সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

থাইল্যান্ডের বাঘমন্দিরে বাংলাদেশি বাঘ

24ফিচার ডেস্ক ::

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের ঐতিহাসিক বাঘমন্দির আবারও বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে। থাই পুলিশ মন্দিরটিতে অভিযান চালিয়ে অনেকগুলো প্রাপ্তবয়ষ্ক বাঘের চামড়া থেকে শুরু করে বাঘের বাচ্চাও উদ্ধার করে। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক এই মন্দিরে ভ্রমনের উদ্দেশ্যে আসলেও, এই মন্দিরেই যে এতগুলো বাঘকে বিভিন্ন সময়ে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো খবর বিশ্ববাসী জানতো না। এর আগেও এই মন্দিরটি বিভিন্ন সময়ে আলোচনার টেবিলে এসেছে কিন্তু এবারের মতো বিতর্কে এর আগে পরতে হয়নি মন্দিরটিকে।

বাঘমন্দিরটির থাই নাম হলো ওয়াত ফা লুয়াং তা বু ইয়ান্নাসাম্পান্নো। থাইল্যান্ডের কাঞ্চনবুড়ি প্রদেশে অবস্থিত এই মন্দিরটিতে প্রথম বাঘ শাবক প্রবেশ করে ১৯৯৯ সালে। ওই একই বছর মন্দিরটিতে আরও সাতটি মন্দির আনা হয়েছিল। মন্দির কর্তৃক্ষের দেয়া তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত মন্দিরে অন্তত ১৩৭টি বাঘ ছিল। এই বাঘেদের মধ্যে অধিকাংশই হলো বাংলাদেশের। আর বাংলাদেশি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়া যেগুলো রয়েছে তার সবগুলোই হাইব্রিড জাতের। মন্দিরটিতে রাষ্ট্রীয় অনুমতি ছাড়াই বাঘের পাশাপাশি কয়েকটি শিয়াল, শিংযুক্ত পাখি এবং এশীয় ভাল্লুকও ছিল।

পর্যটকদের এই মন্দিরে প্রবেশ করতে গেলে প্রায় ১৬ ডলার খরচ করতে হয়। এছাড়াও কেউ যদি মন্দিরের পোষা বাঘ বা অন্যান্য পশুদের খাওয়াতে চায় সেজন্য গুনতে হয় আরও বাড়তি কিছু অর্থ। প্রতিবছর সহস্রাধিক মানুষ মন্দিরটিতে স্রেফ পোষ মানা বাঘগুলোকে দেখার জন্যই আসে। অভিযোগ আছে মন্দিরের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা বাঘগুলোকে সঠিকভাবে দেখাশোনা করেন না। শুধু তাই নয়, অবৈধ উপায়ে বাঘ পাচার করা থেকে শুরু করে বাঘ শাবক জন্মদানের ঘটনাও তাদের হাত দিয়েই হয় বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠলেও, প্রতিবারই এই অভিযোগ সন্ন্যাসীদের পক্ষ থেকে বাতিল করে দেয়া হয়।

তবে মন্দিরেরই সাবেক এক কর্মচারী দাবি করেন যে, মন্দির কর্তৃপক্ষ বাঘেদের প্রহার করতো এবং ভালো করে খেতেও দিত না। প্রয়োজনের তুলনায় ছোটো খাচার মধ্যে রেখে অত্যাচার করারও অভিযোগ করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির পক্ষ থেকে করা এক রিপোর্টে জানা যায়, মন্দিরের সন্ন্যাসীরা অধিক লাভের উদ্দেশ্যে বাঘ শাবক বিক্রির ব্যবসাও করতেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মন্দিরটি থেকে তিনটি বাঘ স্রেফ গায়েব হয়ে গিয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ওই বাঘগুলোর শরীরে মাইক্রোচিপ লাগানো ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মন্দিরের চিকিৎসক সোমাচি ভিসামোংকোলচাই জানান যে, বাঘগুলোর শরীর থেকে মাইক্রোচিপ খুলে রাখা হয়েছিল।

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের বক্তব্য
গত মার্চ মাসের ৪ তারিখ মন্দির কর্তৃপক্ষ ফেসবুক পেইজে জানায় যে, মন্দির কালোবাজারে বাঘ শাবক বিক্রির সঙ্গে জড়িত নয়। কিছু পশু সংরক্ষণ সংস্থার পক্ষ থেকে মন্দিরটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, কিন্তু সেই অভিযোগ যথার্থ নয়। যতদুর জানা যায়, বছর মন্দিরটির উপার্জন প্রায় তিন মিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমান অর্থ কোন কোন খাত থেকে আসে তার কোনো হিসেব মন্দির কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। ডব্লিউএফএফটি নামের একটি থাই পশু অধিকার সংস্থার তথ্য মতে, মন্দিরটির বাৎসরিক উপার্জনের একটি বিশাল অর্থই আসে বাঘ শাবক বিক্রি থেকে।

২০০১ সাল থেকেই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে দ্য ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাশনাল পার্কের(ডিএনপি) দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ডিএনপি কয়েকবার মন্দিরে ঠিক কত সংখ্যক বাঘ আছে তা গণনার প্রস্তাব দিলেও, প্রতিবারই মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়া হয়। অতি সাম্প্রতিককালে মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি চিড়িয়াখানার লাইসেন্স দাবি করে সরকারি কর্তৃপক্ষ বরাবর। সাময়িকভাবে সেই লাইসেন্স দেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তার আবার কেড়ে নেয়া হয়। ডব্লিউএফএফটি পরিচালক টন টেইলর বিবিসিকে জানান, ‘মন্দিরে ঢোকার মাত্র একটি ছোটো গেট। আর ওই গেট দিয়ে সন্ন্যাসীরা যাতায়াত করে। আমাদের ওই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।’ তারপরেও গত মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে মন্দিরে অভিযান চালানো হয়।

সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রথম দুই দিনে মোট ৪০টি বাঘ উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানে মোট এক হাজার মানুষ অংশগ্রহন করে এবং টম টেইলর আশাবাদী যে, আরও ৯৭টি বাঘ পাওয়া যাবে মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে। মন্দির কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার মাঝেও এখনও কাজ করে যাচ্ছে তদন্তকারী দল। ধারনা করা হচ্ছে, অভিযান শুরুর রাতেই চারটি বাঘ মন্দির থেকে পালিয়ে যায়। মন্দিরের রান্নাঘরের ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪০টি মৃত বাঘ শাবক। এছাড়াও বিভিন্ন বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশও ফ্রিজে পাওয়া যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: