সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘বাবা থাকলে মাকে ওরা মারতো পারতো না’

3নিউজ ডেস্ক :: জিইসি মোড়ের ইকুইটি সেন্ট্রিয়াম ভবনের ‘সেভেন ডি’ অ্যাপার্টমেন্টের পরিবেশটা আজ বেশ গমগমে। এই অ্যাপার্টমেন্টেই থাকতেন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী-সন্তানেরা।বাসাটিতে খুব ভিড় আজ।বন্ধু-বান্ধব, চেনা-আধচেনা-এদের কেউ পুলিশ কর্মকর্তা, কেউ বা তাদের স্ত্রী তো আবার কেউ ভবনের পাশের অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা।সবার জল পড়ছে চোখ থেকে, নড়ছে না শরীরগুলো।

এমনিতেই প্রায় সময়ই এই বাসাতে আত্মীয় স্বজনদের ভিড় থাকতো।তবে সেসব ছিল আনন্দের। আজকের পরিবেশটা বেশ ভারিই। শোকের মনস্তাপ চলছে ওখানে। এর মধ্যে একটা ছবির ফ্রেম প্রায় সবার হাতে হাতে ঘুরছে। এই ছবিটা বাবুল আকতার, তার দুই সন্তান ও তার সদ্য নিহত স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর।

মেয়ে তাবাস্মুম তাজনীম তাপুরকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে মা মাহমুদা খানম মিতু। ছেলে আকতার মাহমুদ মাহিকে জড়িয়ে ধরে বাবা বাবুল আকতার।

সাদাসিধে একটা সুন্দর পারিবারিক ছবি। কিন্তু এভাবে আর কখনও ছবি তোলা হবে না। মায়ের কোলে চড়া হবে না ছোট্ট তাপুরের। মায়ের হাত ধরে স্কুল বাস ধরা হবে না মাহিরের।

রোববারের সকাল সাতটার পর থেকে এটি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। এই ছবির বাম থেকে দ্বিতীয় সিরিয়ালে থাকা মানুষটা আজ থেকে নাই হয়ে গেলেন।

আদতে বছর সাড়ে চারের ছোট্ট তাবাস্মুম তাজনীম তাপুরের ওসব বুঝার বয়স এখনও হয়নি। তবে আজ বাসার পরিস্থিতি দেখে, বড় ভাই আকতার মাহমুদ মাহির মায়ের জন্য হাহাকার দেখে, আশপাশে প্রিয় মা’কে না দেখে সেও বুঝে গেছে মা তার আর নেই।

তাই এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর কোলে চুপটি মেরে নিশ্চুপ বসে থাকা তাবাস্সুম তাজনীম তাপুর শুধু একটি বারই মুখ খুলল।

সেই কথাটাই কত হাহাকারের, বাবার প্রতি কতটা আস্থার।

সে ভিড় ভিড় করে বলতে থাকে, ‘বাবা থাকলে আজ ওরা মাকে মারতো পারত না।’

পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বদলী হয়ে বাবুল আকতার সম্প্রতি চট্টগ্রাম ছেড়েছেন।ঘটনার সময় তিনি ঢাকাতেই ছিলেন।

এরপর আর কথা বাড়ালো না সে। কেবল চেহেরায় আতঙ্ক আতঙ্ক ভাব নিয়ে তাকাচ্ছে এদিক-ওদিক।

আকতার মাহমুদ মাহির চট্টগ্রাম ক্যানটেনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।তাকে স্কুলের গাড়িতে তুলে দিতেই হেঁটে বাসার অদূরের জিইসি মোড়ে যাচ্ছিলেন মা মাহমুদা খানম মিতু।

মায়ের ওপর হামলার সময় একমাত্র স্বাক্ষী ছেলে আকতার মাহমুদ মাহির।এ শোক কীভাবে সইবেন ছোট্ট মাহির। সে নিজেও আঘাত পেয়েছে বাম পায়ে।

শোকে মুহ্যমান ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে ‘তিনজন মোটরসাইকেলে করে এসে প্রথমে মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এসময় তারা আমাকে একটু দূরে সরিয়ে দেয়।পরে মায়ের পেটে তারা চাকু দিয়ে পর পর আঘাত করে। এরপর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।’

সদ্য মা হারা শোকাস্তব্দ দুই শিশুকে আগলে রেখেছেন সিনথিয়া আখতার, শাহেদা আলম জোনাকি নামের দুই নারী। এরা দুজন দুটি থানার পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী।স্বামীর চাকরির সূত্র ধরে নিহত মাহমুদা খানম মিতুর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা।সেই ঘনিষ্ঠতা ছাড়িয়ে তারা ছিলেন তিন বান্ধবী, সুখ-দুঃখের সঙ্গী।

সিনথিয়া আখতার বলেন, ওই স্কুলে আমার ছেলেও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। আগে স্কুল শুরুর সময় সকাল ৮টা হলেও শনিবার রাতে ভাবি আমাকে ফোন করে জানান তাকে স্কুল থেকে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। রোববারে স্কুলে অ্যাসেম্বলি হবে।তাই মাহিরকে সাতটা ২০ মিনিটে স্কুলে পৌঁছাতে হবে। স্কুলের গাড়িও একটু এগিয়ে সকাল ৬ টা ৫০ এর দিকে জিইসি’র মেরিডিয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে স্কুলের বাস আসবে। তাই ভাবি ছেলেকে গাড়ি তুলে দিয়ে আসতে ৬ টা ৪০ এর দিকে বাসা থেকে বের হন।’

শাহেদা আলম জোনাকি বলেন, ‘বিখ্যাত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। অথচ ভাবির মনে কখনও অহংকার দেখিনি। এই মানুষটাকেও এভাবে মেরে ফেলতে পারল তারা। এভাবে দুই শিশুকে রেখে চলে যেতে হলো।’ বলতে বলতে কাঁদতে থাকেন তারা দুজন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: