালিয়ে গেছে খুনিরা। ঘটনাস্থল থেকে মোট চারটি কার্তুজ উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে একটি ব্যবহৃত, তিনটি অব্যবহৃত। প্রাথমিক ভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। বিস্তারিত ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে।

ঘটনার পর পরপরই তদন্তকাজ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানান, খুনিদের শনাক্তের জন্যে ওয়েল ফুডের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মোক্তার আহমদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্তকাজ শুরু করে দিয়েছি। খুনিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরাই জড়িত। কারণ বাবুল আক্তার জঙ্গি দমনে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। ’

এদিকে, ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেছেন স্ত্রীর মরদেহ দেখতে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: