সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাবা বিদেশে, মায়ের পরকীয়ায় দিশেহারা তিন সন্তান

Khalada-Sons-Pic.নিউজ ডেস্ক:
মা-বাবা দুজনই জীবিত। অথচ এতিম ওরা তিন ভাইবোন। বাবা দেলোয়ার হোসেন জীবনের তাগিদে বিদেশ।

মা খালেদা বেগম বাবার বিদেশ থেকে পাঠানো টাকাদিয়ে নিজ নামে জায়গা জমি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদের মালিক হয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে মা-বাবা দুজনই জীবিত থাকা সত্ত্বেও বড় ছেলে মো. তারেক হোসেন (১৮), মেয়ে রজনী খাতুন (১২) ও বিনা খাতুন (১০) মা বাবা দুজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

তারা কোন কূল না পেয়ে অবশেষে বৃদ্ধ দাদা দাদির আশ্রয়ে রয়েছে।এই তিন ভাইবোন তার মাকে ফিরে পেতে বারবার আকুতি জানাচ্ছে আত্মীয় স্বজন ও প্রশাসনের কাছে।

আলোচিত এই ঘটনাটি নওগাঁর পাশে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা পশ্চিমপাড়া গ্রামের।

খালেদার বাবা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, মেয়ে খালেদা বেগমের প্রায় ২০ বছর পূর্বে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা (পশ্চিম পাড়া) গ্রামের রহমানের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়।জীবিকার তাগিদে প্রায় ৮ বছর আগে জামাই দেলোয়ার হোসেন বিদেশে যান।মেয়ের সংসারে তারেক, রজনী ও বিনা নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়।দেলোয়ার হোসেন বিদেশ থেকে খালেদার নামে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার পাঠান। সেই টাকা-পয়সা স্বর্ণলংকার নিজ হেফাজতে নিয়ে নিজের নামে কিছু জায়গা জমিও ক্রয় করে। এ অবস্থায় খালেদার নামে থাকা জমি ও সম্পদের ওপর নজর পড়ে প্রতিবেশী আলতাব হোসেনের ছেলে বখাটে মো. শফিকুল ইসলামের (৩৮)।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ১৮ মে শফিকুল খালেদাকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে আদালতে এফিডেফিটের মাধ্যমে বিয়ে করে।

খালেদা পালিয়ে যাবার সময় স্বামীর পাঠানো জমাকৃত টাকা, নগদ ৩০ লাখ টাকা নিজ নামে ক্রয়কৃত জমির দলিল, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার (যার অনুমান মূল্য ৪লাখ টাকা) নিয়ে যায়।

প্রায় ১৪দিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও খালেদার কোনো সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।বর্তমানে খালেদা কি অবস্থায় আছে এবং সে কি জীবিত না মৃত তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন পরিবারের লোকেরা।

আর মা, বাবা দুজনকেই হারিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে তাদের তিন সন্তান।

প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম টাকা পয়সা, জমি, স্বর্ণ আত্মসাৎ করার জন্য খালেদাকে প্রলোভন দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন খালেদার বাবা আব্দুল খালেক।

এ ব্যাপারে খালেদার ছেলে তারেক হোসেন আক্কেলপুর থানায় গত ২১ মে তারিখে শফিকুল ও তার ছোট ভাই সোহেল (২৫), বোন এলেরা বিবি (২৬) ও তার মা জহুরা বিবির নামে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও আজ পর্যন্ত খালেদার কোনো সন্ধান নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

শফিকুল ও তার পরিবারের লোকজন খালেদার সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুম করাসহ নানা রকম ভয়ভীতি দিয়ে আসছে।

যার কারণে তিন সন্তান ও স্বামীর পরিবারের লোকজন বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

খালেদার বাবা আব্দুল খালেক জানান, খালেদার বর্তমান স্বামী শফিকুল বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের জন্য এ পর্যন্ত ৫টি বিয়ে করার ঘটনা ঘটিয়েছে।

২৫ মে শফিকুলের ৫ম স্ত্রী মোছা. রোকেয়া বিবিকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার জন্য এবং দুই সন্তানকে ভরনপোষন না দেয়া এবং বর্তমান স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে পরকীয়া করে খালেদাকে বিয়ে করার জন্য আক্কেলপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আক্কেলপুর থানার এসআই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আকবর আলী জানান, শফিকুল ইসলাম আদালতে এফিডেফিটের মাধ্যমে খালেদাকে বিয়ে করেছেন। যেহেতু ২ জনই প্রাপ্তবয়স্ক সেখানে অপহরণের অভিযোগ সঠিক নয়। বর্তমানে খালেদা শফিকুলের সঙ্গে ঘর-সংসার করছে।

হুমকির বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসআই আকবর আলী আরও বলেন,বর্তমানে খালেদার কাছে অর্থ ও সম্পদ অর্ধেকটা হলে ও তার সন্তানদের দেয়ার এলাকাবাসী ও স্বজনরা উদ্যোগ নিয়েছেন।কিন্তু এখনও খালেদা তার হেফাজতে থাকা সম্পদ সন্তানদের দেননি।

খালেদার ছেলে তারেক হোসেন বলেন, আমরা কোনো কিছু চাই না, আমরা তিন ভাই বোন আমাদের মা-বাবাকে কাছে পেতে চাই। তিন সন্তানের এই আকুতি কি পৌঁছাবে নিজেদের সুখ শান্তির মোহে আচ্ছন্ন এই পাষণ্ড মার কাছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: