সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব শেষ মৎস্য দপ্তরের: হাকালুকিতে মা মাছ ও পোনা নিধনের মহোৎসব

daily sylhet 0-150 copyজালাল আহমদ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিতত এশিয়ার সর্ববৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরটি এখন বিল ও মাছখেকো সিন্ডিকেটের কবলে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোপূর্বে সরকার হাওরের বেশ কয়েকটি বিলের ইজারা স্থগিত রেখে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারের এ উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে হাওরপাড়ের কতিপয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কালো থাবায়। তারা ভাড়াটিয়া জেলে দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের অবৈধ জালে মা ও পোনা মাছ আহরণ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

টোকেন সিস্টেমে প্রতিদিন অন্তত ৫-৭ লাখ টাকার পোনা মাছ নিধন হচ্ছে। অবৈধ মৎস্য নিধন বন্ধের দাবিতে মৎস্যজীবি সমিতি গত মাসে দুই দফা জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। প্রতি বছরের ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ তোড়জোড় করে পালন করা হয়, কিন্তু মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় প্রশাসনের যেনো কিছু করার নেই। পোনা মাছ বন্ধে এলাকায় মাইকে ঘোষণা দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে স্থানীয় মৎস্য দপ্তর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে ২৩৮টি বিল রয়েছে। বিলগুলো ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। বর্ষা মৌসুমে হাকালুকির বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে নানা প্রজাতির মা মাছ যখন বংশ বিস্তারে তৎপর, তখনই শিকারিদের ফাঁদে পড়ে ডিমওয়ালা মাছ। ফলে দ্রুত মাছের বংশ বিলুপ্ত হচ্ছে। শিকারিদের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া মা মাছ ডিম ছাড়ার পর পোনামাছ নিষিদ্ধ কাপড়ি জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে অসাধু জেলেরা মাছ আহরণ করছে। জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া, সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ-এই ৬ উপজেলায় সম্পৃক্ত মিঠাপানির বৃহত্তম হাওর হাকালুকি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দুধাইবিল বদ্ধজলমহাল, হুগলা, বরাং, তামসাকুড়ি, সিংজুড়ি নদী (বদ্ধ) জলমহালসহ প্রায় প্রতিটি ইজারাকৃত ও অভয়াশ্রম ঘোষিত জলমহাল থেকে প্রতিরাতে নিষিদ্ধ কাপড়ি ও বেড়জাল দিয়ে পোনা মাছ নিধন হচ্ছে। হাওরপারের প্রভাবশালীরা ১৫-৩০ জনের একেকটি গ্রুপে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে জেলে নিযুক্ত করে ৫-৬ হাজার ফুট লম্বা কাপড়ি জাল দিয়ে পোনা মাছ আহরণ করছে। ভোরবেলা খাঁচায় ভরে পোনা মাছ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়ে থাকে। গত বছর উপজেলা প্রশাসন রাস্তা থেকে পোনা মাছের ১-২ চালান জব্ধ করলেও এবার তা চোখে পড়েনি।

খুটাউরা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সমিতি হাওরের দুধাই বিলটি ১৪১৯ বাংলা হতে ১৪২৪ বাংলা পর্যন্ত ইজারা নিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বর্ষার মৌসুমে হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামের জাফর মিয়া, মাসুক মিয়া, আব্দুল হক, ছফর উদ্দিন, খালেদ আহমদ গংরা প্রতিরাতে ইঞ্জিন নৌকায় হাজার হাজার ফুট লম্বা নিষিদ্ধ কাপড়ি জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ আহরণ করে বিক্রি করছে। গত ১৭ ও ২৫ মে প্রশাসনের উচ্চমহলে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

আহমদপুর একতা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মলিন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তাদের সমিতি হাকালুকির হুগলাসহ কয়েকটি বিলের ইজারা নিয়েছে। কিন্তু অসাধু ব্যক্তিরা বিল থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে পোনা মাছ নিধন করছে। তাদের বাঁধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ১৫ দিন আগে সমিতির পক্ষ থেকে তিনি জলমহালে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু ইউসুফ অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইতোপূর্বে হাওর থেকে তিনি বেশ কিছু অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেন। অবৈধভাবে মা ও পোনা মাছ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিগগির হাওরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: