সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখার হাকালুকি তীরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, দুর্ভোগ চরমে

hakaluki news daily sylhetজালাল আহমদ:
তিন দিন ধরে তাপদাহ চললেও হাকালুকি হাওরসহ অন্যান্য জলাশয়ে ও নদীতে পানি কমছে আশার চেয়েও কম। পানি না কমায় বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে হতাশা। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রাথমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে ছাত্রশূন্য।

অতি সম্প্রতি রোয়ানুর প্রভাবে ক্রমাগত বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে আসা পানি বড়লেখা উপজেলার নি¤œাঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মানবসৃষ্ট কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। উপজেলায় দেখা দেয় কৃত্রিম বন্যা। হাকালুকি হাওরে জলাবদ্ধতাজনিত কারণে হাওরতীরের বাসিন্দারা রয়েছেন পানিবন্দী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। রাস্তাঘাট জলমগ্ন থাকায় শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। বিদ্যালয়গুলো রয়েছে অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ। বিদ্যালয়গুলো হলো-হাওর তীরবর্তী হাকালুকি সপ্রাবি, হাকালুকি দারুস সুন্নাহ মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসা, হাকালুকি এতিমখানা, গগড়া সপ্রাবি, পাবিজুরী সপ্রাবি, খুটাউরা সপ্রাবিসহ আরও কয়েকটি।

cf1ad4ff-b077-42c8-9c09-d49bcbfbc162সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণগুলোর মধ্যে অবৈধ দখলের কারণে হাকালুকি হাওরের পানি ধারণ ক্ষমতা কমেছে। উজান থেকে আসা নদীনালা ও খালবিল অবৈধ দখল থাকার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হ্রাস পেয়েছে। হাকালুকি পারের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন, শাহজান মিয়া, বশির উদ্দিন, হৃদয় দেবনাথ, সুমন চন্দ্র দাস, মৃণাল কান্তিসহ অনেকেই জানান, হাকালুকিতে দ্রুতগতিতে পানি নামার গতিপথ তথা ফেঞ্চুগঞ্চ এলাকায় অবস্থিত পিটাইটিকর প্রভাবশালীরা গতিপথকে ক্রমান্বয়ে দখল করে ভূমি ভরাট করে ব্রিকফিল্ড তৈরি করায় হাকালুকির পানি দ্রুতগতিতে কমছে না। তাদের বীজতলা রয়েছে পানির নিচে। এতে আমন চাষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন জানান, আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি এ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মানবসৃষ্ট কারণে আকষ্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে তলিয়ে যায় পৌর শহরসহ উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন। দোকানে পানি ওঠে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। পুকুর ও খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন খামারিরা।

পৌর এলাকাসহ উপজেলার কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ ও সুজানগরের কিছু অংশ থেকে পানি কমে গেলেও পানির চাপ বৃদ্ধি পায় হাকালুকি হাওরে। এ কারণে হাওর তীরবর্তী শতাধিক গ্রামের মানুষ কার্যত পানিবন্দী অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। সরকারি সহায়তাটুকুও পাননি ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী এলাকার লোকজন। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লেখাপড়ায়ও বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের। অনানুষ্ঠানিভাবে অনেক বিদ্যালয় বন্ধও রয়েছে।

পানি অরিবর্তিত থাকায় দুই সপ্তাহের অধিক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করলেও এ পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

35b95120-968b-46e2-ad31-e42b341784f8সরেজমিনে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা, খুটাউরা, মুর্শিবাদকুরা, গগড়া; সুজানগর ইউনিয়নের রফিনগর, ভোলারকান্দি, পাটনা, দশঘরি, উত্তর বাঘমারা, রাঙ্গিনগর, বাড্ডা, বাঘেরকোণা, তেরাকুড়ি গ্রাম এবং দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কামিলপুর, রাঙাউটি, শেখপাড়া, পেনাগুল গ্রাম ঘুরে প্রায় প্রতিটি বাড়িঘরে কৃত্রিম বন্যার পানিতে ২-৪ ফুট তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বেলাল উদ্দিন ও সুজিত দাস জানান, বন্যার পানিতে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও মিলেনি সরকারি তরফ থেকে। এছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি থাকায় লেখাপড়াও মারাত্মক বিঘœ ঘটছে।

সুজানগর ইউপি’র দশঘরি গ্রামের ফরিদ উদ্দিন জানান, এপ্রিল মাসের ঘূর্ণিঝড়ে তার ঘর ভেঙ্গে পড়ে। শিলাবৃষ্টিতে টিনের চালায় ব্যাপকহারে ছিদ্র হয়ে যায়। এ সময় গ্রামের প্রতিটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর সাম্প্রতিক আকষ্মিক জলাবদ্ধতাজনিত বন্যায় হাজার হাজার মানুষের বসতবাড়ি তলিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহালেও এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নসিব আলী, বর্ণি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, তাদের ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি সাহায্যের জন্য তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছেন। তবে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলায় অবস্থিত নদী ও খাল অবৈধ দখলদারমুক্ত, হাকালুকি হাওরের পিটাটিকর পানি প্রবাহের পথ প্রশস্ত করলে জলাবদ্ধতায় এভাবে কৃত্রিম বন্যা দেখা দিবে না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: