সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংস্কৃতিখাতে বাজেট অপ্রতুল : বিশিষ্টজনের প্রতিক্রিয়া

54নিউজ ডেস্ক : জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবারের বাজেটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ৪২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১৮০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ঐতিহাসিক নিদর্শনের রক্ষণাবেক্ষণ অথবা মেরামত, ই-বুক এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংস্কৃতিখাতে বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি হল এ জাতির অসাম্প্রদায়িক ইহজাগতিকতা ও নান্দনিকতার ভিত্তিপ্রস্তর। এর সংস্কৃতি চেতনায় জাতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাহিত্য বিকাশ ও সুকুমার বৃত্তির বহিঃপ্রকাশে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আবহমান ধারায় আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সকল অঙ্গনে অবদান রাখতে সচেষ্ট আছি।’
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সাধারণ মানুষকে বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ছয়টি জেলায় পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণের পাশাপাশি পুরান পত্র-পত্রিকার ডিজিটালাইজেশন এবং নির্বাচিত পুস্তকসমূহ ই-বুকে রূপান্তরের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে হালুয়াঘাট, দিনাজপুর ও নওগাঁতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক একাডেমি নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছি।’
এদিকে সংস্কৃতিখাতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিশিষ্টজনেরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের ভাষ্য, দেশীয় সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে এবং মৌলবাদকে রুখতে জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতিখাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
আহমদ রফিক, ভাষা সংগ্রামী ও রবীন্দ্র গবেষক
বাংলাদেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সুতরাং সংস্কৃতিখাতে বাজেট যা দেওয়া হয়েছে তা বরাবরের মতোই অপ্রতুল। আমি মনে করি, এ খাতে বাজেট আরও বৃদ্ধি করা উচিত।’
রামেন্দু মজুমদার,সাম্মানিক সভাপতি, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট (আইটিআই)
সুন্দর মনবিক সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রের সংস্কৃতিখাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই খাতটিই সরকারের কাছে সব সময় অবহেলিত। প্রস্তাবিত বাজেটে এবার কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। তবে সেটি বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রকে সংস্কৃতিখাতে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।
মামুনুর রশীদ,নাট্যব্যক্তিত্ব
সংস্কৃতিখাতে এবার বাজেট বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই বৃদ্ধি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এই বৃদ্ধিতে কিছুই হবে না। রাষ্ট্রের কাছে সংস্কৃতিখাত সব সময় উপেক্ষিত ছিল। এখনো উপেক্ষিতই আছে।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
সংস্কৃতিখাতে এবার প্রস্তাবিত বাজেট বাড়ানো হয়েছে। এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে এই বৃদ্ধি আশানুরূপ নয়। জঙ্গীবাদের যে উত্থান ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। এক্ষেত্রে সংস্কৃতিখাতে বাজেট আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
গোলাম কুদ্দুছ,সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট
সংস্কৃতিখাতে এবারের বাজেট আমাকে দারুণভাবে হতাশ করেছে। সংস্কৃতিচর্চাকে প্রান্তিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বাজেট যথেষ্ট নয়। সারাদেশে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংস্কৃতিখাতে বাজেট আরো বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের দেশের অধিকাংশ উপজেলায় কোন ভালো মিলনায়তন ও উন্মুক্ত মঞ্চ নেই। শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। এই অপ্রতুল বাজেটে সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রবীর সরদার,সাধারণ সম্পাদক, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
সরকার বিভিন্ন সময় বলেন, সংস্কৃতি রাষ্ট্রের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সংস্কৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংস্কৃতিখাতেই বাজেটে আমরা সব সময় অবহেলা দেখি। সুন্দর সমাজ নির্মাণ করতে হলে সংস্কৃতিখাতে বাজেট আরো বাড়ানোর প্রয়োজন। এটা আমরা অনুভব করলে হবে না, সরকারের দায়িত্বশীল মানুষদের বুঝতে হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: