সর্বশেষ আপডেট : ৫৪ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হলো ‘ঝুঁকিমুক্ত’ : আতঙ্ক নিয়ে সিলেট নার্সিং কলেজছাত্রীদের হোস্টেলে ফেরা

20170স্টাফ রিপোর্টার::
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সারা দেশের মতো সিলেটের মাটিও কেঁপে ওঠেছিল। সেই ভূ-কম্পনে শতাধিক ফাটল দেখা দিয়েছিল সিলেট নার্সিং কলেজ ছাত্রীনিবাসে। ভূমিকম্প ও তাতে হোস্টেলভবনে অগণিত ফাটল দেখা দেওয়ায় ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। ভূমিকম্পের পরপরই হোস্টেল ত্যাগও করেছিলেন ছাত্রীরা। পরে পর্যবেক্ষণপূর্বক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই ঢাকা থেকে আসা পর্যবেক্ষন টিম একটি রিপোর্ট দেয় এ ভবন ঝুঁকিমুক্ত। রিপোর্টের পরপরই হোস্টেল কর্তপক্ষ শিক্ষার্থীদেরকে হলে ফেরার তাগিদ দেয়। ফলে বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার থেকে আতঙ্ক সঙ্গী করে ছাত্রীদেরকে ওই হোস্টেলে উঠতে হচ্ছে।

প্রথমদিন হাতেগোনা কয়েকজন ফিরলেও দু’একদিনের মধ্যেই সবাইকে হোস্টেলে ফিরতে বাধ্য রছে সিলেট নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্র জানায়, হল ত্যাগেরে প্রায় ৪০ দিন পর গত ২৬ মে ঢাকা থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুইজন প্রকৌশলী ওই ছাত্রীনিবাসটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত বলে ঘোষণা দেন। তবে কিভাবে ঝুঁকিমুক্ত তার কোনো বর্ণনা দেননি প্রকৌশলীরা।

সিলেট গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমান জানান, ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেয়ার পর সিলেট গণপূর্তের প্রকৌশলীরা ওই ভবনটি একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে ঢাকা অফিসে রিপোর্ট দেয়া হয়। গত ২৬ মে ঢাকা থেকে ২ সদস্যের একটি টিম ছাত্রীনিবাসটি পরিদর্শন করেন। তারা ভবনটির ফাটলগুলো পর্যবেক্ষণ করে তা বসবাসের উপযোগী বলে ঘোষণা দেন। এছাড়াও ফাটলগুলো মেরামত করলেই চলবে বলে সংশ্লিষ্টদের জানান।

এদিকে, প্রকৌশলীদের এমন আশ্বাস মানতে নারাজ ওই ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছে, ছাত্রীনিবাসে এখনো বড় বড় ফাটল রয়েছে। কিন্তু ওই ফাটলের মধ্যে তাদের সেখানে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার থেকে হোস্টেলে উঠতে হচ্ছে তাদেরকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রী বলে, অনেকদিন হয়েছে আমরা হোস্টেল ত্যাগ করেছি। তারপরও কেউ হোস্টেলটি মেরামত করেনি। ভূমিকম্পে সৃষ্ট ফাটলগুলো এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যেই কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের নির্দেশ দিয়েছে হোস্টেলে অবস্থান করার জন্য। তাই আমাদের মনে ভয় নিয়েই হোস্টেলে অবস্থান করেছি।

একাধিক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের নিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চরম গাফিলতি করছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এ দায় প্রতিষ্টান কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

জানতে চাইলে সিলেট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ শিল্পী চক্রবর্তী বলেন, বিশেষজ্ঞরা ভবনটি পরিদর্শন করে বলেছেন- এটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বসবাসের উপযোগী। তাই ১ জুন থেকে কলেজে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ক্লাসের জন্য আবার ছাত্রীদের হোস্টেলে উঠারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, হোস্টেল সূত্রে জানা গেছে, হোস্টেলে আগে ৩৭৪ জন ছাত্রী বসবাস করত। এর মধ্যে মঙ্গলবার ১০০ থেকে ১৫০ জন ছাত্রী সেখানে ফিরেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: