সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাকালুকিতে পোনা মাছ নিধনকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি

Hakaluki daily sylhetবড়লেখা প্রতিনিধি::
এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে পোনা মাছ শিকারি ও পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই অবাধে পোনা নিধনের কারণে দেশের মৎস্য ভাণ্ডারখ্যাত হাকালুকির মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে। প্রশাসনের নীরবতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীর সহায়তায় পাচারকারীরা প্রতিদিন দুই থেকে তিন মেট্রিক টন পোনা মাছ পাচার করে বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। প্রশাসনের উদাসীনতায় দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে গেছে হাকালুকির সবকটি জলমহাল। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন দরিদ্র মৎস্যজীবিদেরকে দিয়ে হাওরে বেড়জাল, কারেন্ট জাল ও কাপড়ি জাল দিয়ে মাছ শিকার করান। এসব জালে আটকা পড়ছে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা।

হাকালুকি হাওর থেকে পোনা মাছ শিকার করে রাত ১০টা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইলের তেঘরীঘাট ও জুড়ী উপজেলার কন্টিনালা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় শিকারিরা নিয়ে যায়। এগুলো অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বড় বড় শহরের পাইকারদের কাছে নিলামে বিক্রি করেন। পাইকাররা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব পোনা পিকআপ ভ্যানে করে নিয়ে যায় মৌলভীবাজার সদর, হবিগঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে।

বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) চেয়ে কম মাপের শোল, রুই, কাতলা, মৃগেল, কালীবাউশ আইড় এবং বোয়ালসহ সব ধরণের পোনা মাছ ধরা ও বিক্রি এবং বেড়জালসহ ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের কম ব্যাসার্ধের ফাঁকবিশিষ্ট জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু এ সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় ও দারিদ্রতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা তাদেরকে দিয়ে পোনা মাছ শিকার করান-এমনটাই জানালেন হাওরতীরবর্তী কুলাউড়া উপজেলার সাদিপুর জেলেপল্লীর বেশ কয়েকজন জেলে।

হাওরতীরবর্তী বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আঁতাতে বর্ষাকালে প্রতিদিন রাতে ১০ টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত কুলাউড়া’র তেঘরীঘাটে ও জুড়ীর কন্টিনালা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন পাড়ে “রাতের হাট” বসে। হাকালুকি থেকে শিকারীরা পোনা মাছ নিয়ে আসেন এই হাটে। প্রতিটি হাটে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাজারের পাইকারদের (পাচারকারী) কাছে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার পোনা মাছ নিলামে বিক্রি করেন। পাচারকারী ও ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের লোক হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।

তারা আরও জানায়, পোনা মাছ শিকারে ব্যবহৃত কারেন্ট জাল ছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক বেড় জাল রয়েছে কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায়। একেকটি বেড় জাল ৪শ হাত থেকে তিন হাজার হাত পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এসব জালের মালিক ওই সকল প্রভাবশালীমহল। লোক দেখানো অভিযান ছাড়া প্রশাসন কার্যকরী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পোন মাছ নিধনের মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অবাধে পোনা নিধন বন্ধ হবে। প্রভাবশালীমহলের লোকদের নাম জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলায় ১০জনের একটি প্রভাবশালী সিন্ডকেট দল রয়েছে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে তেঘরীঘাট এলাকার “রাতের হাট”। তাদের অধীনে সাদিপুর ও মীরশংকর এলাকায় রয়েছে ১২টির মতো বেড়জাল, বেশ কয়েকটি হাটজাল (মাকড়সার জাল) ও ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা। এই সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় স্থানীয় জেলে ছাড়াও রাজনগর উপজেলার বেশ কয়েকজন জেলে ও ব্যবসায়ী হাওর থেকে পোনা পাচারে সক্রিয় রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বৃস্পতিবার রাতে ঢাকা মেট্রো- ন-১৮-৬৯০৬, ঢাকা মেট্রো- ন- ১৮-০৯৯৯ এই দুটি পিকআপ ভ্যানসহ মোট ৪টি গাড়িতে করে প্রায় ৭টন পোনা মাছ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের তথ্যমতে সরেজমিনে কুলাউড়া স্টেশন চৌমুহনী গিয়ে দেখা যায়, রাত সোয়া ১টা থেকে ১টা ৮মিনিট পর্যন্ত পোন মাছ বোঝাই চারটি পিকআপ ভ্যান বেপরোয়া গতিতে ওই এলাকা ক্রস করে মৌলভীবাজারের দিকে যাচ্ছে। এভাবেই প্রতি রাতেই প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে পোন মাছ নিয়ে যায় পাচারকারীরা।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে পোনা মাছ ও জাল জব্দ এবং জরিমানা করেছি। গভীর রাতে অভিযান পারিচালনা করা অনেকটাই দুঃসাধ্য ব্যাপার। সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে সময়মত তিনটি ডিপার্টমেন্টকে একত্রিত করা যায় না। বিশেষ করে পুলিশ ফোর্স সময় মতো পাওয়া যায় না। তবে কয়েকবার রাতে অভিযানে নেমেছিলাম, কিন্তু পাচারকারীরা অভিযানের খবর পেয়ে সটকে পড়ে তাই তাদেরকে ধরা যায় না।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম বলেন, ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে পোনাসহ আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। পোনামাছ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: