সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমরার পরিবারো ২০/২৫ জন অন্ধ অইগেছইন, কুন দিন আমিও অইযাইমু

daily sylhet newsকোম্পানীগঞ্জ থেকে ফিরে মারুফ হাসান::
জানি না খেমনে কিতা অইল, আমরার পরিবারো ২০/২৫ জন অন্ধ অইগেছইন, কোনদিন আমিও অইযাইমু। অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর কামাল উদ্দিন (২৫)। পরিবারে অন্ধত্বের সংখ্যা দিন দিন বাড়ায় এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে তার।

দিনমজুর কামাল উদ্দিন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের পুটামারা গ্রামের বাসিন্দা। পিতা আব্দুন নূর (৭০) এখন আর চোখে দেখতে পান না। সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দুই সংসারে ১৪ জন (৬ ছেলে ও ৮ মেয়ে) সন্তানের মধ্যে ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে ইতোমধ্যে অন্ধত্বের শিকার হয়েছেন। তারা হচ্ছেন জামাল উদ্দিন (৩৫), দিলারা বেগম (৩০), সিতারা বেগম (২৫) ও মরিয়ম বেগম (২০)। সিতারা ও মরিয়ম বেগম অন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বামীর সংসারে ঠাই হয়নি। আর মরিয়ম বেগমের বিয়ের বয়স হলেও অন্ধত্বের কারণে বিয়ের আলাপ আসেনা। গত ৩০ মে পুটামারা গ্রামে সরজমিন গিয়ে এমন তথ্য জানা যায়।

দিনমজুর কামাল এ প্রতিবেদককে আরো জানান, তাদের বাপ-চাচারা ৭ ভাইবোন । তার মধ্যে বড় চাচা খুরশিদ আলী (৯০), তহুর আলী ও তার বাবা আব্দুন নূর অন্ধ হয়ে গেলেও চাচা ইসমাইল আলী, আব্দুল মুছব্বির ও জফর আলী এখনও চোখে দেখতে পান এবং সুস্থ্য আছেন।

13313657_10204995471485484_1705054889_o

কামাল উদ্দিনের একমাত্র ফুফু জয়তারা বেগম (৮০) বিয়ের কয়েক বছর পরে অন্ধ হয়ে যান। বর্তমানে জয়তারার ছেলে ঠান্ডা মিয়া, মেয়ে জবা বেগম (৩৫) ও রুশনা বেগমও (৩০) অজ্ঞাত কারণে অন্ধ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া জয়তারার স্বামী আম্বর আলীর বংশে এমন কোন ব্যাপার না থাকলেও জয়তারার সাথে বিয়ের পর তিনিও অন্ধ হয়ে যান।

কামাল উদ্দিনদের বাড়ির বর্তমান মুরব্বি তার চাচা খুরশিদ আলী। তিনি অন্ধ বেশ কয়েক বছর থেকে। তার স্ত্রী মরহুমা শুক্কুর বিবিও অন্ধ ছিলেন। তাদের সংসারে ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে। এই ৬ জনের মধ্যে বড় ছেলে আনসার মিয়া (৪০), দুদু মিয়া (৩৫) এবং তাদের বোন রিনা বেগম (২৫) ইতোমধ্যে অন্ধ হয়ে গেছেন। বাকি তিনজন ভালো আছেন।

আপনার পূর্ব পুরুষদের মধ্যে কেউ অন্ধ ছিলেন কি না জানতে চাইলে কামাল উদ্দিন জানান, তার দাদা মৃত আরজু মিয়া অন্ধ ছিলেন। তবে তারও পূর্বে কেউ অন্ধ ছিলেন কিনা তা তিনি জানে না। ঠিক কোন বয়সে পরিবারের সদস্যরা অন্ধ হয়ে পড়ছেন এমন প্রশ্নে কামাল বলেন, ”বয়সোর কোন ধরা নাই, কে যে কোন সময় অন্ধ অইবা কেউ জানিনা।”

111

কখনো সরকারের কাছ থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে কামাল উদ্দিন বলেন, ৬/৭ বছর আগে সাংবাদিকরা আইছলা, ফটু তুলিয়া নিছইন কিন্তু আইজ পর্যন্ত কোনো কাম অইছে না।

কামাল উদ্দিন শিশুসহ তার বংশধরকে ভবিষ্যতে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য চেরাগ আলীর সাথে কথা বললে, তিনি বলেন, ভাই আমি নতুন করিয়া এলাকার মেম্বার অইছি। তারার পরিবার সম্পর্কে আমি জানি। আমি তারারে (কামাল উদ্দিনের পরিবারকে) সাহায্য করার চেষ্টা করমু।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। আমাদের কাছে কেউ কখনো সাহায্যের ব্যাপারে আসেননি তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি যদি যোগাযোগ করে এবং সহযোগিতা চায় তাহলে যেসকল এনজিও কিংবা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কাজ করে আমি তাদের সাথে কথা বলে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় করবো।

ঠিক কি কারণে এমন ঘটনা ঐ পরিবারে ঘটছে বলে আপনি মনে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, আসলে একটি দুটি কারণে তো আর কেউ অন্ধ হয়ে যায় না। নানা কারণ থাকতে পারে। পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: