সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশে ফিরে অপু ও শাওন সম্পর্কে যা বললেন মাহি

12507446_829551573838206_815767042903822403_nবিনোদন ডেস্ক :: মাহিয়া মাহি। বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় নায়িকা। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন সিলেটের পারেভজ মাহমুদ অপুকে। বিয়ের দুদিন না যেতেই অন্তর্জাল দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তার কথিত স্বামী ‘শাওন’র সাথে অন্তরঙ্গ ছবি। এ নিয়ে তিনি মামলাও করেছেন আইসিটি আইনে।

মামলাটির বর্তমান পরিস্থিতি, তার ক্যারিয়ারের বর্তমান ও পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দীর্ঘ ফোনালাপের প্রথম শর্তই ছিল বিয়ে, মামলা নিয়ে কোনো প্রশ্নই করা যাবে না। তারপরেও যতটুকু সম্ভব জানার চেষ্টা করেছেন প্রতিনিধি।

আপনি কি দেশে? ভারতে গিয়েছিলেন?
আমি দেশে না থাকলে তুমি আমাকে ফোনে পেলে কীভাবে? ভারত থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালের ফ্লাইটেই দেশে ফিরেছি।

কোনো ছবির মিটিং ছিল নাকি বিজ্ঞাপনের?
না আমার একটা ব্যক্তিগত শুট ছিল। এটা বলার মতো কিছু না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার…
এটা নিয়ে আমি এখন কোনো কথা বলব না। প্রসেসিং চলছে। কখন কী হচ্ছে জানতে তো পারবা। কাজের বিষয় নিয়ে কথা বললে রাজি আছি, না হলে…

কিন্তু মামলা, কাবিননামা এসব বিষয়ে কথা না বললে মানুষ কীভাবে জানবে সত্যটা কী কিংবা আপনার ব্যাখ্যা কী?
বললাম না সময় হোক এমনিই জানবা। এসব ব্যাপারে কথা বললে কিন্তু ফোন রেখে দিব। আর কী বলব বল? যাই হোক এটা তো দুদিনের ব্যাপার সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি যতদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি আমার নামে যত নেগেটিভ নিউজ হয়েছে আমার কাছে সেসব ভালো লেগেছে। নেগেটিভও এক ধরনের প্রচারণা। আমি উপভোগ করি। কোনো ব্যাপার না এগুলো। তবে এবার একটু নড়েচড়ে বসেছি অপুর কারণে। ও নতুন মানুষ, এতকিছু বোঝে না। দেখলা না এত এত সাংবাদিক দেখে বিয়ের দিন কীভাবে ভড়কে গিয়েছিল। ওকে নিয়ে একটু টেনশনে ছিলাম। অপু সব কিছু বুঝছে, সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। এ ছাড়া আমি সারাজীবনই কুল। আমার বন্ধুরা বলে আমার মাথায় নাকি বরফ দেওয়া থাকে সবসময়।

বিয়ের পর ইন্ডাস্ট্রির বেশির ভাগই বলছেন আপনি একজন অপেশাদার শিল্পীর মতো কাজ করেছেন।
আসলে আমি পেশাদার নায়িকা না। পেশাদার হলে জীবনে এত হুট-হাট কাজ করতাম না। আমি মনে করি প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু একটা আছে। আমার পরিবার চাইছে আমি বিয়ে করে ফেলেছি। আমার ক্যারিয়ারের কী হবে, এটা তো আল্লাহ্‌ দেখবে। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি তার সবই মনে হয় ভাগ্যের জোরে পেয়েছি। খুব বেশি চেষ্টা করি নাই, প্রাপ্যও ছিল না আমার। এ সব ব্যাপার নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। তবে আমি চাই অপুকে নিয়ে সুখী হতে। মিডিয়ার মানুষের সংসার টেকে না এ কথা আমি সত্য হতে দেব না।

কাজের ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করি, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’র শুটিং করার কথা ছিল।
সকালে বিমান থেকে নামার পর আমি অপেক্ষা করছিলাম পরিচালক কখন আমাকে ফোন করবে। নিজে ফোন করতে গিয়েও দেখি কোথাও ফোন যাচ্ছে না। পরে বুঝতে পারি আমার সিম বায়োমেট্রিক করানো হয়নি। সকাল সাড়ে দশটার দিকে বায়োমেট্রিক করিয়ে পরিচালক শাহনেওয়াজ শানু ভাইয়াকে ফোন করে জানতে পারি আমাকে না পেয়ে তারা শুটিং প্যাকআপ করে দিয়েছে।

তাহলে কি শনিবার থেকে?
হ্যাঁ একটা দিন বিশ্রাম নিই। তবে কোথায় শুটিং হবে তা এখনো জানি না, পরিচালক বলতে পারবেন।

‘হারজিত’ও এ মাস থেকে শুটিং হওয়ার কথা। ‘ঢাকা অ্যাটাক’র তো শুটিং বাকি।
আমি যতদূর জানি ‘হারজিত’র এখনো স্ক্রিপ্টিং চলছে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’র ১২-১৩ দিন বাকি। কিন্তু কোনোটারই এখনো শিডিউল নেওয়া হয়নি।

বলিউডের ছবিতে কাজ করছেন শুনলাম।
হ্যাঁ, তোমাকে বলেছে! আমি তো হলিউডের ছবিতেও কাজ করছি। (অট্ট হাসি)। আরে এ সব খবর ভুল।

ভাইয়া কোথায়?
ভাইয়া মানে? অপু?

হ্যাঁ।
অপু ঢাকায় আছে। ও ওর বাসায় আমি আমার বাসায়। কালকে চলে যাবে সিলেট। আসলে সিলেটের রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত ও আমার বাড়িতে, আমি ওর বাড়িতে যেতে পারব না।

‘বাদশা’য় ফারিয়া নায়িকা থাকায় আপনাকে অফার করায় আপনি করেননি। কিন্তু ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ তে তো পরীমনি নায়িকা ছিলেন। তাহলে একই কারণে একটা ছবি করলেন আরেকটা ছবি ছাড়লেন, বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন কী?
এমন না যে ফারিয়া ছবিটা ছেড়ে দিয়েছিল। ওর সাথে কথা চলছিল। তাহলে ওর ছবি আমি কেন করতে যাব? আরেকটা ব্যাপার ছিল এখানে, জাজের সাথে অনেক দিন কাজ না করায় শিডিউল মেলাতে সমস্যা হচ্ছিল। আর পরীমনি ছিল, আমি জানি না। ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা প্রজেক্ট হিসেবে আমার কাছে এসেছে।

পরীমনি কিন্তু ছবিটির ৩-৪ দিন শুটিংও করেছেন।
তোমাকে বুঝিয়ে বলি। আমার ‘দবির সাহেবের সংসারে’ প্রথমে সাইমন ভাইয়া কাজ করেছিলেন ১০-১২ দিন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে রোজকে নেওয়া হল এবং পুরো ছবি সম্পূর্ণ নতুন করে শুট করা হল। এটাও প্রথম থেকে শুটিং হবে এবং আমি যতদূর জানি স্ক্রিপ্টেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে। তাছাড়া বাপ্পির সাথে অনেক দিন কোনো কাজ করা হচ্ছিল না, তাই করা।

আমিন খান ‘ধামাকা’ বন্ধের জন্য আপনাকে দায়ী করেছেন।
আমি কিন্তু মহরত থেকে শুরু করে সব জায়গায় বলেছিলাম ছবিটা আমি করছি মালেক আফসারী স্যারের জন্য। কিন্তু তাকে বাদ দেওয়া হল হঠাৎ করে। শুটিং শুরুর একদিন আগে বলল, ‘শুটিং হবেনা এ শিডিউলে।’ পরিচালক ও শিডিউল নিয়ে সমস্যা হওয়ায় কাজটা করা হয়নি, আমাকে দায়ী করার কী হল বুঝলাম না।

নয় লাখ টাকা সম্মানীর সাড়ে চার লাখ টাকা আপনাকে অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। আপনি সে টাকাও ফেরত দেননি।
এখন ধরো পরশু শুটিং। তুমি একদিন আগে ফোন দিয়ে বললা, ‘আমরা এ ডেটে কাজ করতে পারছি না। তুমি শিডিউলটা অন্য কাউকে দিয়ে দাও।’ তাহলে কীভাবে দিব? আমি কাউকে হুট করে বলতেও পারি নাই। ১০-১৫ দিন আগে বললেও হতো। আমি অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারতাম। ওনারা দু-তিন মাস পরে এসে বলল, আমরা ছবিটা আবার শুরু করছি, নয় লাখ টাকা থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আগে দেওয়া হয়েছে। তোমাকে আমরা বাকি টাকাটা দিচ্ছি, তুমি শিডিউল দাও। আমার পুরো মাসের শিডিউলের দাম দশ লাখ টাকা। এখন যেখানে পুরো মাস কাজ করলে আমি দশ লাখ পাব, সেখানে সাড়ে চার লাখে কেন আমি কাজটা করব? আমি তো শিডিউল ফাঁসাই নি, আমি তো বসে উপস্থিত ছিলাম। আমার শিডিউল নষ্ট করল, এটা তাদের দোষ। তাদের কারণে আমি পুরো এক মাস বসেছিলাম। এটার দায়িত্ব কেন আমি নিব?

তারপরও নৈতিকতার জায়গা থেকে কিন্তু প্রশ্ন এসেই যায়…
আমি তোমাকে ব্যাখ্যা করি, এটা আমার পেশা, আমি এখান থেকে আয় করি, নিজে চলি। জিনিসটা হচ্ছে তুমি আমার পুরো শিডিউল নষ্ট করলা, এটা তোমার দোষ। হুট করে ২-৩ মাস পরে এসে বললা দশ লাখের জায়গায় সাড়ে চার লাখ টাকায় কাজটা করে দিতে। এখন তুমি নতুন করে শিডিউল চাইলে নতুন করে সম্মানী ঠিক হবে। হতে পারে সেটা সব সময়ের চেয়ে কিছুটা কম হবে। আরেকটা কথা সাইনিং মানি কিন্তু ফেরত দেওয়া হয় না।

আপনার নিজের প্রযোজনায় ‘মায়ার বাঁধন’ তো এক বছর যাবত হবে হবে করে হচ্ছে না।
যখন ঘোষণা দিয়েছিলাম তখন আমার জাজের সাথে মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল। তারা আমাকে সাহায্য করবে ছবিটা বানাতে, যেহেতু আমি জানি না কীভাবে ছবি প্রযোজনা করতে হয়। আমার কাছে কিছু টাকা ছিল, সাথে হল মালিকদের সাপোর্ট। সব মিলিয়ে আমি বিনিয়োগ করতাম। সবাই মিলে গুছিয়ে দেওয়ার ব্যাপার ছিল। কিন্তু সে গুছিয়ে দেওয়ার লোক নেই এখন। সেক্ষেত্রে প্রজেক্টটা অনিশ্চিত। আমি জানি না হবে কী হবে না। এটা নিয়ে আপাতত চিন্তাও করছি না।

এটা যদি আপনাকে কেউ গুছিয়ে দেয়, তাহলে করবেন কি না?
অবশ্যই। এটা আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট। তাছাড়া গল্পটাও আমার হাতে নেই এখন। এটা পরিচালক অশোক পাতি নিজে দেখাশোনা করছিলেন।

‘স্কর পিয়নহাট’ বন্ধ কেন?
তুমি তো জানো আমি সবকিছু হুটহাট করি। আবার কখনো যদি মনে হয়, তাহলে শুরু করব?

কেন লস খেয়েছেন নাকি?
কী বল? আমি লস খাবো। ‘ইয়োলো রোমান্স’ বিক্রি করে এক লাখ টাকা আয় করেছিলাম। সব মিলিয়ে আমার বিনিয়োগ ছিল ত্রিশ হাজারের মতো। মূলত এটার জন্য ফেসবুকে একটা পেজ নিয়মিত চালু রাখতে হয়। যেটার জন্য দেওয়ার মতো সময় আমি বা আমার কোনো বন্ধুরই নেই। আর পেজে দেওয়া নম্বরে প্রতিদিন চৌদ্দ হাজার কল আসত, ফলে বাধ্য হয়ে আমরা নম্বরটি বন্ধ করে দিই।

শেষ প্রশ্ন, মাহির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? মামলায় হারলে কী করবেন?
মামলা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবা না কথা ছিল। আর আমি কখনো ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কাজ করি না। ভাগ্যে বিশ্বাসী, ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: