সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ডুবেছে সংবাদ, ডুবেছে শিক্ষার্থী, গজিয়েছে শুধু মূর্খতার লেজ‏

full_1814582516_1464797712ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের একটা ভয়াবহ রিপোর্ট- প্রতিবছর প্রায় ১ মিলিয়ন লোক সুইসাইডে মারা যায়। তার চেয়ে আরো ভয়াবহ হলো -এ্যাটেম্পট হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন। যা কিনা পৃথিবীব্যাপী হোমিসাইড, মার্ডার আর ওয়ারের চেয়েও বেশী। অথচ ওয়ার, সমরাস্ত্র ইত্যাদির পেছনে বিলিয়ন ডলার খরচ আর নানা চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও মানুষের মান উন্নয়নে তেমন কিছুই করা হয়না।

বরং পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ইত্যাদি নানাভাবে এই সুইসাইডে প্ররোচিত করা হয়। এমনি একটা উদাহরণ হলো- ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটা ভিডিও ক্লিপ।

একজন খুনি, অপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী, পতিতাকে যখন মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হয় তখন তাদের চেহারাটা ঢেকে দেয়া হয়। কারণ তাদেরও একটা জীবন আছে। সমাজে যেন অপদস্ত না হয় সেজন্য চেহারাটা ঢেকে রাখা হয়। কিন্ত এই ১৩ কিংবা পনেরজন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চোর, ডাকাত, খুনি কিছুই নয়। নাকি এদেরকে পতিতার চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করলেন? লক্ষ, মিলিয়ন এমনকি কোটি মানুষের সামনে ওদেরকে এভাবে উপস্থাপন করে ওদের মনোজগতটাকে কিভাবে নষ্ট করে দিলেন-সেটা কি একবারও খেয়াল করে দেখেছেন? জীবনের প্রতি প্রবল ঘৃণা নিয়ে এদের একজনও যদি আত্মহুতির পথ বেছে নেয়-এর দায়ভারটা কে নিবে? শিক্ষার গুরুত্ব কিংবা অবনতি বুঝাতে যদি সম্মানিত রিপোর্টার ভাই রিপোর্টি করে থাকেন তবে সেটা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ না করে এইভাবে জনসম্মুখে প্রচারিত করার মানেটা কি? আপনি মশাই একটা ভয়াবহ রকমের শাস্তিযোগ্য অপরাধই করেছেন।

পিথাগোরাসের বাড়ি কই সেটা আমরা কয়জনে জানি। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর নাম বুকে হাত দিয়ে বলেন- কয়জনে বলতে পারবেন?

রবীন্দ্রনাথের একটি গল্প ওরা বলতে পারেনি- আপনি দয়া করে পাঁচটি ছোটগল্পের নাম বলুনতো। আমাদের অহঙ্কার মুস্তাফিজ ইংরেজী জানেনা- কিন্তু সেরা খেলোয়াড় কি হয়নি? প্রয়োজনে ওরাই বাংলা শিখেছে। সবাই কি সাহিত্যিক হবে, ম্যাথমেটিশিয়ান হবে, কেউ কি মুস্তাফিজ হবেনা? কেউ কি একেবারে কমপড়ালেখা জানা আবুল কোম্পানীর মতো একটা বড় কোম্পানীর মালিক হবেনা? যেখানে হাজারো গ্র্যাজুয়েটরা চাকুরি করে।

পিথাগোরাস যে জারজ সন্তান ছিলেন- সেটা কি জানেন? তাকেও যদি শৈশবে এভাবে টিটকারি করা হতো তবে হয়তো আত্মহুতি দিতেন। আজকের পিথাগোরাসই পেতাম না। কারণ-সন্তান কোনোদিনই জারজ হয়না, জারজ হয় সন্তানের বাবা-মা। অথচ, কী দুর্ভাগ্য আমরা অবৈধভাবে যাকে জন্মদিলাম-তাকেই জারজ বলি। তার জন্মদাতাকে নয়!!! অতএব, বিচার করলে, হাসিতামাশা করলে কাকে নিয়ে করবেন একটু চিন্তা করে দেখেন।

কিছুদিন আগে আমি নিজের উদ্যোগেই এরকম একটি জরিপ করেছিলাম। রিপোর্টটা প্রকাশ করেছি। কিন্তু ওদের কারো পরিচয় প্রকাশ করিনি। কারণ শিক্ষার চিত্রটাই তুলে ধরাই উদ্দেশ্য ছিলো। হাসি-তামাশা বা কাউকে অপদস্ত করা নয়। আর দোষটা শুধু ওদের না, দোষটা আমাদেরই। আমরাইতো ওদেরকে তৈরি করছি। অবৈধ শিক্ষা জন্মদানের পিতামাতা কারা? কারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে? এখানে জারজ কে? শিক্ষার্থী নাকি সিস্টেম???

মাটি দিয়ে মূর্তি বানিয়ে আপনি যদি মনে করেন এরা মানুষের মতো কথা বলবে- তবে সেই দোষটা কার? মাটির মূর্তির নাকি মূর্তির কারিগরের?

ডুবেছে সংবাদ, ডুবেছে শিক্ষার্থী, গজিয়েছে শুধু মূর্খতার লেজ।
রিপোর্টারের কমনসেন্সের কাছে হেরে গেছে শিক্ষার্থীদের নলেজ।

আরিফ মাহমুদ: ছোট গল্পকার, আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: